মন্ত্রী বলেছেন, আমরা আইন বাতিল করব না, আপনারা সুপ্রিম কোর্টে যান, জানালেন কৃষক নেতারা

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার সপ্তমবারের মতো কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীরা। কিন্তু তাতেও অধরা রইল সমাধানসূত্র। একটি সূত্রের খবর, সরকারের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু কৃষক ইউনিয়নগুলির প্রতিনিধিরা বলেন, তিনটি কৃষি আইন বাতিল করা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। দু’পক্ষ স্থির করেছে, ফের বৈঠকে বসা হবে ৮ জানুয়ারি।

কৃষকদের পক্ষে এদিন আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির নেতা সারোয়ান সিং। বৈঠকের পরে তিনি বলেন, কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকার আইন বাতিল করবে না। তিনি কৃষক নেতাদের বলেছেন, তাঁরা আইন বাতিলের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন।

এদিন একঘণ্টা আলোচনার পরে দু’পক্ষই একঘণ্টার বিরতি ঘোষণা করে। সেইসময় কৃষক প্রতিনিধিরা নিজেদের আনা খাবার খেয়েছেন। ষষ্ঠবারের বৈঠকের সময় কৃষিমন্ত্রী তোমর, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও ওই দফতরের প্রতিমন্ত্রী সোমপ্রকাশ কৃষকদের সঙ্গেই খেয়েছিলেন। এদিন দেখা যায়, তাঁরা আলাদা খাচ্ছেন। দু’ঘণ্টা বিরতির পরে ফের আলোচনা শুরু হয়।

কৃষিমন্ত্রী পরে জানান, এদিন বৈঠকের শুরুতে আন্দোলনের সময় যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের স্মরণে দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনে মারা গিয়েছেন ৬০ জন কৃষক। কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত বলেন, প্রতি ১৬ ঘণ্টায় একজন করে কৃষক মারা যাচ্ছেন। এই মৃত্যুর জন্য সরকার দায়ী।

গত ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লি সীমান্তে সিংঘু অঞ্চলে অবস্থান করছেন কৃষকরা। দিল্লির প্রবল ঠান্ডা এবং বৃষ্টিপাতেও তাঁরা আন্দোলন ছেড়ে যাননি। কৃষক প্রতিনিধিরা গত ৩০ ডিসেম্বর সরকারের সঙ্গে ষষ্ঠবারের মতো বৈঠকে বসেন। তার পরে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, কৃষকরা যে চারটি দাবি জানিয়েছিলেন, তার মধ্যে দু’টি নিয়ে সমঝোতা হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে আছে বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল প্রত্যাহার ও ক্ষেতে খড়কুটো পোড়ানো নিয়ে এয়ার কোয়ালিটি কমিশনের অর্ডিন্যান্সের কয়েকটি ধারা প্রত্যাহার। কিন্তু কৃষি আইন প্রত্যাহারই হল কৃষকদের মূল দাবি। তা নিয়ে দীর্ঘ এক মাস ধরে কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা কৃষি আইন বাতিল করতে প্রস্তুত হয়। তবে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিয়ে সরকার একটি কমিটি গড়তে রাজি হয়েছে।

এর মধ্যে স্বরাজ ইন্ডিয়ার প্রধান যোগেন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, সোমবারের বৈঠকে সরকার দাবি না মানলে তাঁরা আগামী সপ্তাহে শাহজাহানপুর থেকে দিল্লির উদ্দেশে ট্র্যাক্টর মিছিল করবেন। গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, কৃষকদের দাবিদাওয়া খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হোক।

গত কয়েকদিন ধরে শোনা গিয়েছে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় রিলায়েন্স জিও-র বেশ কয়েকটি মোবাইল টাওয়ার ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। তাদের ধারণা, রিলায়েন্স যাতে চুক্তিচাষ করতে পারে, সেজন্যই কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি কৃষি আইন করেছে। এবার টাওয়ার বাঁচানোর জন্য সোমবার আদালতের দ্বারস্থ হল রিলায়েন্স। তারা আদালতে জানায়, চুক্তিচাষের কোনও পরিকল্পনাই রিলায়েন্সের নেই।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.