আলোচনার সময় কৃষকদের আনা খাবারই ভাগ করে খেলেন দুই মন্ত্রী

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লি সীমান্তে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে বুধবার ষষ্ঠবারের মতো বৈঠকে বসেছেন মন্ত্রীরা। এদিন বৈঠকের ফাঁকে মন্ত্রীরা কৃষকদের লঙ্গর থেকে আনা খাবারই ভাগ করে খেলেন। কৃষক নেতারা বরাবরই সরকারের দেওয়া খাবার খেতে অস্বীকার করেছেন। তাঁরা নিজেদের লঙ্গর থেকে খাবার আনেন। এদিন বৈঠকের ফাঁকে লাঞ্চব্রেকের সময় দেখা যায়, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর এবং পীযূষ গয়াল সেই খাবারই কৃষক নেতাদের সঙ্গে ভাগ করে খাচ্ছেন।

এদিন বিজ্ঞান ভবনে কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মন্ত্রীরা। সেখানকার এক ভিডিও ছবিতে দেখা যায়, মন্ত্রীরা খাচ্ছেন লঙ্গর থেকে আনা ভাত, রুটি ও সবজি সেদ্ধ। সরকার আশা করছে বুধবারের বৈঠকেই কোনও সমাধান সূত্র বেরোতে পারে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সোমপ্রকাশ এদিন বৈঠকের আগে বলেন, আশা করা হচ্ছে, আজই একটা হেস্তনেস্ত হয়ে যাবে। এর আগে কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরও বলেছিলেন, আমরা আশা করি এবছরের শেষেই কৃষকবিক্ষোভ শান্ত হবে।

সোমপ্রকাশ এদিন বলেন, “সরকার চায়, কৃষকরা নিজেদের বাড়িতে, পরিবারের সঙ্গে নববর্ষের উৎসব করুন। আমরা তাঁদের সঙ্গে খোলা মনে আলোচনায় বসব। সরকার চায়, আন্দোলনকারীরা বাড়ি ফিরে যান। সেজন্য এই বিতর্কের সমাধান করা হবে।”

আন্দোলনরত কৃষকরা এখনও অত আশাবাদী নন। পাঞ্জাবের কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির নেতা সুখবিন্দর সিং সাবরা বলেন, “এর আগে পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে। আমাদের মনে হয় না, আজকের বৈঠকেই সমাধানসূত্র বেরোবে। নতুন তিনটি কৃষি আইন অবশ্যই বাতিল করতে হবে।”

গত মঙ্গলবার ৪০ টি কৃষক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার তরফে জানানো হয়, সরকারের প্রস্তাব মেনে তারা আলোচনায় বসতে রাজি। তবে তারা আইন প্রত্যাহারের দাবি থেকে কোনওভাবেই সরে আসতে রাজি নয়। গত সপ্তাহে মোর্চা সরকারের প্রস্তাব বাতিল করে দেয়। কৃষক নেতারা বলেন, “সরকার আমাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে না। আইন প্রত্যাহারের কথা আলোচ্যসূচিতে থাকা উচিত।” আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রক কৃষকদের উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। কৃষক নেতারা সেই চিঠিতে গুরুত্ব দিতে চাননি। তাঁরা বলেন, “সরকার কি আমাদের দাবির কথা জানে না?”

গত শুক্রবার কৃষি আইন নিয়ে বিরোধীদের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন আইনে কৃষকদের জমি কেড়ে নেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। শুক্রবারই মোদী প্রধানমন্ত্রী কিষাণ প্রকল্পে ১৮ হাজার কোটি টাকা দেন।

এর মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং কৃষকদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, এক বছরের জন্য নতুন আইনগুলি চালু হোক। তারপরে যদি কৃষকদের মনে হয় তাঁদের ক্ষতি হচ্ছে তাহলে আইনে সংশোধনী আনতে তৈরি সরকার।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.