বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে চমকে দিল দেবজ্যোতির ঋতুরঙ্গ

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এপার বাংলার বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী দেবজ্যোতি মিশ্র। ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পার্লামেন্ট ভবন আলোকিত হয়ে উঠেছিল বাংলাভাষার সুরে ছন্দে। সেই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান অতিথি ছিলেন এদেশের অন্যপ্তম জনপ্রিয় মিউজিক কম্পোজার দেবজ্যোতি মিশ্র। বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছর এবং মুজিববর্ষে উদযাপনের জন্য আমন্ত্রিত শিল্পী ছিলেন তিনি।বাংলাদেশ থেকে ফিরে এক ঐকান্তিক কথোপকথনে তিনি চৈতালি দত্তকে জানালেন নিজের অভিজ্ঞতার কথা। বললেন, ”বাংলা ভাষার শিল্পী হিসাবে এমন একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি সত্যিই আপ্লুত এবং গর্বিত। দুটি পর্বে ভাগ করা হয়েছিল অনুষ্ঠান। বাংলার ছয় ঋতুকে নিয়ে এমন এক অর্কেস্ট্রার আয়োজন সত্যিই অভিনব এবং ভিন্ন স্বাদেরও বটে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত অর্থাৎ বাংলার ছয় ঋতুকে নিয়েই ছিল আমার অনুষ্ঠান। এই ছয় ঋতুতে শব্দের যে অনুরণন, যা গ্রামবাংলাকে ধরে রাখে তা আমি লাইভ অর্কেস্ট্রার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বিরাট রঙিন মঞ্চে একসঙ্গে বারোটা দোতারা, ছটা এসরাজ, বাংলা ঢোল, বেহালা, চেলো বাজিয়েছি আমরা। সেই দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল যেন ‘বেঙ্গল সিক্স সিজনস’ কে সমগ্র পৃথিবী সেলিব্রেট করছে।”এই পর্বে দেবজ্যোতি মিশ্রর সঙ্গী ছিলেন দেড়শো জন কণ্ঠসংগীত ও যন্ত্রশিল্পী। দশ মিনিটের ঋতু নিয়ে এমন একটা লাইভ অর্কেস্ট্রার আয়োজন সত্যিই অভিনব। শব্দের সেই অপরূপ অনুরণনের সাক্ষী রইলেন বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমী মানুষেরা। কম্পোজিশনের ক্ষেত্রে লোকসংগীত থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, জসিমুদ্দিনের গান সব মিলিয়ে বাংলা গানের ভাণ্ডারে ঋতুবৈচিত্র্যকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল তা এককথায় অনন্য এবং নিবেদনের মূল আধার। শব্দের এফেক্টস আনতে বাঁশি, দোতারা একতারা, বাংলার ঢোল ইত্যাদি বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয়।এমন বর্ণময় মঞ্চানুষ্ঠান যা চোখে না দেখলে সত্যিই বিশ্বাস হয়না। অনুষ্ঠান আয়োজনের সামগ্রিক দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ সরকার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বিতীয় পর্বে ছিল বাংলার বিভিন্ন সময়ের কবিদের কবিতাপাঠ। মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিবর রহমানের ভাষা আন্দোলনের জায়গায় দাঁড়িয়ে কবিদের চোখে এই বাংলার প্রকৃতি ও পটভূমি যেভাবে ফুটে উঠেছে, তেমনই কিছু প্রাসঙ্গিক কবিতাপাঠের সঙ্গে ছিল লাইভ আবহ নির্মাণ। এই পর্বে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন কবি যেমন রবীন্দ্রনাথ, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, কাজী নজরুল ইসলাম, শামসুর রহমান ইলিয়াস, সৈয়দ শামসুল হক, কামাল চৌধুরী, নির্মলেন্দু গুণ, আনিসুল হক প্রমুখদের লেখা কবিতা পাঠ করেন বর্তমান সময়ের বাংলাদেশের কবি, আবৃত্তিকাররা। আর এই কবিতা পাঠের সঙ্গে এত বড় মাপের লাইভ অর্কেস্ট্রা নিঃসন্দেহে এক ভিন্ন স্বাদের প্রয়াস।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.