ড্রাইভারকে পিটিয়ে মেরেছে, গাড়ি জ্বালিয়েছে, আমি ছিলামই না সেখানে, সাফাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেরি পৌঁছতেই ইট, পাথরের বৃষ্টি হতে শুরু করে গাড়িতে। একটা আধলা ইট এসে লাগে চালকের মাথায়। রক্তাক্ত চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। পুলিশকে এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস। রবিবার লখিমপুরের (Lakhimpur) খেরিতে গাড়ি চাপা দিয়ে আট জন কৃষককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে রণক্ষত্র খেরি। আশিসের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগও দায়ের হতে চলেছে বলে খবর। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে আশিস দাবি করলেন, ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেনই না।

মিডিয়ার সামনে আশিস বলেছেন, তাঁদের কনভয় লখিমপুর পৌঁছনোর আগেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি ছিল সেখানে। বহু মানুষের জমায়েত ছিল। তাঁদের গাড়ি দেখেই পাথর ছুড়তে শুরু করে কয়েকজন। গাড়ি ঘিরে ফেলে তারা। ইট, পাথরের ঘায়ে গুরুতর জখম হন ড্রাইভার হরিওম মিশ্র। মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে তাঁর। স্টিয়ারিংয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। যারা পাথর ছুড়ছিল তাদের গিয়ে ধাক্কা মারে গাড়ি। আশিসের বক্তব্য, ওই দলে কৃষক সংগঠনের এক নেতাও ছিল বলে জানা গেছে। তাঁর মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই।

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর ছেলের দাবি, গাড়ির চালককে রক্তাক্ত অবস্থায় টেনে বের করে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি সে সময় গাড়িতে ছিলেন না, থাকলে তাঁরও এমন হাল করা হত বলে দাবি। এরপরেই নাকি গাড়ি জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। আশিসের অভিযোগ, তাঁদের দলের আরও তিন কর্মীকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।

ছেলে আশিস মিশ্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রও। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় সেখানে না কি উপস্থিতই ছিলেন না তাঁর ছেলে। গোটা বিষয়টিকেই ‘ষড়যন্ত্র’ বলেছেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, গাড়ির চালক যখন বাড়ি যাচ্ছিলেন, তখন কনভয়ে আন্দোলনকারীরা পাথর ছুড়লে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। সেই সময়ই দু’জন কৃষক তাঁর গাড়ির নীচে চাপা পড়েন। মৃতদের মধ্যে তাঁর দলের তিন কর্মীও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

গতকাল থেকেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি লখিমপুরে। ১৪৪ ধারা জারি করে সেখানে রাজনীতিকদের ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল রাতেই খবর পেয়ে লখিমপুর রওনা হন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। তবে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদককে হরগাঁওয়ে আটকে দেয় সীতাপুর পুলিশ। তিনি লখিমপুর যেতে পারেননি। কংগ্রেসের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে  দেখা যাচ্ছে, প্রিয়ঙ্কা অভিযোগ করছেন, জোর করে কোনও পরোয়ানা ছাড়াই তাঁকে আটকে রেখেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.