‘লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন’ মানসিকতা ছাড়তে হবে বাজেট তৈরিতে, বার্তা নবান্নর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরবর্তী অর্থবর্ষের জন্য বরাবরই আগের বছরের পুজোর আগে বাজেট তৈরির কাজ শুরু করার নির্দেশ দেয় রাজ্য অর্থ দফতর। এটা নতুন নয়। তবে সোমবার জারি করা বাজেট বিজ্ঞপ্তির তাৎপর্য হল, তাতে অনুচ্চারিত বার্তা হল, ‘লাগে টাকা, দেবে গৌরীসেন’ এই ভাবনা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে দফতরগলিকে। সরকারের আয় মাথায় রেখেই ব্যয়বরাদ্দ ঠিক করার পরামর্শ জোরালোভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে পরিস্কার করে বোঝানো হয়েছে, খুব প্রয়োজন ছাড়া খরচ করা যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সব দফতরকে ২০২২-২৩ আর্থিক বছরের বাজেট বরাদ্দ কী হবে তা ঠিক করে রাখতে এখনই।

উল্লেখ্য, রাজ্য বাজেটে বিভিন্ন দফতরের খরচের জন্য একটা আগাম বরাদ্দ ধরা হয়। সেই বাজেট বরাদ্দ থেকেই বিভিন্ন খরচ করে দফতরগুলি। কিছু ক্ষেত্রে কিছু দফতরে বরাদ্দ বাজেটের অতিরিক্ত খরচ হয়ে যায়। যদিও কোভিডের কারণে রাজ্যে কোষাগারে টান পড়তেই গত বছর থেকে খরচে রাশ টানে নবান্ন।

সোমবার রাজ্য অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে দুটি বিষয়ে বলা হয়েছে। প্রথম হল ২০২১-২২ আর্থিক বছরের জন্য ‘সংশোধিত বাজেট’ তৈরি করতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয়, ২০২২-২৩ আর্থিক বছরের জন্য এখন থেকেই ‘বাজেট এস্টিমেট’ তৈরি করতে বলা হয়েছে।

সরকারের আয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খরচ করার পদক্ষেপ এই প্রথম নয়, নবান্ন এর আগে একাধিক পদক্ষেপে বুঝিয়ে দিয়েছে হাত উপুড় করে খরচের দিন শেষ। খুব প্রয়োজন ছাড়া খরচ করতে পারবে না দফতর গুলি। এখানে বলে রাখা ভাল, মাস কয়েক আগেই অর্থ দফতর অন্যান্য সমস্ত দফতরকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, বিলাসিতা করার সুযোগ এখন নেই। গাড়ি কেনা, অফিস সাজানো, অন্যান্য জিনিস যা না কিনলেও চলে তা কিনে পয়সা নষ্ট করা যাবে না। কোনও বিল্ডিংয়ের সংস্কার বা সম্প্রসারণের বিষয়েও অর্থ দফতরের অনুমতি নিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল।

শুধু তাই নয় ইতিমধ্যেই পূর্ত দফতরের ঘোষিত বাজেটে কোপ পড়েছে। ওই দফতরের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, রাস্তা খারাপ হলে সারাইয়ের কাজ ও রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া কোনও কাজেই খুব প্রয়োজন ছাড়া টাকা খরচ করা যাবে না। এমনকি যতক্ষণ না দফতর নির্দেশ দেবে রাস্তা চওড়াও করা যাবে না।

অনেকের মতে, কোভিড পরিস্থিতিতে এমনিতেই রাজ্য সরকারের খরচ বেড়েছে। সেই তুলনায় আয়ও যথেষ্ট কমেছে। তার মধ্যেও রাজ্য সরকার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো প্রকল্প চালু করেছে। যেখানে সরকারের বার্ষিক খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে রাজকোষের অবস্থা যে খুব একটা স্বাস্থ্যকর নয় তা নবান্নের সাম্প্রতিক একাধিক পদক্ষেপে স্পষ্ট। এবার সেইকথা মাথায় রেখে দফতর গুলিকে বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বলল অর্থ দফতর।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More