লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বাড়ছে ভিড়, নবান্নের ভাণ্ডার বাড়ন্ত, দফতরগুলির বাজেটে কোপ

2

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারের (state govt) আর্থিক পরিস্থিতি টালমাটাল। এবার তার কোপ পড়ছে দফতরের বাজেটে (Budget)। হাত উপুড় করে খরচ করার টাকা যে সরকারের নেই তা নবান্নের (Nabanna) বিভাগীয় মন্ত্রী ও সচিবদের কাছে আগেই তা পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

আফগানিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয় খুলল, পর্দার আড়াল থেকে ক্লাস করলেন মেয়েরাও

সেই মত অর্থ দফতরের পরামর্শে দফতরগুলি তাদের বাজেট কাটছাট করতে শুরু করেছে। সাধারণত, নভেম্বর মাসে দফতরগুলি সংশোধিত বাজেট পেশ করে থাকে। তাতে গুরুত্বপূর্ণ দফতর গুলিকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয় কম গুরুত্বপূর্ণ দফতরের বরাদ্দ ছেঁটে।

এবার দু মাস আগে, সেপ্টেম্বরেই বাজেট বরাদ্দ কমছে। এমনকি পূর্তর মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতরের বাজেটও কাটছাঁট করা হচ্ছে। আছে আরও কয়েকটি দফতরও।

দিন কয়েক আগেই কয়েকজন মন্ত্রীকে লাগামছাড়া খরচ না করতে সতর্ক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, সরকারের আর্থিক অবস্থা এখন এমন নয় যে যথেচ্ছ খরচ করা যাবে। খরচে রাশ টানা দরকার। মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রীদের উদ্দেশে এও বলেছিলেন, আপনারা কেউ হুটহাট খরচ করবে না। যা দরকার আমাকে আগে জানাবেন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশকেই কার্যকর করতে বাজেটে কাটছাঁট শুরু করল দফতর গুলি।

নবান্ন সূত্রের খবর, করোনা ও লকডাউনের জেরে ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হয়নি। ফলে সরকারের রাজস্ব আদায় আশানুরূপ হচ্ছে না। তার উপর আমফান ও তিয়াসের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে রাজকোষ থেকে বিপুল টাকা খরচ করতে হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের ভাতার ভার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ভিড় উপচে পড়ছে। এতো মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে আসবেন, নবান্নের কর্তাদের ধারণায় ছিল না। সোমবার বিকেল পর্যন্ত দু কোটির বেশি মহিলা এই প্রকল্পে নাম লিখিয়েছেন। শুধু এই প্রকল্পেই প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। এখন অনুমান করা হচ্ছে, খরচ বেড়ে হবে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা, যা পূর্তর মত আরো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মোট বাজেট বরাদ্দের সমান। এছাড়া একগুচ্ছ পেনশন প্রকল্প তো আছেই।

পূর্ত দফতরের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাস্তা খারাপ হলে সারাইয়ের কাজ ও রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া কোনও কাজেই খুব প্রয়োজন ছাড়া টাকা খরচ করা যাবে না। এমনকি যতক্ষণ না দফতর নির্দেশ দেবে রাস্তা চওড়া করার কাজেই হাত লাগানো যাবে না।

পূর্ত দফতরের এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সাউথ জোনে পূর্ত দফতরের অধীনে থাকা রাস্তার কাজের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরের রাজ্য উন্নয়ন তহবিলের (SDF) বাজেট ১৪০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

এই বিষয়ে পূর্ত দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ২০২১-২২ আর্থিক বছরে বাজেট ১৪০ কোটি টাকার মধ্যে রাখতে বলা মানে আর্থিক বছরের প্রায় ৬০ শতাংশ বাজেট কাটছাঁট করল দফতর।

সূত্রের খবর, সাউথ জোনে রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতরের অধীনে থাকা রাস্তা গুলির সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য চলতি আর্থিক বছরে প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সেই অর্থ কমিয়ে করা হয়েছে ১৪০ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে পূর্তমন্ত্রী মলয় ঘটককেই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বড় খরচ করার আগে যেন তাঁকে দেখিয়ে নেওয়া হয়। অর্থাৎ চাইলেই উড়ালপুল কিংবা রাস্তা তৈরি ও সম্প্রসারণ ইত্যাদির জন্য দুমদাম কোটি কোটি টাকা খরচ করা যাবে না। তা যদি করতেও হয় তা মুখ্যমন্ত্রীর গোচরে এনেই করতে হবে। ফলত, মুখ্যমন্ত্রীর কথা মতোই পূর্ত দফতরের এই নির্দেশিকা বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু পূর্ত দফতর নয়, সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর, জনস্বাস্থ্যকল্যাণ দফতরের মতো একাধিক দফতরও ২০২১-২২ আর্থিক বছরের বাজেট কাটছাঁটের পথে যেতে পারে।

এখানে বলে রাখা ভাল, মাস কয়েক আগেই অর্থ দফতর সব দফতরকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, বিলাসিতা করার সুযোগ এখন নেই। গাড়ি কেনা, অফিস সাজানো, অন্যান্য জিনিস যা না কিনলেও চলে তা কিনে পয়সা নষ্ট করা যাবে না। কোনও বিল্ডিংয়ের সংস্কার বা সম্প্রসারণের বিষয়েও অর্থ দফতরের অনুমতি নিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল।

পর্যবেক্ষকদের মতে, কোভিড পরিস্থিতিতে এমনিতেই রাজ্য সরকারের খরচ বেড়েছে। সেই তুলনায় আয়ও যথেষ্ট কমেছে। তার মধ্যেও রাজ্য সরকার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো প্রকল্প চালু করেছে। যেখানে সরকারের বার্ষিক খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ের জায়গাগুলিও সংকুচিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজকোষের অবস্থা যে খুব একটা স্বাস্থ্যকর নয় তা মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু কথাতেই স্পষ্ট। সেই কারণেই হয়তো এবার দফতরের বাজেটেও কোপ পড়ছে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.