পৃথিবীকে বিপদ থেকে বাঁচাতে উদ্যোগ, মহাকাশে গ্রহাণুর গতিপথ বদলে দেওয়ার জন্য যান পাঠাল নাসা

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৩ সালে একটা বিরাট বিপদ ঘটেছিল রাশিয়ায়। তারপর থেকেই সতর্ক হয়েছে নাসা (NASA)।

ওই বছরের এক শীতের সকালে রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্ক শহরে আছড়ে পড়েছিল এক উল্কা। তার আয়তন ছিল চারতলা বাড়ির সমান। উল্কার আঘাতে আহত হন ১৬০০ জন। বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির ক্ষতি হয়। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করেন, এর পরে হয়তো আরও বিরাট কোনও গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করবে। মহাকাশে বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক গ্রহাণু আছে। তার কোনও একটি যে পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে না, তার কোনও প্রমাণ নেই। আদিম যুগে সম্ভবত এমন কোনও গ্রহাণুর আঘাতেই পৃথিবী থেকে ডাইনোসররা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

গত ২৩ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে একটি স্পেস এক্স রকেট পাঠিয়েছে নাসা। ১০ মাস পরে রকেট একটি বাইনারি গ্রহাণুকে আঘাত করবে। এই বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ডাবল অ্যাস্টরয়েড রি ডায়রেকশন টেস্ট। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন যাতে গ্রহাণুকে রকেট দিয়ে আঘাত করে তাকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আগামী দিনে কোনও গ্রহাণু যদি পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে, তাহলে তাকে এভাবেই রকেটের আঘাত করে সরিয়ে দেওয়া হবে।

নাসা মনে করে, কোনও গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসার আগে যদি যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়, তাহলে শক্তিপ্রয়োগ করে তাকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে রক্ষা পাবে পৃথিবীর জীবজগৎ। নাসার প্ল্যানেটরি ডিফেন্স অফিসার লিন্ডসে জনসন বলেন, ডাবল অ্যাস্টরয়েড রি ডায়রেকশন টেস্টের মাধ্যমে বোঝা যাবে, আগামী দিনে যদি পৃথিবীর বিপদ ঘটে, তা ঠেকানোর মতো প্রযুক্তি আমাদের আছে।

আগামী বছরের সেপ্টেম্বর মাসে একটি বাইনারি অ্যাস্টরয়েডকে আঘাত করবে নাসার রকেট। বাইনারি অ্যাস্টরয়েডের মধ্যে আছে দু’টি গ্রহাণু। একটির নাম ডাইমরফস। তার দৈর্ঘ্য ৫৩০ ফুট। তার সঙ্গে যুক্ত আছে ডাইডিমস নামে আরও একটি গ্রহাণু। তার দৈর্ঘ্য ২৬০০ ফুট।

নাসা থেকে যে মহাকাশযানটি পাঠানো হয়েছে তার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫ হাজার মাইল। তার ওজন ১৩৪৪ পাউন্ড। ওই মহাকাশযান ধাক্কা দেবে ডাইমরফসকে। ফলে কয়েক সেকেন্ড কমে যাবে গ্রহাণুর গতিবেগ। তার গতিপথ বদলে যাবে।

জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স ল্যাবরেটরির পক্ষ থেকে অ্যান্ডি চেং বলেন, ঠিক কী পরিমাণ গতিতে গ্রহাণুকে ধাক্কা মারলে তার গতিপথ বদলে যায়, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ২৫ বছর আগে বিজ্ঞানীরা ডাইডিমসের সন্ধান পান। তার গতিপথ যথেষ্ট ভালভাবে লক্ষ করা গিয়েছে। আগামী দিনে ওই গ্রহাণু পৃথিবীকে আঘাত করবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন না। তবে তার গতিপথ পৃথিবীর যথেষ্ট কাছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.