শোকতপ্ত রাহুল, তারুর, বিজয়ন, স্ট্যান স্বামীর মৃত্যুতে আওয়াজ উঠছে বিদেশ থেকেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলে জামিনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কিন্তু অপেক্ষা আর ফুরলো না। তার আগে ফুরিয়ে গেল জীবনটাই। ৮৪ বছর বয়সে মারা গেলেন এলগার পরিষদ-মাওবাদী যোগসাজশ মামলায় অভিযুক্ত জেস্যুইট যাজক তথা সমাজকর্মী স্ট্যান স্বামী। তাঁর এই মৃত্যুর খবর শুনে গর্জে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশ।

ইনস্টাগ্রাম, টুইটারে প্রচুর মানুষ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। দাবি, মিথ্যা মামলায় অযথা বয়স্ক মানুষটাকে আটকে রাখা হয়েছিল। একাধিক বার তিনি জেলে দুর্ব্যবহার, চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন।কিন্তু তাঁর কথায় কানই দেওয়া হয়নি। মুক্তি পাওয়ার আগেই বিদায় নিলেন স্ট্যান স্বামী।

শুধু দেশের মানুষ নন, স্ট্যান স্বামীর মৃত্যুতে প্রতিবাদ ভেসে এসেছে বিদেশ থেকেও। ইউরোপীয়ন ইউনিয়নের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি এয়ামন গিলমোর বলেছেন, ভারতে স্ট্যান স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে আমি খুবই দুঃখিত। মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করেছেন তিনি। ৯ মাস ধরে তাঁকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর আকর্ষণ করার জন্য বহুবার চেষ্টা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সুরক্ষার বিশেষ আধিকারিক মেরি ললর বলেছেন, আজ ভারত থেকে যে খবর এসেছে তা সাংঘাতিক। জেলেই মারা গেছেন ফাদার স্ট্যান স্বামী। মিথ্যা সন্ত্রাসের অভিযোগে আটকে রাখা হয়েছিল তাঁকে। এই অপরাধের ক্ষমা নেই।

স্ট্যান স্বামী ও অন্যান্যদের গ্রেফতারি নিয়ে গত জানুয়ারিতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশন। তবে কারও নাম তখন নেওয়া হয়নি।

স্ট্যান স্বামীর মৃত্যুর পর সরব হয়েছেন দেশের রাজনৈতিক নেতারাও। রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন শোক প্রকাশ করেছেন। শোকতপ্ত প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, শশী তারুররাও। আরও একবার সুর চড়িয়েছেন এই গ্রেফতারি নিয়ে।

রাঁচি থেকে গত বছর ৮ অক্টোবর স্বামীকে গ্রেফতার করা হয় মাওবাদী যোগসাজশের অভিযোগে। তালোজা সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়েছিল তাঁকে। হাইকোর্টের নির্দেশেই তাঁকে গত ৩০ মে হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছিলেন আইসিইউতে। শ্বাসকষ্ট শুরু হয় গতকাল। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রাও ওঠানামা  করতে থাকে বলে জানিয়েছেন স্বামীর আইনজীবী মিহির দেশাই। গতকাল মাঝরাতে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি কোভিড পরবর্তী জটিলতার ফলে এটা হতে পারে বলে দেশাইয়ের অভিমত। স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টরের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে আগের কয়েকটি শুনানিতে আদালত বড় ধরনের মেডিকেল সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More