স্পুটনিক লাইট আসছে দেশে, এক ডোজের রুশ টিকার চূড়ান্ত পর্বের টেস্টিং চলছে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার তৈরি ডবল ডোজের স্পুটনিক (Sputnik) ভ্যাকসিনের পরে স্পুটনিক লাইট অনুমতির অপেক্ষায়। ট্রায়াল শুরু হয়েছিল সেই জুনের শেষ থেকে। এখন টেস্টিং ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলের পরীক্ষা চলছে। চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষায় পাশ করে গেলে ড্রাগ কন্ট্রোলের ছাড়পত্রও পেয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অধীনস্থ সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটি (এসইসি) জানিয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি সিঙ্গল ডোজ ভ্যাকসিন স্পুটনিক লাইট (Sputnik Light) নিয়ে আসা হবে দেশে। টিকার জোগানও বাড়বে আর দুটি ডোজের জন্য অপেক্ষা করার ঝামেলা থাকবে না।

রাশিয়ার গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তৈরি স্পুটনিক ভ্যাকসিন ইতিমধ্যেই ছাড়পত্র পেয়ে গেছে দেশে। স্পুটনিক হল দুটি ডোজের টিকা। এই ভ্যাকসিনেরই সিঙ্গল শট ডোজ হল স্পুটনিক লাইট। এখন এমনিতেও সিঙ্গল শট ভ্যাকসিনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, কারণ কোভিড থেকে দ্রুত সুরক্ষার জন্য টিকাকরণের গতি আরও বাড়াতে হবে। দুটি ডোজ নেওয়ার জন্য লম্বা সময়ের ব্যবধান ঘোচাতে একটাই ডোজ কার্যকরী করার দিকে ঝুঁকছেন ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞরা। এতে সময়ও কমবে এবং বিপুল উৎপাদনের খরচেও রাশ টানা যাবে। জনসন অ্যান্ড জনসনের সিঙ্গল ডোজ ভ্যাকসিন দেশে চলে আসবে খুব তাড়াতাড়ি, এর পরে স্পুটনিক লাইটও অনুমতির অপেক্ষায়।

 

স্পুটনিক লাইট ভ্যাকসিন কীভাবে তৈরি হয়েছে?

স্পুটনিক লাইট ভ্যাকসিনও তৈরি করেছে রুশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি। স্পুটনিক ভি টিকা যে ফর্মুলায় তৈরি এটিও অনেকটা তেমনই। দেশে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে প্যানাসিয়া বায়োটেক। হায়দরাবাদের ডক্টর রেড্ডিস ল্যাবরেটরির তত্ত্বাবধানে স্পুটনিট লাইটের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়েছিল ৩০ জুন থেকে।

স্পুটনিক ভি টিকার মতোই অ্যাডেনোভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে এই টিকা তৈরি হয়েছে। স্পুটনিক ভি-তে যেমন দু’রকম অ্যাডেনোভাইরাস (মামুলি সর্দি-কাশির ভাইরাস, কম সংক্রামক) এডি২৬ (AD26) ও এডি৫ (AD5) দিয়ে ভেক্টর ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে, স্পুটনিক লাইটে একটিমাত্র অ্যাডেনোভাইরাসকে (এডি২৬) ভেক্টর হিসেবে নেওয়া হয়েছে। অ্যাডেনোভাইরাসের ডিএনএ-র সঙ্গে করোনার স্পাইক প্রোটিনের টুকরো বিশেষভাবে মিশিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। কাজ একই রকম, অ্যাডেনোভাইরাস আর করোনার স্পাইক মিলে যে ভ্যাকসিন ডিজাইন করা হয়েছে তার কাজ দুটো—প্রথমত শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করা, দ্বিতীয়ত—অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ করা।

ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, এই টিকা রেফ্রিজারেটরের সাধারণ ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩৬-৪৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রাতেই সংরক্ষণ করা যাবে। খুব ঠান্ডার দরকার পড়বে না। এই টিকা ৭৯.৪ শতাংশ কার্যকরী বলে দাবি করেছে রুশ কোম্পানি। টিকার এফিকেসিও ৮০ শতাংশের কাছাকাছি।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More