আত্মঘাতী হামলার ছক ছিল লখনৌতে ধৃত দুই আল কায়দা জঙ্গির, পাকিস্তান থেকে ঢুকেছিল ভারতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাধীনতা দিবসের আগে উত্তরপ্রদেশের একাধিক বড় শহরে আত্মঘাতী হামলার ছক ছিল দুই আল কায়দা জঙ্গির। গোয়েন্দা সূত্রে খবর মিলেছে এমনটাই। পাকিস্তানের পেশোয়ার হয়ে ভারতে ঢুকেছিল তারা। তদন্তকারীরা আরও বলছেন, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের বেশ কিছু শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনাও ছিল জঙ্গিদের। তবে নাশকতার ছক বানচাল হয়ে যায় উত্তরপ্রদেশের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড তথা এটিএসের তৎপরতায়।

রবিবার দুপুরে লখনৌয়ের কাকোরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই জঙ্গিকে পাকড়াও করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা। ধৃতদের নাম মিনাজ আহমেদ ও মাসিরুদ্দিন ওরফে মুশির। এটিএসের আইজি জিকে গোস্বামীর নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানায়, এই জঙ্গিদের যোগসূত্র রয়েছে আল কায়দার সঙ্গে। আল কায়দার মদতপুষ্ট আনসার ঘাজওয়াত-উল-হিন্দ সংগঠনের দুই সক্রিয় হ্যান্ডলার এই মিনাজ ও মুশির।

উত্তরপ্রদেশের এটিএস জানাচ্ছে, ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের আগে লখনৌ ও উত্তরপ্রদেশের বড় শহরগুলিতে ফিদায়েঁ বা আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার ছক কষা হয়েছিল। বিশেষ করে ঐতিহাসিক স্থান, বাজার ও লোকালয়গুলিতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য শক্তিশালী বিস্ফোরক জমা করছিল এই জঙ্গিরা। মথুরা ও কাশীতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্রও ছিল বলে অনুমান। জঙ্গিদের কাছ থেকে ২টি প্রেসার কুকার বোম, বিদেশি কোম্পানির তৈরি পিস্তল, টাইম বোম, ৬-৭ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, এই মিনাজ আহমেদ ও মাসিরুদ্দিন আল কায়দা ইউনিটের দুই সক্রিয় সদস্য। তাদের আরও কিছু হ্যান্ডলার কানপুর ও লখনৌতে ছড়িয়ে আছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ধৃতদের জেরা করে খোঁজ শুরু হয়েছে। এই জঙ্গিদের লখনৌতে আশ্রয় দিয়েছিল সেখানকারই স্থানীয় কয়েকজন। কাকোরি এলাকার তিনটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এই জঙ্গিদের খোঁজ মিলেছে। এদের মধ্যে মাসিরুদ্দিন বা মুশির বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। হামলার ষড়যন্ত্র ছিল তারই।

ফরিদপুর দুবাগ্গা এলাকার যে বাড়িগুলিতে গা ঢাকা দিয়েছিল জঙ্গিরা সেখানকার তিন বাসিন্দাকে পাকড়াও করা হয়েছে। এদের নাম শাহিদ, সিরাজ ও রিয়াজ। পুলিশ। দুই আল কায়দা জঙ্গিকে বাড়ির কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে তা জানতে ড্রিল মেশিন দিয়ে বেসমেন্টও খোঁড়া হয়। বাড়িতে গোপন সুড়ঙ্গের হদিশও পায় পুলিশ।

তদন্তকারীরা বলছেন, শাহিদ আগে সৌদি আরবে থাকত। গত পাঁচ বছর ধরে সেখানেই ঘাঁটি গেড়েছিল। আল কায়দা ও পাকিস্তানের আল-উল হ্যান্ডলারদের সঙ্গে টেলিগ্রামে যোগাযোগ রাখত। সম্প্রতি দেশে ফিরেছিল সে। অন্যদিকে রিয়াজ ও সিরাজ উত্তরপ্রদেশ সরকারের দুই কর্মচারী। গোপনে জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলেই অনুমান পুলিশের। জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গেও ধৃতদের যোগসূত্র রয়েছে। এই জাল কতটা ছড়িয়েছে তার খোঁজ শুরু হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More