আন্দোলন ঘিরে সরকার ও কৃষকদের ‘চূড়ান্ত সংযম’ পালনের বার্তা রাষ্ট্রসংঘের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক দুনিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হল ভারতের কৃষক আন্দোলন। ব্রিটেন থেকে শুরু করে আমেরিকা, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের মত জানিয়েছে তারা। এমনকি রিহানা, গ্রেটা থুনবার্গদের টুইট ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ভারতের তরফে সরকার থেকে শুরু করে সেলিব্রিটিদের একাংশ এই বিষয়কে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই বিষয়ে বাইরের কারও মতামতের কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ঘটনার পরে কেন্দ্রীয় সরকার ও কৃষকদের উভয়কেই চূড়ান্ত সংযম পালনের বার্তা দিল রাষ্ট্রসংঘ।

অফিস অফ দ্য ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস বা ওএইচসিএইচআর-এর তরফে টুইট করে বলা হয়েছে, “আমরা সরকার ও বিক্ষোভকারীদের চূড়ান্ত সংযম পালন করার কথা জানাচ্ছি। শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের বক্তব্য প্রকাশ করতে কোনও সমস্যা নেই। মানবাধিকার বজায় রেখে একটি সমাধানে আসা খুবই জরুরি।”

দু’মাসের বেশি সময় ধরে দিল্লি সীমান্তে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার কয়েক মাস আগেই তিনটি কৃষি আইন পাশ করেছে। এই আইনগুলিকে কৃষকবিরোধী আখ্যা দিয়ে শুরু হয়েছে এই আন্দোলন। তাঁদের দাবি, এই আইনগুলি প্রত্যাহার করতে হবে সরকারকে।

ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের সঙ্গে ১০ বারের বেশি বৈঠক করেছে ৪০টি কৃষক সংগঠন। কিন্তু তারপরেও কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি। কেন্দ্রের বক্তব্য, কৃষকদের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই এই আইন নিয়ে আসা হয়েছে। বিরোধীরা তাদের ভুল বোঝাচ্ছে। অবশ্য বিক্ষোভের মধ্যে আইনে কিছু পরিবর্তনেও রাজি হয়েছে সরকার। কিন্তু আইন প্রত্যাহার করার নিজেদের দাবি থেকে সরে আসতে নারাজ কৃষকরা।

কেন্দ্রের এই আইনের উপরে অবশ্য স্থগিতাদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তারা একটি কমিটি গড়ে দিয়েছে। কৃষক ও সরকারের সঙ্গে কথা বলে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা এই কমিটির। কিন্তু সেই কমিটির সঙ্গে কথা বলতেও অস্বীকার করেছেন কৃষকরা।

প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন দিল্লিতে কৃষকদের ট্র্যাক্টর র‍্যালি উপলক্ষ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তাতে একজন কৃষকের প্রাণহানি ও অনেকে আহত হয়েছেন। ৩০০-র বেশি পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। সেই ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতেই ‘চাক্কা জ্যাম’ কর্মসূচি নিয়েছিল কৃষকরা। কিন্তু তা বাতিল করা হয়েছে।

কৃষকদের এই বিক্ষোভ ঘিরে মার্কিন পপ তারকা রিহানা ও জলবায়ু রক্ষা নিয়ে আন্দোলনকারী কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গের টুইটের পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কঙ্গনা রানাওয়াত তো বটেই শচীন তেণ্ডুলকর থেকে শুরু করে অক্ষয় কুমার, সবাই একই সুরে টুইট করেছেন। তাঁদের বক্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের কারও মন্তব্য করার কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু রাষ্ট্রসংঘ মন্তব্য করল। দু’পক্ষকেই সংযম পালনের বার্তা দিল তারা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More