অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু? জানা নেই সরকারের, সংসদে অবাক করা জবাব স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু কোনো খবর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নেই। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় দেশের অক্সিজেন সঙ্কট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এমনই দায়সারা উত্তর দিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ভারতী প্রবীণ পাওয়ার।
তিনি এও জানালেন, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর কোনও খবরই আসেনি কেন্দ্রের কাছে।

কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউতে অক্সিজেনের অভাব সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয়। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ সহ বেশ কিছু রাজ্যে মেডিক্যাল অক্সিজেনের অভাবে বহু করোনা রোগীর মৃত্যুর খবর সামনে আসে। এই প্রসঙ্গে এদিন রাজ্যসভায় প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল।

তাঁর প্রশ্ন ছিল, কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হতেই হাসপাতালে, রাস্তাঘাটে অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকতে ধুঁকতে করোনা রোগীদের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিক্রিয়া কী?

এই প্রশ্নের জবাবে শুরুতেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য হল রাজ্যের তালিকাভুক্ত বিষয়। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর রিপোর্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিই জানায় কেন্দ্রীয় সরকারকে। কিন্তু অক্সিজেনের অভাবে কোভিড রোগীর মৃত্যু হয়েছে, খাতায় কলমে এমন কোনও রিপোর্ট কেন্দ্রের কাছে আসেনি।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ভারতী প্রবীণ এও বলেন, কোভিডের প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় দ্বিতীয় ঢেউতে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়েছিল এ কথা সঠিক। প্রথম ঢেউতে মেডিক্যাল অক্সিজেনের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৩ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন, সেখানে দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে হয় ৯ হাজার মেট্রিক টন। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যেগুলির সঙ্গে কথা বলেই প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করেছিল বলে জানান তিনি।

এরপরে কংগ্রেস সাংসদ প্রশ্ন রাখেন, কোভিডের তৃতীয় ঢেউতে অক্সিজেনের চাহিদা এভাবে বাড়লে তার জন্য কী কী প্রস্তুতি রেখেছে কেন্দ্র। জবাবে ভারতী বলেন, এখন থেকেই সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরি করে রাখা হয়েছে। কতটা তরল অক্সিজেন দরকার পড়তে পারে, তার জন্য কী পরিমাণ উৎপাদন করতে হবে, সব ব্যবস্থাই করা আছে। বেশ কয়েকটি মন্ত্রক একসঙ্গে কাজ করে তালিকা তৈরি করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে অক্সিজেন সঙ্কট নিয়ে তোলপাড় হয় দেশ। দিল্লিতে অক্সিজেন অভাবে হাসপাতালগুলিতে একের পর এক মৃত্যুর খবর শোনা যায়।

অক্সিজেনের জোগান বাড়ানোর জন্য দিল্লি সরকারের সঙ্গে আইনি টানাপড়েন শুরু হয়ে যায় কেন্দ্রের। পরিস্থিতি এতটাই দুর্বিষহ হয়ে ওঠে যে, মামলা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট অবধি গড়ায়। অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে গাফিলতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করে দিল্লি হাইকোর্ট। অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি এবং তার জন্য রোগী মৃত্যুকে অমার্জনীয় অপরাধ বলে মন্তব্য করেন হাইকোর্টের বিচারপতিরা। এমনকি রাজধানীতে অক্সিজেনের ঘাটতি মেটানোর জন্য খুব দ্রুত কেন্দ্রকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

এরই পাশাপাশি, রাজ্যগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও ওঠে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অক্সিজেন জোগান নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ তোলে রাজস্থান, মহারাষ্ট্রের মতো বিরোধী দল শাসিত রাজ্যগুলি।

অভিযোগ ওঠে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন জোগানের আশ্বাস দিলেও বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলি বঞ্চিত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গেও বরাদ্দের চেয়ে কম অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়েছে বলে গলা চড়ান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দেশজুড়ে অক্সিজেনের অভাব নিয়ে এত বড় গোলযোগের পরেও এদিন রাজ্যসভায় আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দায়সারা উত্তর দিয়ে বিষয়টির গুরুত্ব আরও লঘু করে দেওয়া হল বলেই মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এমন উত্তর দিয়েছেন যার সঙ্গে বাস্তবের ঘটনাগুলোর কোনও মিলই নেই। শুধু তাই নয়, এদিন সংসদে দেশের কোভিড পরিস্থিতি ও ভ্যাকসিনের জোগান নিয়েও দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন নতুন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ এল মান্দাভিয়া। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে কোনও রকম রাজনীতি করা হচ্ছে না। তাঁর কাছে খবর আছে, সমস্ত রাজ্যের কাছেই পর্যাপ্ত পরিমাণে কোভিড ভ্যাকসিন আছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে কথা বলেই বরাদ্দ মাফিক ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More