কোভিড বিধি ভেঙে জনতাকে বিপদে ফেলছেন ওঁরাই, রাজনৈতিক নেতাদের দুষলেন তেলঙ্গানার আমলা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি আমলারা রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীদের কর্তৃত্ব মেনে চলেন, এটাই ভারতবর্ষের অঘোষিত নিয়ম। তবে ব্যতিক্রমও হয় কখনও কখনও। যেমন করতে দেখা গেল তেলঙ্গানার জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ডিরেক্টর জি শ্রীনিবাস রাওকে। রাজনৈতিক দলমত  নির্বিশেষে তিনি দুুষেছেন রাজ্যের নেতাদের। তেলঙ্গানায় করোনা মহামারী মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন অনেকেই। এবার তিনি সোজা কথা বলে দিলেন সোজা ভাবেই। বললেন, রাজনৈতিক নেতারাই কোভিড আচরণবিধি ভেঙে মানুষের জীবন বিপন্ন করে তুলছেন, মহামারী রোধে রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা যে সাফল্য পেয়েছেন, তা জলাঞ্জলি দিচ্ছেন। রাজনৈতিক নেতারা ভাবেন, গণতন্ত্রে তাঁরা  তাঁদের কাজ করছেন, কিন্তু কোভিড আচরণবিধি, বিধিনিষেধ না মেনে দলীয় কর্মী, সমর্থক, আমজনতাকে বিপদে ফেলছেন।

রাও বলেছেন, রাজ্যে নির্বাচনের এখনও আড়াই বছর বাকি, কিন্তু সব দলের নেতারাই এমন আচরণ করছেন, যেন নির্বাচন রাত পোহালেই। তাঁরা মিছিল, মিটিং করছেন, ধরনায় বসছেন, বিরোধী নেতারাও বাদ নেই। মাথাই ঘামাচ্ছেন না। এটা কোভিড ১৯ এর তৃতীয় ঢেউকে সাদরে ডেকে আনার সামিল। কোনও নেতা দলীয় সভায়, জনসভায়, সমাবেশে মাস্ক পরছেন না। এইসব রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সামাজিক দূরত্ববিধিরও কোনও বালাই নেই। তাঁদের চারপাশের লোকজনের কথা  মাথায় রাখা উচিত। কোভিড ১৯ কিন্তু ফের আস্তে আস্তে ফের মাথাচাড়া দেওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এটা ভেবে দেখুন তাঁরা। তাঁরা, তাঁদের সমর্থকরা মাস্ক না পরে, দূরত্ববিধি না মেনে অন্যদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন।

রাও আরও বলেন, কোভিডের প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর স্বাস্থ্যকর্মীরা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে  যুক্ত সকলে, পুলিশ, সরকারি কর্তারা, যাঁরা দিনরাত এক করে কাজ করেছেন,  ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। গোটা সিস্টেমটা অবসাদগ্রস্ত। আবার সচল  হতে তাঁদের বিশ্রাম দরকার।   রাজনৈতিক নেতারা এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করে গেলে ভাইরাস সংক্রমণ রোধে যে সাফল্য অর্জিত হয়েছিল, তা বিফলে যাবে।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কংগ্রেস ধরনা, মিছিল করছে, বিজেপি জনসভা করছে টিআরএস সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সহ নানা অভিযোগে। হুজুরাবাদ কেন্দ্রে, যেখানে উপনির্বাচন আসন্ন, স্থানীয় টিআরএস নেতারা জনসভা, মিছিল করছেন।

ভ্যাকসিনেশন প্রসঙ্গে রাও বলেন, তেলঙ্গানায় ভ্যাকসিন  নেওয়ায় দ্বিধা, সংশয় খুব বেশি,  তবুও প্রায় দেড় কোটি লোককে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছি। আরও সাড়ে চার লাখ ডোজ আসছে। ফের ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু হবে।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More