করোনায় শিশুদের এত ভয় নেই, হাসপাতালে ভর্তি ৬০-৭০ শতাংশেরই অন্য অসুখ ছিল: এইমস প্রধান

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার তৃতীয় ঢেউ এলে শিশুরাই যে বেশি আক্রান্ত হবে এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। কাজেই চিন্তার এত কারণ নেই বলেই আশ্বাস দিলেন দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এর প্রধান ডক্টর রণদীপ গুলেরিয়া। এইমস প্রধানের বক্তব্য, শিশুদের শরীরে কোভিড সংক্রমণের কারমে কোনও জটিল অসুখ দেখা যায়নি। বেশিরভাগেরই সংক্রমণ মৃদু। যেসব শিশুদের সংক্রমণজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল তাদের কোমর্বিডিটি ছিল বলেই দাবি করেছেন তিনি।

এইমস প্রধান গুলেরিয়া বলছেন, কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আসার আগেই শিশু ও কমবয়সীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় বেশিমাত্রায় চেপে বসেছে। শিশুরাই হাই-রিস্ক গ্রুপে আছে এমন খবর ছড়াচ্ছে চারদিকে। কিন্তু এতটাও উদ্বেগের কারণ নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এখনও এমন কোনও তথ্য প্রমাণ দেখাতে পারেননি যাতে এই সম্ভাবনা জোরদার হয়। বরং বরাবরই বলা হয়েছে, শিশুদের শরীরে করোনা সংক্রমণ তেমন বড় প্রভাব ফেলবে না। বড়জোড় জ্বর, সর্দি-কাশি, পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা গেলেও তা চিকিৎসায় দ্রুত সেরে যাবে।

করোনা সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে যে শিশুদের তাদের ৬০-৭০ শতাংশের মধ্যেই কোমর্বিডিটি ছিল বলে দাবি করেছেন গুলেরিয়া। তাঁর বক্তব্য, যে শিশুদের জটিল রোগ দেখা গেছে তাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই কম ছিল। অনেকের আবার অন্যান্য অসুখও ছিল। ক্যানসার থেরাপি চলছিল এমন শিশুরাও কোভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

গুলেরিয়া বলছেন, কোভিডের প্রথম ঢেউতে প্রবীণদের মধ্যেই সংক্রমণ বেশি দেখা গেছে। দ্বিতীয় ঢেউতে কমবয়সীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ালেও সে সংখ্যা কম। তৃতীয় ঢেউ মারাত্মক হবে এমন সম্ভাবনাও নেই। বরং ইনফ্লুয়েঞ্জা ও সোয়াইন ফ্লুয়ের সময় দেখা গিয়েছিল, প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ যতটা প্রবল হয়ে আছড়ে পড়েছিল, তৃতীয় ঢেউ ততটা নয়। আসলে ভাইরাসের চরিত্র সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে। প্রথম দিকে যতবেশি মিউটেশন বা জিনের বদল হয়, পরের দিকে তা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশ্বজুড়ে এখনও অবধি যতরকম মহামারী দেখা গিয়েছে, সবক্ষেত্রেই একই হয়েছে। ভাইরাস ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। এইমস প্রধান বলছেন, করোনার পুরনো বা নতুন প্রজাতি যাই আসুক না কেন, বাচ্চাদের সংক্রমণজনিত জটিল রোগের ঝুঁকি কম। তাই উদ্বেগের কারণ নেই।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.