মহিলা সাংবাদিক গ্রেফতারে উত্তাল ঢাকা, ক্ষুব্ধ জয়া কলম ধরলেন, ফুঁসে উঠলেন মামুদ, ফারুকি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক মহিলা সাংবাদিককে হেনস্থা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল ঢাকা। শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক মহল থেকেও নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় আছড়ে পড়েছে পদ্মা পারে।

বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র হল প্রথম আলো। সেই সংবাদপত্রের সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দফতরে গিয়েছিলেন খবর সংগ্রহের জন্য। অভিযোগ সেই সময়ে তাঁকে একটি ঘরে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। তখন অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান রোজিনা। পরে তাঁকে সরকারি গোপনীয়তা ভঙ্গের দায়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার রোজিনাকে আদালতে পেশ করে পাঁচ দিনের হেফাজত চাওয়া হয়।

রোজিনার সতীর্থ সাংবাদিক থেকে শুরু করে অনেকেরই বক্তব্য, কোভিড মোকাবিলায় সরকারি কেনাবেচায় দুর্নীতি ফাঁস হওয়ার আশঙ্কাতেই এই অত্যাচার শুরু হয়েছে। করোনা-কিটের ঘাটতি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অনিয়ম নিয়ে রোজিনার লেখা প্রতিবেদনও পুনঃপ্রকাশ করতে শুরু করেছে প্রথম আলো।

প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

মহিলা সাংবাদিককে এ ভাবে হেনস্থা করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাক মানুষ। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন বাংলাদেশের সাংবাদিকরা। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিদ্বজ্জন ও শিল্প সংস্কৃতি জগতের মানুষ। অভিনেত্রী জয়া এহেসান লিখেছেন, “রোজিনা সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন, সিঁধ কাটতে নয়। দেখতে পেলাম হেনস্তার শিকার হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যাচ্ছেন। এই আমাদের আচরণ! এই আমাদের সভ্যতা! রোজিনার গলার ওপর চেপে বসা আঙুলগুলো গভীর অর্থময় এক প্রতীকের মতো লাগছে। মনে হচ্ছে, আঙুলগুলো কোনো ব্যক্তির গলায় নয়, বরং বাংলাদেশের বাক্‌স্বাধীনতার কণ্ঠনালিতে চেপে বসেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেই এমন অশুভ একটি ঘটনা আমাদের দেখতে হলো? রোজিনাকে তাঁর পরিবারের কাছে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

প্রিন্স মামুদ

বাংলাদেশের প্রথিতযশা গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক প্রিন্স মামুদ লিখেছেন, “বাঘিনী, এই মুহূর্তে তোমার মুক্তি চাই না। তুমি একটি উপলক্ষ মাত্র। তোমার মাধ্যমেই স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতিপরায়ণ মন্ত্রী-আমলা ধ্বংস হবে”। প্রিন্স মামুদের কথায়, মাথা উঁচু করে থাকো আর চিৎকার করে গাও “তোমরা বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে করছ বিশ্বগ্রাস, আর ত্রাস দেখিয়েই করবে ভাবছ বিধির শক্তি হ্রাস। সেই ভয়-দেখানো ভূতের মোরা করব সর্বনাশ।’

আবার চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তাফা সরয়ার ফারুকি লিখেছেন, ‘কালকের ঘটনার মধ্যে এক ধরনের মস্তানির ভাব আছে! সাংবাদিক সমাজের উচিত এই বাড়াবাড়ি বা মস্তানির ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের সবার বিচার নিশ্চিত করতে সোচ্চার থাকা এবং রুটিন করে আগামী এক মাস স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব পর্যায়ের দুর্নীতি নিয়ে আরও বেশি বেশি রিপোর্ট করা! যা তারা থামাতে চেয়েছে, তাকেই আরও জ্বালিয়ে দেওয়াই হবে আসল উত্তর!’

যে ধারায় রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তাতে সর্বোচ্চ ১৪ বছর জেল এমনকি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। অভিযোগ হল, রোজিনা তাঁর মোবাইল দিয়ে সরকারি কিছু ডকুমেন্টের ছবি তুলছিলেন। কিছু কাগজপত্র নিয়েও বেরিয়ে যাচ্ছিলেন।

মানুষের কাছে সঠিক খবর পৌঁছে দিতে এমন ঝুঁকি অনেক সাংবাদিকই নেন। নইলে প্রকৃত সত্য কখনওই সামনে আসত না। অপ্রিয় সেই সত্যি কথা সামনে আসে বলেই অতীতে বার বার দেখা গিয়েছে দেশ কাল নির্বিশেষে সরকারের কোপে পড়েছেন সাংবাদিকরা। বাংলাদেশের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয় বলে অনেকের মত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More