হামাসের আর্সেনাল রকেট ছিন্নভিন্ন করছে আয়রন ডোম, রণকৌশলে অনেক এগিয়ে ইজরায়েল

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে।

২০১৪ সালের সেই যুদ্ধবিরতির পরে অশান্তি থামেনি ঠিকই, কিন্তু আচমকাই যেন ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ইজরায়েলকে ক্ষতবিক্ষত করার চেষ্টা করছে প্যালেস্তিনীয় জঙ্গি সংগঠন। আট বছর আগে যখন ইজরায়েলের বাহিনী তাদের মিসাইলের ধাক্কায় গাজার ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গগুলো (যেখান দিয়ে ইজরায়েলে হামলা চালানো যেত, মিশর থেকে অস্ত্রশস্ত্র আমদানি করা হত) ধ্বংস করেছিল, তখনই শোনা গিয়েছিল হামাসের নখ-দাঁত পুরোপুরি ভেঙে গেছে। তাদের অস্ত্রভাণ্ডারও প্রায় শেষ। কিন্তু না। সেই ক্ষত মেরামত করে ফের অস্ত্রশস্ত্রে শান দিয়ে নিয়েছে হামাস।

ইজরায়েলি সেনারাই বলছে, ঘরোয়া উপকরণে তৈরি হামাসের আর্সেনাল ডিফেন্স সিস্টেমের সঙ্গেই জোর টক্কর হচ্ছে ইজরায়েলি আয়রন ডোম মাল্টি-টার্গেট ডিফেন্স সিস্টেমের। আয়রন ডোমের মতো প্রযুক্তি না থাকলেও হামাসদের তৈরি আর্সেনাল রকেট সিস্টেমের তাকতও কিছু কম নয়। এক সপ্তাহে তিন হাজারের বেশি রকেট ইজরায়েলকে নিশানা করে ছোড়া হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার স্বল্প পাল্লার কোয়াসাম রকেটের স্টক রয়েছে। আর দূর পাল্লার আর-১৬০, এম-৩০২ডি, এম৩০২-বি, জে-৮০, এম-৭৫, কোয়াসাম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের এম-৭৫ রকেট গত তিন চারদিন ধরে নাগাড়ে ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে।

হামাসরা তাদের অস্ত্র নিজেরাই বানায়। মিশর থেকে রসদ সংগ্রহ করা হয় অনেক সময়। হারাকাত আল-মুকাওয়ামা আল-ইসলামিয়া (ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন) এর একটি অংশ হল ইসলামি রাজনৈতিক দল যারা গাজা শহর বা গাজা স্ট্রিপ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল বরাবর গাজা স্ট্রিপ। এই শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত বরাবর মিশর ও পূর্ব-উত্তর সীমানা বরাবর ইজরায়েল। প্যালেস্তাইনে দুটি দল বেশ সক্রিয়, হামাস ও ফাতাহ। তবে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় রেখেছে হামাসরাই। ইজরায়েলের সেনা সূত্রই জানিয়েছে, এতদিন মাটির নীচের সুড়ঙ্গ পথে মিশর থেকে অস্ত্র তৈরির উপকরণ ও অন্যান্য রসদ সংগ্রহ করত হামাসরা। এই সুড়ঙ্গগুলি ভেঙে দেওয়ার পরে মিসাইল ও রকেট তৈরির উপকরণ আমদানি করেছে চোরা পথে।

Hamas has developed a vast arsenal in blockaded Gaza

হামাসের অস্ত্রভাণ্ডারে যে রকেটগুলো আছে তার বেশিরভাগেরই প্রযুক্তি অনেক পুরনো। আয়রন ডোম সিস্টেমের মিসাইলকে রুখতে তারা গত কয়েকদিন ধরে স্বল্প পাল্লার কিছু রকেট হামলা করেছে। এই রকেটগুলির পাল্লা ১২ কিলোমিটার থেকে ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে। ইজরায়েলি বাহিনী বলছে, এই স্বল্প পাল্লার রকেটের নাম এ-১২০। স্থানীয় প্রযুক্তিতেই তৈরি রকেট লঞ্চারে আটটি করে টিউব আছে। তাছাড়া এস-৪০ রকেট যার পাল্লা ৪০ কিলোমিটার ইজরায়েলি মিসাইলের ধাক্কায় কার্যত গুঁড়িয়ে গিয়েছে।

Image

টয়োটা ট্রাক ও খুব কম দামি রকেট লঞ্চার সিস্টেমও ব্যবহার করে হামাসরা। রাশিয়ার তৈরি সেই পুরনো দিনের বিএম-২১ গ্র্যাড রকেটও আছে তাদের। ইজরায়েলি ডিফেন্স সিস্টেমের তোপের মুখে তাদের অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল তেমনভাবে ধোপে টেকেনি। ইয়াসিন আরপিজি, আল বানা আরপিজি, আল বাতার আরপিজি ইত্যাদি যুদ্ধট্যাঙ্ক বিধ্বংসী মিসাইলের সংখ্যায় ও শক্তিতে হামাস ইজরায়েলের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে।

Image

মাল্টি-টার্গেট ডিফেন্স সিস্টেমকে প্রতিরোধ করতে হলে স্বল্প পাল্লার রকেটে কাজ হবে না এটা বেশ বুঝে গেছে হামাস। তাই এখন তাদের হাতিয়ার এম-৭৫ রকেট। তেল আভিভে হামলা চালানোর জন্য এই রকেটই ব্যবহার করছে এই ইসলামিক সংগঠন। রাতের আকাশে আতসবাজির মতো যে আলোর মালা তৈরি হচ্ছে তা এই রকেটের বিস্ফোরণের কারণেই। তাছাড়াও তাদের অস্ত্র ভাঁড়ারে আছে কাসাম সিস্টেম। কাসাম ১ থেকে কাসাম ৪, এই চার ভ্যারিয়ান্টও টার্গেট করা হয়েছে গত কয়েকদিনে। ৩৫ থেকে ৫০ কিলোগ্রাম ওজনের প্রায় হাজার দেড়েক কাসাম রকেট নিক্ষেপ করেছে হামাস। ফজর-৫ রকেটও রয়েছে হামাসের সংগ্রহে। ইরানের বাহিনী এই ধরনের রকেট ব্যবহার করে। ১৯৯০ সালে তৈরি হয়েছিল। তবে এর উন্নত সংস্করণ হামাসের কাছে আছে কিনা জানা যায়নি।

ইজরায়েলের বক্তব্য, হামাসের ছোড়া বেশিরভাগ মিসাইলই রুখে দিয়েছে তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। কারণ হামাসের অস্ত্রভাণ্ডারে নানারকম রকেট থাকলেও তাদের রণকৌশল তেমন বুদ্ধিদীপ্ত নয়। বহুদূর অবধি নিশানা ভেদ করা, প্রতিপক্ষের মিসাইলকে নিষ্ক্রিয় করার মতো প্রযুক্তি তাদের নেই। তবে আল কুদস-৩ মাল্টিপল রকেট লঞ্চার আছে হামাসের কাছে, তাই ইজরায়েলি জনসংখ্যার একটা বড় অংশ বিপদের মুখে রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.