মহিলা ‘গরুড়’ কম্যান্ডো তৈরি করছে কর্নাটক পুলিশ, ক্ষিপ্র হামলা চালিয়ে এফোঁড় ওফোঁড় করবে জঙ্গিদের

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্দুকের নিশানা কখনও ব্যর্থ হবে না এই মহিলা বাহিনীর। যে কোনও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রই বাগ মানবে হাতে। শারীরিক দক্ষতা যতটা ততটাই প্রখর হবে বুদ্ধি। আক্রমণের কৌশল ঠিক করে নেবে পলকের গতিতে। গেরিলা যুদ্ধপদ্ধতিও হবে এদের নখদর্পনে। কর্নাটক পুলিশের মহিলা কর্মীদের গরুর কম্যান্ডোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ১৬ জন মহিলাকে নিয়ে গরুড় কম্যান্ডোর বিশেষ বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। এই মহিলারা কর্নাটক স্টেট রিজার্ভ পুলিশ (কেএসআরপি) এবং কর্নাটক স্টেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্য। শারীরিকভাবে দক্ষ, অস্ত্র চালাতে পারদর্শী এমন ১৬ জনকে বেছে নিয়ে গরুড় কম্যান্ডোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। রাজ্যের অ্যাডিশনার ডিজিপি (অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা) ভাস্কর রাও বলেছেন, ২৬/১১ মুম্বই হামলার পরে সন্ত্রাস দমন অভিযানের জন্য ১৭০ জনের গরুড় বাহিনী তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল কর্নাটক সরকার। রাজ্যে যেহেতু এনএসজি হাব নেই, তাই বিশেষ বাহিনী তৈরির উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় সরকারও। জঙ্গি হামলা রুখে দেওয়া, নাশকতার ছক বানচাল করা, যে কোনও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা, অতর্কিতে হামলা চালানো, সবরকম যুদ্ধাস্ত্র চালানোয় পারদর্শী এমন এক এলিট ফোর্স তৈরির জন্য আঁটঘাট বেঁধেই নেমেছে কর্নাটক সরকার। মহিলা কম্যান্ডোর এই বিশেষ বাহিনী এইসব কাজই দক্ষতার সঙ্গে করতে পারবে বলেই জানিয়েছেন ডিজিপি ভাস্কর রাও।

Image

তিন থেকে চার বছরের ট্রেনিং হবে মহিলাদের। এই সময়ের মধ্যে সবরকম অস্ত্র চালনা শেখানো হবে তাঁদের। জলে, স্থলে, পাহাড়ি এলাকায় যুদ্ধ করার মতো প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রাও বলেছেন, আচমকা শত্রু সেনার মুখোমুখি হলে চোখের পলকে কীভাবে রণকৌশল ঠিক করতে হবে তা শেখানো হবে এই বাহিনীকে। অপ্রতিরোধ্য হবে এদের গতি, বিপক্ষের বাহিনী কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা চালাতে পারবে এই মহিলা গরুড় কম্যান্ডোরা।

Image

গরুড় কম্যান্ডো কারা?

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে যতগুলি এলিট ফোর্স রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম সেরা হল গরুড়। বায়ুসেনার নিজস্ব এলিট ফোর্স গরুড়। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে এই বিশেষ বাহিনী তৈরি হয়। বর্তমানে গরুর বাহিনীতে দেড় হাজারের বেশি প্রশিক্ষিত কম্যান্ডো আছ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলেন, পাকিস্তানে ঢুকে লাদেনকে খতম করেছিল মার্কিন নৌসেনার যে নেভি-সিল বাহিনী, ভারতীয় গরুড় বাহিনী দক্ষতায় ও সাহসে তাদের তাদের সমতুল্য।

Image

বায়ুসেনার বিভিন্ন ঘাঁটি রক্ষা করার মূল দায়িত্ব গরুড় কম্যান্ডোদের। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের জন্যও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় গরুড় বাহিনীকে। আচমকা শত্রুর মোকাবিলা করা, যুদ্ধের সময় আকাশপথে গোপন নজরদারি চালানো, প্রতিপক্ষের রেডার অকেজো করে দেওয়া থেকে অতর্কিতে হামলা চালানো—যে কোনও রণকৌশলেই দক্ষ গরুড় কম্যান্ডোরা। বায়ুসেনা ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও অ্যাটাক এয়ারক্রাফ্টগুলো জঙ্গিদের আক্রমণ থেকে রক্ষার গুরুদায়িত্ব থাকে এই বাহিনীর। গরুড় কম্যান্ডোদের এমন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় যা বিস্মিত করে বিশ্বের অন্যান্য এলিট ফোর্স কম্যান্ডোদেরও। কর্নাটক পুলিশ জানিয়েছে, রাজ্যে সশস্ত্র বাহিনীতে এমন গরুড় কম্যান্ডো তৈরির প্রশিক্ষণই চলছে। মহিলাদের নিয়ে তৈরি এই বাহিনী যে কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলা রুখে দিতে পারবে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.