কোভ্যাক্সিন কতটা কার্যকরী? ছাড়পত্র পাওয়ার পাঁচ মাস পরে ট্রায়াল রিপোর্ট আনল ভারত বায়োটেক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভ্যাক্সিনের তৃতীয় পর্বের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শেষ হওয়ার আগেই ছাড়পত্র দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল। সে নিয়ে বিস্তর বিতর্কও হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল, কোনও নামী সায়েন্স জার্নালে কোভ্যাক্সিনের ক্লিনিকাল ট্রায়ালের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি, কাজেই এই ভ্যাকসিন কতটা সুরক্ষিত সে নিয়ে সঠিক তথ্য দেওয়ার আগেই ভ্যাকসিনে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। দেশে কোভ্যাক্সিন টিকা দেওয়া শুরু হওয়ার পরে প্রায় পাঁচ মাস কেটে গেছে। এতদিনে ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে এনেছে হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেক। ভ্যাকসিন কতটা কার্যকরী হয়েছে সেটাও বলা হয়েছে এই রিপোর্টে।

ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)-এর কাছে কোভ্যাক্সিন টিকার তৃতীয় বা চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে দেশের ২৫ হাজার ৮০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপরে টিকার তৃতীয় স্তরের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে দেখা গেছে তা ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকরী। টিকার ডোজে কোনওরকম গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি বলেও দাবি করেছে হায়দরাবাদের এই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি।

Good news about COVID-19 vaccine! This company will make 2.28 crore doses of Covaxin

ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট জমা না দেওয়ায় এতদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তালিকায় কোভ্যাক্সিন টিকার নাম যোগ করা হয়নি। করোনা আবহে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে হলে ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়া জরুরি, সে সার্টিফিকেটও দেখাতে হবে। কী কী ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে বিভিন্ন দেশ ছাড়পত্র দেবে তার একটা তালিকা বানিয়েছে হু, যাকে বলা হচ্ছে ইমার্জেন্সি ইউজ লিস্ট (ইইউএল)। এই তালিকায় যে ভ্যাকসিনগুলি রয়েছে তার মধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড, মোডার্না, ফাইজার, অ্যাস্ট্রজেনেকা, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং চিনের সিনোফার্মের টিকার নাম রয়েছে। কিন্তু ভারতে তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকার নাম নেই। ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, এবার তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট জমা করলে সেই তালিকায় কোভ্যাক্সিনেরও নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আশা করা হচ্ছে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সেটা হয়ে যাবে।

ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন (BBV152) করোনাভাইরাসের নিষ্ক্রিয় স্ট্রেন থেকে তৈরি। বায়োসেফটি লেভেল-৩ ল্যাবোরেটরির সুবিধা থাকায় ভারত বায়োটেকের ভাইরোলজিস্টরা সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেনের বিশেষ অংশ চিহ্নিত করে তাকে আলাদা করে নিয়েছেন। এরপরে সেই সংক্রামক স্ট্রেনকে বিশেষ বিজ্ঞানসম্মত উপায় পিউরিফাই করে তাকে নিষ্ক্রিয় বা ইনঅ্যাকটিভ (Inactive) করেছেন । এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর জন্য এর সঙ্গে অ্যাডজুভ্যান্ট (ইমিউনোলজিক্যাল এজেন্ট) যোগ করা হয়েছে। এই অ্যাডজুভ্যান্টের কাজ হল টিকার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা। সেই কারণে কোভ্যাক্সিনের এমন গুণ আছে যা করোনার নতুন স্ট্রেনের সংক্রমণও রুখতে পারে।

আইসিএমআর দাবি করেছে, করোনার ব্রিটেন স্ট্রেন (বি.১.১.৭), ব্রাজিলীয় স্ট্রেন (বি.১.১.২৮), দক্ষিণ আফ্রিকার (বি.১.৩৫১) স্ট্রেনের সংক্রমণ রুখতে পারে কোভ্যাক্সিন। এমনকি কোভিডের অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের সংক্রমণও ঠেকাতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। এখন গবেষণা শেষ হওয়ার পরেই বোঝা যাবে কোভিডের অতি সংক্রামক প্রজাতিগুলিকে ঠেকাতে কতটা কার্যকরী কোভ্যাক্সিন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More