আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার মতো রোজ তৃতীয় ঢেউ নিয়ে চর্চা না করে সতর্ক থাকুন, নিয়ম মানুন: স্বাস্থ্যমন্ত্রক

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা বিধি উপেক্ষা করা, মানুষের লাগামছাড়া মনোভাবই কোভিডের তৃতীয় ঢেউকে আমন্ত্রণ করে আনবে। সাফ জানালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব লভ আগরওয়াল। কোভিডের বিধিনিষেধ নিয়ে প্রায় রোজই সাংবাদিক বৈঠক করছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। মঙ্গলবারের বৈঠকে তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে লভ আগরওয়াল বললেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার মতো প্রতিদিন কোভিডের তৃতীয় ঢেউ নিয়ে চর্চা হচ্ছে। এই তৃতীয় ঢেউ যে কী সে ব্যাপারে অনেকেরই সঠিক জ্ঞান নেই। আসলে মানুষজন যত নিয়ম লঙ্ঘণ করবে, কোভিড গাইডলাইন মানবে না, তত বেশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। আর সেটাই হবে থার্ড ওয়েভের মূল কারণ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব বললেন, তৃতীয় ঢেউ যে অবশ্যম্ভাবী এমন কথা কেউ বলেনি। জনসাধারণের আচার-আচরণই সংক্রমণের নতুন ঢেউ বয়ে আনবে। লভ বলছেন, কোভিডের প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংহার রূপ দেখার পরেও মানুষের চৈতন্য ফেরেনি। লকডাউনের রাশ আলগা হতেই পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে উপচে পড়ছে ভিড়। দোকানবাজার, শপিং মল, হোটেলগুলিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিয়ম মানা হচ্ছে। মানুষের ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছে, দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পরে মুক্তি পেয়েছে। তাই এত লাগামহীন উল্লাস। আর এটাই হবে পরবর্তী ঢেউয়ের কারণ।

কিছুদিন আগেই নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) তথা চিকিৎসক ভি কে পল বলেছিলেন, পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে এখন অনেক মানুষ জড়ো হচ্ছেন। তাঁরা যদি কোভিড বিধি মেনে না চলেন, সংক্রমণ ছড়াবে দ্রুত। হিমাচলপ্রদেশ সরকার গত মাসেই লকডাউনের বিধি শিথিল করেছে। ইতিমধ্যেই শিমলা, কুলু-মানালিতে পর্যটকদের ভিড় শুরু হয়ে গেছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, মানালি এক সরু রাস্তায় কয়েকশ পর্যটক ভিড় করেছেন। মুসৌরিতেও এক ঝর্নার কাছে ছোট্ট জায়গায় অনেককে জড়ো হতে দেখা গিয়েছে। লভ আগরওয়াল বলছেন, পর্যটকদের অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছেন। কিছুদিন আগেই কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভে মারা গিয়েছেন প্রায় দু’লক্ষ মানুষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে অনেকে সংক্রমিত হতে পারে। পরে তাঁরা যখন বাড়ি ফিরবেন, তাঁদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়বে কোভিড।

করোনা সংক্রমণ নিয়ে মানুষের সচেতনতার অভাবই এই বিপর্যয়ের কারণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বক্তব্য, আনলক পর্যায়ে কোভিড নিয়ে গা ছাড়া মনোভাব ছিল বেশিরভাগ মানুষেরই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া কোভিড গাইডলাইন মেনে চলা হয়নি বেশিরভাগ জায়গাতেই। উৎসব-অনুষ্ঠানও চলেছে দেদাড়। এইসব কারণেই সংক্রমণ বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। করোনার একাধিক নতুন প্রজাতিও ছড়িয়ে পড়েছে দেশে। এমনিতেও মহামারীর সময় তৃতীয় বা চতুর্থ ঢেউ খুব বেশি সংক্রামক হয় না। কারণ ভাইরাস দুর্বল হতে শুরু করে। তবে মানুষ যদি নিয়মের বাইরে গিয়ে মেলামেশা বাড়িয়ে দেয়, তাহলে বিপদ অনিবার্য। সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেনও অতি সংক্রামক হয়ে উঠবে। সংক্রমণের তীব্রতাও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তাই সর্বস্তরে সচেতন থাকাটা এখন বেশি দরকার।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.