প্রতিরক্ষায় বড় পদক্ষেপ, গুপ্ত লেজার হামলা রুখতে মহাকাশে সেন্সর, স্যাটেলাইট পাঠাবে ডিআরডিও

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভূমি, জল ও আকাশ—এই তিনের সুরক্ষাই একমাত্র লক্ষ্য নয়। মহাকাশে পৃথিবীর কক্ষে যে স্যাটেলাইটগুলো পাঠিয়েছে ভারত সেগুলোর ওপরেও নজর রেখে বসে আছে অনেক দেশ। গুপ্ত লেজার হামলা যদি হয়, তাহলে যে কোনও উন্নত ও আধুনিক প্রজন্মের উপগ্রহও নিমেষে ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রতিরক্ষার ভিতটাই নড়বড়ে হয়ে যাবে। তাই মহাকাশ সুরক্ষাতেও আগামী দিনে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা তথা ডিআরডিও। মিলিটারি ডিফেন্স স্পেস এজেন্সির যৌথ উদ্যোগে একাধিক সেন্সর, স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাবে ডিআরডিও। পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে তারা গোপন শত্রুসেনার গোপন অভিসন্ধির খবর ফাঁস করবে।

India enhancing military capabilities in space with new sensors, satellites  – Indian Defence Research Wing

ব্যাপারটা তাহলে খুলে বলা যাক। এই মহাকাশ সুরক্ষার বিষয়টা বর্তমানে সমস্ত শক্তিধর রাষ্ট্রেরই মাথাব্যথার কারণ। প্রযুক্তি এখন এতটাই উন্নত যে মুখোমুখি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করার দিন ফুরিয়ে আসবে ক্রমশ। প্রতিরক্ষার একেবারে গোড়ায় গিয়ে আঘাত হানবে প্রতিপক্ষ। তার জন্য নিশানা করবে সে দেশের স্যাটেলাইট সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ইনটেলিজেন্সকে। মহাকাশে যে সমস্ত স্যাটেলাইট পাঠানো হয়, তারা শুধু আবহাওয়ার খবর দেয় না। এই স্যাটেলাইটগুলোর কাজ ভাগ করা থাকে। কিছু থাকে আর্থ অবজারভেটরি স্যাটেলাইট, কিছু স্যাটেলাইটের কাজ হয় দেশের সমস্ত সীমান্ত এলাকাগুলিতে নজরদারি করা। এমন প্রযুক্তিও এসেছে যার সাহায্যে শত্রুসেনার শিবিরের ভেতর অবধি নজর চালিয়ে তাদের গতিবিধি, অস্ত্রশস্ত্রের ক্ষমতা জেনে ফেলা যায়। তাই কোনও দেশের শক্তির মূলে আঘাত হানতে গেলে গুপ্ত স্যাটেলাইট হামলাই চালানো হবে আগামী দিনে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটাই হবে মহাকাশ-যুদ্ধের প্রথম ধাপ। এর পরিণতিও হবে ভয়ঙ্কর।

মহাকাশ-যুদ্ধের কথা ভেবেই সমস্ত শক্তিধর রাষ্ট্র তাদের প্রযুক্তিতে শান দিচ্ছে। ডিআরডিও জানাচ্ছে, মহাকাশে প্রতিরক্ষার ভিত মজবুত করতে হলে তিনটি বিষয়ে নজর দিতে হবে—১)সিগন্যাল ইনটেলিজেন্স, ২) কমিউনিকেশন ইনটেলিজেন্স ৩) ইলেকট্রনিক ইনটেলিজেন্স।

New Defence Research Institute focuses on security – online and in space -  Create

এখন এই মহাকাশ-যুদ্ধ নিয়ে ভারতের চিন্তার আরও একটা কারণ হল চিন। সেই ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত একাধিকবার মহাকাশ-যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল চিন। ভারতের একাধিক স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহে সাইবার হামলার চেষ্টা হয়েছে। ম্যালওয়ার ঢুকিয়ে মহাকাশ গবেষণার কেন্দ্রের গ্রাউন্ড স্টেশনের গোপন তথ্য নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টাও করেছে। তবে কোনওবারেই সফল হয়নি তারা।

মহাকাশ-সুরক্ষায় ভারতের হাতেও আছে অস্ত্র

মহাকাশ-যুদ্ধের প্রস্তুতি দশকের পর দশক ধরেই চলছে। যে কারণে স্যাটেলাইট ধ্বংসকারী প্রযুক্তি রয়েছে বিশ্বের কয়েকটি দেশের হাতে। ভারতের হাতে যেমন আছে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট তথা এ-স্যাট। এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তিন মিনিটের মধ্যে কৃত্রিম উপগ্রহ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শণ করেছিল ভারত।  এ-স্যাটের প্রযুক্তি এমন যে মহাকাশে শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট বা ডিজিটাল অস্ত্র হামলা চালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধ্বংস করে দিতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। বিশ্বের আর মাত্র তিনটি দেশ, আমেরিকা, রাশিয়া ও চিন এই ক্ষমতা ধরে।

Solomon Kassa on Twitter: "India shoots down own satellite to prove space  warfare capability and become 4th nation as space powerhouse. Only three  other countries, the US, Russia and China, have the

ইনটেলিজেন্স স্পেসক্রাফ্টে নজরদারি হোক বা পৃথিবীর কক্ষে ঘুরতে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ, সবকিছুতেই নিয়ন্ত্রণ কায়েম রাখতে মহাকাশে রোবট পাঠাচ্ছে চিন, এমন খবরও সামনে এসেছিল। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছিল, বিশ্বে প্রথম ‘অ্যাস্টেরয়েড মাইনিং রোবট‘ মহাকাশে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে চিন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনও ধরনের হামলা রুখতে বিশেষ ধরনের সেন্সর পাঠানো হবে মহাকাশে। উন্নত মানের স্যাটেলাইটও পৌঁছে দেওয়া হবে। এই সেন্সর, স্যাটেলাইটের কাজ হবে প্রতিপক্ষের মহাকাশে হামলা ও সাইবার হামলার ছক ভেস্তে দেওয়া। গুপ্ত স্যাটেলাইটের হামলা রুখে দিতে পারে এমন অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইলও তৈরি করছে ডিআরডিও। দেশের বিভিন্ন স্টার্টআপ কোম্পানিগুলি এই দায়িত্ব পেয়েছে। লেজার নিয়ন্ত্রিত অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইলের কাজ হবে পৃথিবীর দিকে চলে আসা মহাজাগতিক বস্তুগুলিকে চিহ্নিত করা। বিদেশি স্যাটেলাইট লেসার হামলার চেষ্টা করলে তা রুখে দেওয়া। পাশাপাশি, দেশের আবহাওয়া ও সীমান্তের হাল হকিকত গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠানো।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.