দেশে করোনা রোগী কি কোটির বেশি! ৩৮ লাখকে তো হিসেবেই রাখা হয়নি

কেন্দ্রের বুলেটিনে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৯১ লাখের কিছু বেশি। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্ট বলছে, কোভিড টেস্ট যদি ঠিকঠাকভাবে সব রাজ্যে করা হত, তাহলে দেখা যেত কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা আরও লাখ খানেক বাড়ত। আর যেমন তেমন বাড়া নয়, এক ধাক্কায় ৩৮ লাখ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আক্রান্তের নিরিখে ৯১ লাখের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে ভারত। সংখ্যাটা কি তার মানে কোটির বেশি? কারণ তথ্য বলছে, ৩৮ লাখ করোনা রোগীকে চিহ্নিত করাই যায়নি। তাই সব মিলিয়ে হিসেব করলে হয়তো সংখ্যাটা কোটি ছাড়াবে।

ব্যাপারটা ঠিক কী? কেন্দ্রের বুলেটিনে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৯১ লাখের কিছু বেশি। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্ট বলছে, কোভিড টেস্ট যদি ঠিকঠাকভাবে সব রাজ্যে করা হত, তাহলে দেখা যেত কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা আরও লাখ খানেক বাড়ত। আর যেমন তেমন বাড়া নয়, এক ধাক্কায় ৩৮ লাখ।

সেটা কেন? করোনা সংক্রমণ ধরার জন্য যতগুলি পরীক্ষা পদ্ধতি দেশে চালু রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভাল রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্ট। শুরুতে এই আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যাই ছিল বেশি। একশো শতাংশ এই পরীক্ষা পদ্ধতিতেই রোগীদের চিহ্নিত করা যাচ্ছিল। কিন্তু গত কয়েকমাসে আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা কমেছে। চটজলদি ও কম খরচে করোনা পরীক্ষা করার জন্য র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের সংখ্যা বেড়েছে। যে কারণেই এই গণ্ডগোল হয়েছে। কারণ আরটি-পিসিআর টেস্টে যতটা সঠিক ও নির্ভুল রেজাল্ট পাওয়া যায়, অ্যান্টিজেন টেস্টে সেটা হয় না মোটেও। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই র‍্যাপিড টেস্টে ‘ফলস নেগেটিভ’ ডেটা দেয়। অর্থাৎ কোনও রোগী কোভিড পজিটিভ কিন্তু টেস্টের রেজাল্টে দেখা যাবে কোভিড নেগেটিভ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরটি-পিসিআর টেস্টে পজিটিভিটি রেট অ্যান্টিজেন টেস্টের চেয়ে আড়াই থেকে সাড়ে তিন গুণ বেশি। পজিটিভিটি রেট হল যতজন কোভিড রোগীর টেস্ট করানো হচ্ছে, তার মধ্যে যতজনের রোগ ধরা পড়ছে তার শতাংশের হিসেব। অ্যান্টিজেন টেস্টে এই রোগ ধরা পড়ার হার কম।

সূত্র বলছে, দেশে এখন আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। অ্যান্টিজেন টেস্ট কম করেও ৪০ শতাংশ। কয়েকটি রাজ্যে অ্যান্টিজেন টেস্টের কারণেই করোনা রোগীদের চিহ্নিত করা যায়নি। দিল্লি যার মধ্যে একটি। বিহার তেলঙ্গানা, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশেও আরটি-পিসিআর টেস্টের সংখ্যা কম। বিহারে তো পিসিআর টেস্ট কমতে কমতে ১৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, তেলঙ্গানায় ১৭%, গুজরাটে ২২%, পশ্চিমবঙ্গে কিছুটা বেশি ৫৫%। এখনও অবধি মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও রাজস্থানে পিসিআর টেস্ট বেশি করা হচ্ছে প্রায় ১০০ শতাংশ।

বিহার, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্রের মতো কয়েকটি রাজ্যে লাখের বেশি কোভিড রোগীকে শনাক্ত করাই যায়নি। সংখ্যাগুলোও চমকে দেওয়ার মতো। যেমন মহারাষ্ট্রে ৬ লাখের বেশি করোনা রোগীকে হিসেবেই ধরা হয়নি, কারণ এদের রোগ চিহ্নিত করা যায়নি। খাতায়কলমে হিসেব রয়েছে কোভিড পজিটিভ রোগী ১৭ লাখের বেশি, অথচ আসল সংখ্যা ২৪ লাখ ছাড়িয়েছে। দিল্লিতে চার লাখের বেশি কোভিড রোগীর হিসেব নেই, তেলঙ্গানা, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশে তিন লাখ, পশ্চিমবঙ্গে এক লাখের কিছু বেশি, কেরলে প্রায় তিন লাখের কাছাকাছি কোভিড রোগী হিসেবের খাতার বাইরে। অথচ যেসব রাজ্যে পিসিআর টেস্ট বেশি হয়েছে সেখানে পজিটিভ কেসের হার কম। যেমন, তামিলনাড়ুতে পিসিআর টেস্ট কোটির বেশি, কর্নাটকে ৮৮ লাখ, অন্ধ্রে ৫৪ লাখ। পশ্চিমবঙ্গ সেখানে অনেকটাই পিছনে, পিসিআর টেস্ট হয়েছে ২৯ লাখের কাছাকাছি।

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.