দশ রাজ্যে সংক্রমণ মারাত্মক, আর-নম্বর একের বেশি, কোভিডের তৃতীয় ঢেউ কি আসন্ন?

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের তৃতীয় ঢেউ কি তবে আসন্ন? সিঁদুরে মেঘ দেখছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

দেশের সাম্প্রতিক করোনা গ্রাফ দেখে এই সম্ভাবনাই ক্রমে জোরালো হচ্ছে। দৈনিক সংক্রমণ মাত্রা ছাড়াচ্ছে দেশের দশ রাজ্যে। কোভিডের এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর তথা আর-নম্বর একের বেশি। তার ওপর করোনার ডেল্টা প্রজাতির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের সংক্রমণ বাড়ছে। আক্রান্তদের নমুনার জিনোম সিকুয়েন্স বা জিনের বিন্যাস বের করে ডেল্টা প্রজাতির স্ট্রেন খুঁজে পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে তাই চিন্তা বেড়েছে স্বাস্থ্যকর্তাদের।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যাণ বলছে, গত তিন সপ্তাহে কোভিড গ্রাফ ফের ঊর্ধ্বমুখী। গাণিতিক হিসেব বলছে, আর-নম্বর ১.০৪, যা উদ্বেগের কারণ। আর-নম্বর হল এমন এক গাণিতিক হিসেব যার দ্বারা কোভিডের সংক্রমণের হার কতটা বাড়ছে ও কমছে সেটা বোঝা যায়। শুধু তাই নয়, করোনা আক্রান্তদের থেকে কতজন সুস্থ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে তারও হিসেব বের করা যায়। গত ১৫ মে থেকে ২৬ জুন অবধি আর-নম্বর কমে গিয়ে ০.৭৮ পয়েন্টে স্থির হয়। গত সপ্তাহে আর-নম্বর ফের বেড়ে হয়েছে ০.৯৫। এখন এক ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর-নম্বর ১.০৪ হওয়ার অর্থ হল, একজন কোভিড আক্রান্ত একাধিক জনকে সংক্রমিত করতে পারে।

মধ্যপ্রদেশে আর-নম্বর সাঙ্ঘাতিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, ১.৩১, হিমাচল প্রদেশে ১.৩, নাগাল্যান্ডে ১.০, কেরলে ১.০৬। গত একমাসে আর-নম্বরের এই ঊর্ধ্বমুখী গতি তৃতীয় ঢেউয়ের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে বলেই বিশেষজ্ঞদের অনেকের।

চেন্নাইয়ের ইনস্টিটিউট অব ম্যাথেমেটিক্যাল সায়েন্সের গণিতজ্ঞ সীতাভ্র সিনহা বলছেন, মার্চ-এপ্রিলে এই আর-নম্বর হুড়মুড়িয়ে বেড়েছিল। তাই বেড়েছিল কোভিড পজিটিভ ও কোভিড অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও। এরপরে জুন মাস নাগাদ এই আর-নম্বর ফের কমে যায়। আশার ক্ষীণ আলো দেখেন গবেষকরা। কিন্তু এখন আবার এই গ্রাফ বাড়তে দেখা গেছে। বৃদ্ধি সামান্যই, তবে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিজ্ঞানীরা। তাই ফের একবার সতর্ক করা হচ্ছে দেশবাসীকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন কোনও মহামারী ছড়িয়ে পড়ে তখন একের পর এক এমন ওয়েভ আসতেই থাকে। এটা নির্ভর করে চারটি বিষয়ের ওপরে—এক, ভাইরাস কতটা সংক্রামক এবং কত দ্রুত মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে, দুই, মানুষের ব্যবহার, অর্থাৎ ভাইরাস ঠেকাতে মানুষ কতটা সতর্ক, তিন, ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন এবং চার, ভাইরাসের মিউটেশন বা জিনগত বদল। কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আসবেই। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই আসার সম্ভাবনা প্রবল। তবে এই থার্ড ওয়েভ খুব একটা প্রাণঘাতী হবে বলে এখনই কোনও তথ্য মেলেনি। যদি না গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ বহু মানুষের ভিড়, মেলামেশা থেকে সংক্রমণ ছড়ায়। কোভিডের বিধিনিষেধ মেনে চললে এই তৃতীয় ঢেউ রুখে দেওয়া সম্ভব।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.