রাশিয়ার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তিতে আপত্তি আছে বাইডেন প্রশাসনের! ভারত সফরে কী বার্তা দেবেন অস্টিন

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তিতে একেবারেই সায় নেই বাইডেন প্রশাসনের, আজ ভারত সফরে এসে এই বার্তা দিতে পারেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড জে অস্টিন। প্রথমবার বাইডেন প্রশাসনের কোনও শীর্ষ কর্তা ভারত সফরে আসছেন। দুই দেশের সামরিক চুক্তির পাশাপাশি চিন বিরোধী চতুর্দেশীয় অক্ষ তথা কোয়াড নিয়েও বৈঠক নিয়েও আলোচনা হবে। তবে সফরের আগেই আমেরিকার সেনেটের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে এস-৪০০ চুক্তি নিয়ে এগোলে ভারতের সঙ্গে কোনও রকম সামরিক সমঝোতার পথে নাও যেতে পারে আমেরিকা।

আজ থেকে তিনদিনের ভারত সফরে আসছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান হয়ে আজ ভারতে পৌঁছবেন তিনি। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে আজ বৈঠক হতে পারে অস্টিনের। আগামীকাল শনিবার দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক বৈঠকে বসবেন আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব। ভারত-আমেরিকা প্রতিরক্ষা চুক্তি, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, করোনা মোকাবিলা সহ একাধিক বিষয় প্রাধান্য পাবে সেই বৈঠকে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা রুখতে ককোয়াডের দেশগুলি কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে সে সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা আছে।

আমেরিকার সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল অস্টিন নয়াদিল্লির সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ভারত-আমেরিকার সামরিক জোট তথা কোয়াডের মতো আরও আন্তর্রাষ্ট্রীয় অক্ষ তৈরির চেষ্টা করবেন তাঁরা। সম্প্রতি আমেরিকার থেকে সশস্ত্র ড্রোন ও ১৫০টি কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট কেনার কথাবার্তাও চলছে ভারতের। সে চুক্তিও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা হবে। রাশিয়ার সঙ্গে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি নিয়েও আলোচনা করবেন অস্টিন, তবে এই চুক্তির ব্যাপারে বাইডেন প্রশাসনের আপত্তির কথাই জানাতে পারেন তিনি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই রাশিয়ার থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম কেনার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের সময় ৫০০ কোটি ডলার দিয়ে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা নিয়ে কথাবার্তা হয় দুই দেশের মধ্যে। দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায় কুড়ি সালের পর থেকে এস-৪০০ হস্তান্তর শুরু হবে, ২০২৫ সালের মধ্যে তা শেষ হবে। রাশিয়ার সঙ্গে এই সামরিক চুক্তি নিয়ে আপত্তি ছিল ট্রাম্প প্রশাসনেরও। আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে এস-৪০০ চুক্তি বাতিল করলে ভারতকে আরও আধুনিক ও দূরপাল্লার মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম দেওয়া হবে। তখন অবশ্য মোদী সরকার এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এরপরে আমেরিকা ক্যাটসা (কাউন্টারিং আমেরিকাজ অ্যাডভারসরিজ থ্রু স্যাঙ্কশনস অ্যাক্ট) আইনের প্রসঙ্গ তুলে এই চুক্তি থেকে ভারতকে বেরিয়ে আসতে বলে।

ভারত ও আমেরিকার বিদেশ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের মধ্যে ‘টু প্লাস টু’ বৈঠকে স্বাক্ষরিত হয়েছিল ‘ক্যাটসা’। যে চুক্তির অন্যতম শর্তই ছিল, ওই চুক্তি স্বাক্ষরকারীরা রাশিয়ার কাছ থেকে ‘এস-৪০০’ কিনতে পারবে না। ‘ক্যাটসা’য় সই করার ফলে সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাওয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায় যে দেশগুলি, ভারত তাদের তালিকায় চলে আসে।  মার্কিন সেনেটের বিদেশনীতি বষয়ক দফতরের চেয়ারম্যান বব মেনেন্ডেজ লয়েড অস্টিনকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি নিয়ে আমেরিকার আপত্তির কথাই তুলে ধরতে। এই ডিল পাকা হলে ক্যাটসা আইনের ২৩১ নম্বর ধারায় আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সমস্ত সামরিক চুক্তি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতেও দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত যে কোনও আদানপ্রদানেও সমস্যা হতে পারে। মোদ্দা কথা, ভারত যদি এস-৪০০ কেনা নিয়ে এগোয়, তবে ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে তা গুরুতর প্রভাব ফেলবে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.