হরিয়ানার বিস্ময়! অলিম্পিয়াডে দেশকে সোনা এনে দিয়েছে ১৭ বছরের সুরেন

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স এখনও কুড়ির কোঠা পেরোয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে হরিয়ানার সুরেনের নামের সঙ্গে জুড়ে গেছে বিস্ময়। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের আসরে দাপিয়ে বেড়িয়েছে সে। সোনার পদক জিতে মুখ উজ্জ্বল করেছে সকলের। অ্যাস্ট্রোনমি আর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে কেউ তাঁকে টেক্কা দিতে পারেনি।

আর শুধু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র নয়, দেশেও সুরেন সেরার সেরা। ভারতের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা জয়েন্ট এন্ট্রান্স অ্যাডভান্সডে সুরেন পেয়েছে ১০০ পারসেন্টাইল নম্বর। তাঁর সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক ১৯। জয়েন্টের এই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়েই আন্তর্জাতিক স্তরের পরীক্ষাগুলি তার কাছে অনেক সহজ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সুরেন। এমনকি জয়েন্ট এন্ট্রান্সের সিলেবাসের সঙ্গে অলিম্পিয়াডে নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নের মিলও খুঁজে পেয়ছে সে।

অলিম্পিয়াডে নির্বাচনের প্রথম ধাপে যে পরীক্ষা নেওয়া হল তা হল ন্যাশানাল স্ট্যান্ডার্ড এক্সাম ইন অ্যাস্ট্রোনমিক্স। এই পরীক্ষার অঙ্ক এবং পদার্থবিজ্ঞানের সিলেবাসের সঙ্গে জয়েন্ট এন্ট্রান্স অ্যাডভান্সডের সিলেবাসের মিল রয়েছে। এছাড়া এর জন্য পাঞ্জাবের এফআইআইটিজেইই থেকে কোচিংও করেছে সুরেন। কিন্তু সুরেন জানিয়েছে, এই পরীক্ষার অ্যাস্ট্রোনমি বিভাগের জন্য সে নিজে নিজেই প্রস্তুতি নিয়েছে। পড়েছে একাই। আর বাকিটুকু জয়েন্টের পড়া থেকেই এগিয়েছে অনেকটা।

অলিম্পিয়াডের এই প্রথম ধাপটুকু পার করার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি সুরেনকে। একের পর এক সাফল্য তাকে এনে দিয়েছে ‘সোনার ছেলে’ তকমা। এবার অলিম্পিয়াডে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে যে পাঁচজন গিয়েছিল তাদের মধ্যে চারজনই সোনা জিতেছে। একজন কেবল পেয়েছে রুপোর পদক।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি কঠিন পরীক্ষা এই অলিম্পিয়াড। এতে প্রতি ধাপে প্রশ্নের মান কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে ওঠে। ছোটবেলা থেকেই অ্যাস্ট্রোনমি বা জ্যোতির্বিদ্যায় আগ্রহ ছিল সুরেনের। সেই কারণেই অলিম্পিয়াডের জন্য পড়াশোনা করার অনুপ্রেরণা পেয়েছে এই কিশোর।

সোনা জয়ের পর কী বলছে সুরেন? তার কথায়, এটা আমার কাছে নতুন একটা অভিজ্ঞতা। এখানে গিয়ে আমি এমন কিছু বন্ধু পেয়েছি যারা আমারই মতো একই বিষয়ে আগ্রহী। আমার খুব ভাল লেগেছে। আইআইটি দিল্লিতে কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে এখন পড়ছে সুরেন। সেখানে অ্যাস্ট্রোনমি আর ফিজিক্সের ক্লাবও রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে অ্যাস্ট্রোনমি নিয়েই সে পড়বে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। সুরেশ জানিয়েছে অঙ্ক আর কম্পিউটার সায়েন্সেও সমান আগ্রহ রয়েছে তার।

এবছর কোভিড আবহে অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অলিম্পিয়াড হয়েছে। চার-চারটি কঠিন ধাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। প্রথম ধাপে থিওরি পরীক্ষা ছিল। তারপর ফিজিক্স আর অ্যাস্ট্রোনমিতে ছিল ডেটা অ্যানালিসিস রাউন্ড। এরপর তৃতীয় ধাপে ছিল পর্যবেক্ষণের পালা। প্ল্যানেটেরিয়াম পর্যবেক্ষণ এবং সৌর পর্যবেক্ষণ শেষ করে পৌঁছনো গেছে চূড়ান্ত ধাপে। এই শেষবারে একক নয়, ছিল দলগত প্রচেষ্টা। সেখানে ভারতের দল দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.