তেতে উঠেছে সূর্যের করোনা, প্রচণ্ড গতিতে গনগনে আগুন ছিটকে বেরোচ্ছে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রচণ্ড গতিতে ছিটকে বেরোচ্ছে আগুন। তড়িদাহত কণার স্রোত ছড়িয়ে পড়ছে মহাকাশে। সূর্যের এমন প্রলয়ঙ্কর চেহারা সচরাচর দেখা যায় না। সাধারণ সৌররশ্মির তেজ যতটা হয়, সূর্য থেকে ছিটকে আসা কণা বা সোলার পার্টিকলদের শক্তি ও বেগ দুটোই হয় বহুগুণ বেশি। এই সোলার পার্টিকলদের স্রোত কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তাই দেখিয়েছে নাসা।

ইনস্টাগ্রামে নাসা একটি ভিডিও পোস্ট করেছে যেখানে খুব কাছ থেকে সূর্যের পিঠ বা সারফেস দেখানো হয়েছে। সূর্যের বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে বাইরের স্তর করোনা, সেখান থেকেই প্রচণ্ড গতিতে সৌরকণারা ছিটকে বাইরে বেরিয়ে আসে। একে বলে ‘করোনাল মাস ইজেকশন’। ১০০ কোটি বা তারও অনেক বেশি পরমাণু বোমা এক সঙ্গে ফাটলে যে পরিমাণ শক্তির জন্ম হয়, এরা ততটাই শক্তিশালী। এরা প্রলয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটাতে পারে। নাসা দেখিয়েছে, প্রতি ঘণ্টায় ১০ লক্ষ মাইল গতিতে এই সৌরকণারা ছড়িয়ে পড়ছে মহাকাশে। নাসার সোলার ডায়নামিক্স অবজারভেটরিতে ধরা পড়েছে এই ছবি।

Calculating the speed of coronal mass ejections could avoid unneeded  satellite shutdown – Physics World

আমাদের পৃথিবীর যেমন অ্যাটমস্ফিয়ার আছে, সূর্যের তেমন অ্যাটমস্ফিয়ার আছে। সূর্যের পিঠ (সারফেস) ও তার উপরের স্তর করোনার মধ্যে তাপমাত্রার ফারাক অনেক। সারফেসের গড় তাপমাত্রা ৫৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। কোথাও ৫৮০০ ডিগ্রি আবার কোথাও ৫২০০ ডিগ্রি সেলসিয়ারের কাছাকাছি। করোনার তাপমাত্রা সেখানে প্রায় ২ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। কখনও তারও বেশি। এই করোনা উচ্চতাপমাত্রার প্লাজমা আবরণে ঢাকা। এখান থেকেই বেরিয়ে আসে তড়িদাহত কণার স্রোত। শুধু মহাকাশই নয়, সেই কণার স্রোত প্রভাবিত করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকেও।

Low probability, high impact' - Assessing solar threat to the power grid |  KGAN

এই করোনা স্তর থেকে সৌরঝড়ের জন্ম হয়। সূর্য থেকে বেরিয়ে আসা শক্তিশালী কণা ওর চৌম্বক ক্ষেত্রগুলিকে নিয়ে সৌরবায়ু বেরিয়ে আসে সূর্যের থেকে। আর তা ছড়িয়ে পড়ে আমাদের সৌরমণ্ডলের একেবারে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত। ধেয়ে আসে পৃথিবীর দিকেও। সাধারণত, সৌরবায়ুর গতিবেগ হতে পারে সেকেন্ডে ৫০০ কিলোমিটার। তবে নাসা জানাচ্ছে, তার গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৮ লক্ষ মাইলও।

কিছুদিন আগেই ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) জানিয়েছিল, সূর্যের পরিমণ্ডলে একটি ছিদ্র লক্ষ্য করা গেছে। সেই ফাটল পথেই প্রবল বেগে সৌরবায়ু ছিটকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসবে। এর প্রভাব পড়তে পারে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে। সৌরপদার্থবিজ্ঞানীরা বলেন, অসম্ভব শক্তিশালী সৌরকণারা যদি কোনওভাবে পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি চলে আসে তাহলে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হবে। সৌরকণাদের সম্মিলিত শক্তি যদি বেশি হয়, তাহলে পৃথিবীর রেডিও বা টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে তছনছ করে দিতে পারে। পৃথিবীর কাছাকাছিই রয়েছে চাঁদ। তাই এর প্রভাব পড়তে পারে চাঁদেও। আর চাঁদে যেহেতু চৌম্বকক্ষেত্রের বর্ম নেই তাই সরাসরি সৌরঝড় ধাক্কা দিতে পারে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More