করোনার নতুন টিকা আনছে সেরাম, জুলাইতে ট্রায়াল শিশুদের ওপরে, বাজারে আসবে সেপ্টেম্বরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরে মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট নোভাভ্যাক্সের টিকা ভারতে তৈরি করতে চলেছে পুণের সেরাম ইনস্টিটিউট। নোভাভ্যাক্সের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল আগেই, সেরাম প্রধান আদর পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। সব ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরেই ভ্যাকসিন চলে আসবে দেশের বাজারে। তার আগে জুলাইতে শিশুদের শরীরে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হতে পারে।

মেরিল্যান্ডের বায়োটেকনোলজি কোম্পানি নোভাভ্যাক্স ভ্যাকসিন তৈরির জন্যই জনপ্রিয়। এর আগে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিন বানিয়েছিল এই সংস্থা। নোভাভ্যাক্সের তৈরি কোভিড টিকার নাম করোভ্যাক্স (NVX-CoV2373)। সেরাম সিইও পুনাওয়ালা বলছেন, ভারতে এই টিকা নিয়ে আসার জন্য লাইসেন্স চেয়েছে নোভাভ্যাক্স। বিশ্বজুড়ে করোভ্যাক্স টিকার ট্রায়ালের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে টিকার কার্যকারিতা ও সুরক্ষা কতটা সে রিপোর্ট জমা করা হয়েছে।

SII-partner Novavax reports 90% efficacy, says focused first on developing  countries | World News,The Indian Express

নোভাভ্যাক্সের টিকা কেমন?

টিকার প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট টুইট করে জানিয়েছে নোভাভ্যাক্স। ১৩১ জন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবককে বেছে নেওয়া হয়েছিল প্রথম পর্বের ট্রায়ালের জন্য। এঁদের বয়স ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। ৫ ও ২৫ মাইক্রোগ্রামের ডোজে টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৮ দিনের মাথায় দ্বিতীয় ডোজ ইনজেক্ট করা হয়। নোভাভ্যাক্স জানিয়েছে, প্রথমবার ডোজের পরে আট জনের শরীরে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল যেমন জ্বর, ঝিমুনি, বমিভাব ইত্যাদি। তবে মৃদু উপসর্গ। কিছুদিনের মধ্যেই তা সেরে যায়। দ্বিতীয়বার ডোজ দেওয়ার পরে স্বেচ্ছাসেবকদের পর্যবেক্ষণে রেখে দেখা যায় ১০০ শতাংশের শরীরেই করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বি-কোষ সক্রিয় করে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করছে। অন্যদিকে, ভ্যাকসিনের ম্যাট্রিক্স-এম (Matrix-M) উপাদান টি-কোষকে সক্রিয় করে তুলেছে। ফলে একদিকে অ্যান্টিবডি, অন্যদিকে টি-কোষ মিলিতভাবে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলছে।

সেপ্টেম্বর থেকে একাধিক দেশি ও বিদেশি ভ্যাকসিন দেশের বাজারে আসার কথা রয়েছে। সেরাম জানিয়েছে, অক্সফোর্ডের চ্যাডক্স টিকার মতো নোভাভ্যাক্সের ভ্যাকসিনও দেশের বাজারে উৎপাদন ও বিতরণ করা হবে। টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগও প্রায় শেষের দিকেই। সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট জমা করা হবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অধীনস্থ ভ্যাকসিন কমিটির কাছে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই টিকায় ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে। সম্ভাবনা আছে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই টিকা চলে আসবে। নভেম্বর থেকে টিকার উৎপাদন আরও বাড়বে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More