দু’ঘণ্টায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরবে অ্যান্টিবডি টেস্ট, দক্ষিণ কোরিয়ার মডেল অনুসরণ করতে চলেছে আইসিএমআর

আরটি-পিসিআর টেস্ট যেমন খরচসাপেক্ষ, তেমনি এতে সময়ও লাগে অনেক। চটজলদি বহু মানুষের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য তাই অ্যান্ডিবডি টেস্টের দিকেই ঝুঁকতে চলেছে আইসিএমআর।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে এই মুহূর্তে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরতে আরটি-পিসিআর (RT-PCR Test) অর্থাৎ রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেন রিঅ্যাকশন টেস্ট চালু রয়েছে। দেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলিতে এই টেস্ট-কিটেরই দাম বেঁধে দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। তবে আরটি-পিসিআর টেস্ট যেমন খরচসাপেক্ষ, তেমনি এতে সময়ও লাগে অনেক। চটজলদি বহু মানুষের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য তাই অ্যান্ডিবডি টেস্টের দিকেই ঝুঁকতে চলেছে আইসিএমআর। তার জন্য নির্মাতা সংস্থাগুলিকে প্রায় পাঁচ লক্ষ টেস্ট-কিট বানানোরও নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

পাবলিক হেলথ ভাইরোলজির বিশেষজ্ঞ ও নিউরোভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ড. ভি রবি জানিয়েছেন, সংক্রমণ সন্দেহে বহু মানুষ তাঁদের নমুনা পরীক্ষা করতে দিচ্ছেন। এত বেশি সংখ্যক নমুনা শুধুমাত্র আরটি-পিসিআর টেস্ট দিয়ে করা সম্ভব নয়। ওই টেস্ট-কিটও ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া আরএনএ টেস্টে অনেক বেশি সময় লাগে। তাই অ্যান্টিবডি টেস্ট করেও ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে ধরে দেওয়া যাবে ওই ব্যক্তি কোভিড-১৯ পজিটিভ কিনা। দক্ষিণ কোরিয়াও এই মডেলই অনুসরণ করে একসঙ্গে বহু মানুষের সংক্রমণ রুখে দিয়েছে। ভারতও এই পথেই হাঁটতে চলেছে।

 

কী এই অ্যান্টিবডি টেস্ট (Antibody Test)?

 

ড. ভি রবি বলেছেন, আরটি-পিসিআর হল এমন একটি টেস্ট যাতে ধরা যায় শরীরে বাসা বাঁধা ভাইরাসের জিনোমের প্রকৃতি কী। অর্থাৎ সেটি আরএনএ ভাইরাস কিনা। কোভিড-১৯ সংক্রমণ হলে আরটি-পিসিআর টেস্টেই নির্ভুল রেজাল্ট পাওয়া যায়। তবে এই টেস্ট করতে বহু সময় লাগে এবং খরচও অনেক। চটজলদি পরীক্ষার জন্য স্ক্রিনিং-টেস্ট কার্যকরী। অ্যান্টিবডি টেস্ট হল এমনই একটি স্ক্রিনিং-টেস্ট (Screening Test)। ভাইরাস আক্রান্ত হলে শরীরে কী কী উপসর্গ দেখা দিচ্ছে তার বিশ্লেষণ করেই ওই ব্যক্তি সংক্রামিত কিনা সেটা ধরা যায় অ্যান্টিবডি টেস্টে।

আইসিএমআর সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশের সবকটা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে বহু মানুষের ভিড়। তাঁদের মধ্যে কারা কারা সংক্রামিত সেটা দ্রুত ধরা যাবে এই টেস্টের মাধ্যমেই। যদি অ্যান্টিবডি টেস্ট করে দেখা যায় ওই ব্যক্তির শরীরে সত্যিই সংক্রমণ রয়েছে তাহলে তার আরটি-পিসিআর টেস্ট করে নিশ্চিত রেজাল্ট দেওয়া হবে।

এই অ্যান্টিবডি টেস্টও খুব সহজ পদ্ধতিতে করা হয়। ড. ভি রবি বলেছেন, এক ফোঁটা রক্ত দিয়েই ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে জানা যায় সংক্রমণ হয়েছে কিনা। তবে এই টেস্ট শুধুমাত্র সংক্রমণ ধরতে পারে, কোভিড-১৯ পজিটিভ কিনা সেটা বোঝা যায় না। তার জন্য আরএনএ টেস্টের দরকার হয়। ডাক্তাররা বলছেন, এই স্ক্রিনিং টেস্ট করে আক্রান্ত রোগীদের যদি আলাদা করে শনাক্ত করা যায়, তাহলেই তাঁদের দ্রুত চিকিৎসা সম্ভব। একদিনেই বহু রোগীকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একজন যদি কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়, তাহলে তার সংস্পর্শে আসা ১০০০ জনকে একদিনেই স্ক্রিনিং করা সম্ভব হবে এই টেস্ট-কিটের মাধ্যমে।

পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (NIV)-র অনুমোদনে আরটি-পিসিআর টেস্ট কিটকে ছাড়পত্র দিয়েছে আইসিএমআর। কোভিড-১৯ পজিটিভ হোক বা নেগেটিভ, দ্রুত ধরা পড়বে এই টেস্ট-কিটে। শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতাল বা ল্যাবোরেটরিগুলির উপর ভরসা না রেখে বেসরকারি কোম্পানিগুলিকেও ভাইরাস-টেস্টের অনুমতি দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া ( ডিজিসিআই )। সেই কোম্পানিগুলি নিজেদের ল্যাবোরেটরিতে কোভিড-১৯ সংক্রমণের টেস্ট করতে পারবে, সেই কিটও বিক্রি করতে পারবে তারা। তবে এই ল্যাব-টেস্টের জন্য ইচ্ছামতো দাম নয়, প্রতিটা কোভিড-১৯ স্যাম্পেল টেস্টের দাম কত হবে তার নির্দিষ্ট মাপকাঠি ঠিকও করে দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।বলা হয়েছে, প্রতিটা কোভিড-১৯ স্যাম্পেল টেস্টের খরচ যেন সাড়ে চার হাজার টাকার বেশি না হয়। স্ক্রিনিং টেস্টের জন্য ১,৫০০ টাকা এবং রোগীর নমুনায় সংক্রমণ রয়েছে কিনা সেটা জানার জন্য পরীক্ষা অর্থাৎ ‘কনট্যামিনেশন টেস্ট’-এর জন্য ধার্য করা হয়েছে ৩০০০ টাকা।

আইসিএমআর জানিয়েছে, এই আরটি-পিসিআর টেস্ট-কিটের পাশাপাশি প্রায় পাঁচ লাখ অ্যান্টিবডি টেস্ট-কিটও দরকার। মুম্বই, পুণে, হায়দরাবাদ, ভোপাল, দিল্লিতে এখনও দামি আরটি-পিসিআর টেস্ট কিট দিয়েই স্যাম্পেল পরীক্ষা হচ্ছে। সে জায়গায় পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট চলে এলে তাড়াতাড়ি স্ক্রিনিং করা সম্ভব হবে।

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.