গে স্বামী আর স্ট্রেট স্ত্রী! দুই সন্তান নিয়ে দিব্যি টিকে তাঁদের দাম্পত্য, কীভাবে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিন এমব্লে আর ম্যাথিউ নিয়েলসন। একজনের বয়স ৩৫ আর একজন ৩৩-এ পা দিয়েছেন। বেশ কয়েকবছর হল তাঁদের বিয়ে হয়েছে। রয়েছে দুই সন্তানও। দিব্যি চলছে সংসার। কিন্তু মার্কিন এই দম্পতির সম্পর্কের সমীকরণটা আর পাঁচটা দাম্পত্যের মতো নয়। কারণ ম্যাথিউ নিয়েলসন সমলিঙ্গে আকৃষ্ট পুরুষ (Gay), আর তাঁর স্ত্রী ব্রিন এমব্লে তেমনটা নন।

দেশজুড়ে ন্যাসের পরীক্ষা হয়ে গেল শুক্রবার, স্কুলে ফিরল কচিকাঁচারা

মনোবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেন ম্যাথিউ। তিনি বলেন, তিনি পুরুষদের প্রতি যতটা আকৃষ্ট, মহিলাদের প্রতি তত নন। বিয়ের আগে একাধিক পুরুষ এবং মহিলার সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি। তাতেই বুঝেছেন তিনি কী চান, কোন সঙ্গ তিনি বেশি উপভোগ করেন। নিজেকে সমকামী বা গে বলেই অভিহিত করেন ম্যাথিউ। তবে পুরুষদের পছন্দ হলেও বিয়েটা তিনি সেরেছেন মহিলার সঙ্গেই। তাও এক অন্য ভাললাগা থেকে।

ব্রিন ম্যাথিউ, দুজনেই জানান, তাঁরা ভাল আছেন, সুখে আছেন। কিন্তু কীভাবে? এই ভাল থাকার রহস্য কী? সমলিঙ্গে আকৃষ্ট হয়েও কীভাবে বিপরীত লিঙ্গের এই দাম্পত্য টিকিয়ে রেখেছেন ম্যাথিউ? নিজেরাই ফাঁস করেছেন সে কথা।

তাঁরা জানিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে একটা ‘সেক্স ফিডব্যাক সেশন’ চলে তাঁদের মধ্যে। সেখানে তাঁরা নিজেদের যৌন জীবন নিয়ে আলোচনা করেন। একে অপরকে জানান, নিজেদের অনুভূতির খুঁটিনাটি। কী করলে যৌন জীবন আরও উপভোগ্য করে তোলা যায়, তা নিয়ে একে অপরকে পরামর্শও দেন ব্রিন আর ম্যাথিউ। আর এই মন্ত্রেই টিকে থাকে তাঁদের সম্পর্ক। কারও কোনও লুকোছাপা নেই। দুজনেই দুজনের সঙ্গে ভাগ করে নেন যাবতীয় অভিজ্ঞতা, অনুভূতি।

নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রতিই আকর্ষণ বিরল নয়। যাঁরা দুই লিঙ্গেই সমান আকৃষ্ট, তাঁদের বাইসেক্সুয়াল বা প্যানসেক্সুয়াল বলে। কিন্তু নিজেকে সেই পর্যায়ে ফেলতে নারাজ ম্যাথিউ। কারণ তাঁর মনে হয়, তিনি পুরুষদের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট। দুই লিঙ্গের প্রতি তাঁর আকর্ষণ সমান নয়।

ম্যাথিউ নিজেই বলেন, গে পুরুষরা বলে থাকেন কোনও মহিলার সঙ্গে সহবাসের কথা তাঁরা ভাবতেই পারেন না। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে বিষয়টা তেমন নয়। ব্রিন এমব্লের সঙ্গেও সুখেই আছেন তিনি। সহবাসে সমস্যা হয় না। মনোবিজ্ঞান নিয়ে চর্চা করেন ম্যাথিউ। নিজের জীবনটাকেও গবেষণার ছকেই ফেলেছেন।

স্বামীকে নিয়ে সমস্যা নেই ব্রিনেরও। তিনি জানিয়েছেন, মাঝে মাঝে খানিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় তাঁকে। মনে হয়, ম্যাথিউ হয়তো সুখে নেই তাঁর সঙ্গে। কিন্তু সবটাই শেষ পর্যন্ত কেটে যায়। দুটি ছেলেমেয়েকে নিয়ে দিব্যি দিন কাটে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.