ত্রিপুরায় সিপিএমের শক্তি প্রদর্শন, জেলায় জেলায় মিছিল

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল-বিজেপি থেকে দুম করে ত্রিপুরার রাজনীতির আলোচনা ঘুরে গিয়েছে সিপিএম-বিজেপিতে। বুধবার অগ্নিগর্ভ ত্রিপুরার ছবি দেখা গিয়েছিল। সিপিএমের রাজ্য দফতর সহ একাধিক পার্টি অফিস, গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা যখন জাতীয় স্তরেও আলোচিত হচ্ছে তখন বৃহস্পতিবার ফের একবার নিজেদের শক্তি দেখাতে চাইল সিপিএম।

গতকাল রাতেই ত্রিপুরা সিপিএম জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার আগরতলা শহরে প্রতিবাদ মিছিল করবে তারা। এদিন সেই মিছিল হয়েছে। তা বহরে এতটাই বড় ছিল যে সাম্প্রতিক সময়ে কবে সিপিএম রাজধানীতে এই রকম মিছিল করেছে তা অনেকেই মনে করতে পারছেন না।

ত্রিপুরা সিপিএমের নেতাদের একটা উদ্বেগের বিষয় ছিল, আগরতলায় কর্মসূচি ডাকলে জমায়েত হয় ঠিক কথা কিন্তু জেলাগুলিতে তা হয় না। এর পিছনে ভয়কে প্রধান কারণ বলে মনে করতেন আগরতলার মেলার মাঠ এলাকার দশরথ দেব স্মৃতি ভবনের নেতারা। দেখা গেল এদিন প্রায় সব জেলাতেই মিছিল করল সিপিএম। কৈলাশহর, তেলিয়ামুড়াম গন্ডাছড়া-সহ বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় মিছিল করল লালঝান্ডার কর্মীরা।

গত সোমবার থেকেই সিপিএম-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হতে থাকে ত্রিপুরা। মানিক সরকারের কেন্দ্র ধনপুরে সিপিএমের মিছিল ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে সিপিএমের বিরুদ্ধে। বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটে ত্রিপুরায়। প্রথমে উদয়পুরে বিজেপি কর্মীদের সিপিএমের মার তারপর বিকেলে সিপিএমের রাজ্য দফতর সহ একাধিক পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিজেপি অভিযোগ করেছিল সিপিএম সন্ত্রাস চালিয়েছে। বিকেলে সিপিএম অভিযোগ করে বিজেপির বিরুদ্ধে।

বুধবার আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে আগরতলার মেলার মাঠে সিপিএমের রাজ্য দফতর দশরথ দেব স্মৃতি ভবনেও। আগুন নেভাতে পৌঁছয় দমকল। সিপিএমের পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা দফতর আগরতলার ভানু ঘোষ স্মৃতি ভবন, বিশালগড় মহকুমা অফিসেও আগুন লাগানো হয়। সংবাদমাধ্যমের গাড়িতেও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দফতরেও হামলা হয় বলে অভিযোগ। সমস্ত ক্ষেত্রেই কাঠগড়ায় গেরুয়া শিবির। রাজ্য দফতরে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে তখন মানিক সরকার ছিলেন শিশু বিহার স্কুলের পিছনে বাসভবনে। খবর পেয়েই সেখানে আসেন তিনি। মানিক সরকার বলেন, মানুষ ভয় ভেঙে রাস্তায় নামছে দেখে শাসকদল ভয় পেয়ে গেছে। কিন্তু এসব করে আটকানো যাবে না। সরকার সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেছে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামবেন। এদিন বিপুল সংখ্যক মানুষকে রাস্তায় নামাল সিপিএম। যদিও বিজেপির বক্তব্য, কিছু হার্মাদকে মানিকবাবুরা অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ত্রিপুরার সাধারণ মানুষ ফের ওদের ঘরে ঢুকিয়ে দেবে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.