ধূলিধূসরিত রাস্তার সৌজন্যে রসিকবিলের পথ মাড়াচ্ছেন না পর্যটক

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শীত পড়তেই প্রতিবছর পর্যটকদের ভিড় জমে সেখানে। কিন্তু এবছর পর্যটকশূন্য অবস্থা। খাঁ খাঁ করছে এক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। তুফানগঞ্জের রসিকবিল চিড়িয়াখানা। শীত পড়লেও কেন আসছেন না পর্যটক? জানা গিয়েছে, ধূলিধূসরিত রাস্তার সৌজন্যে রসিকবিলের পথ মাড়াচ্ছেন না কেউ। ফলে শুনশান রসিকবিল।

কোচবিহারের শেষ প্রান্তেই রয়েছে রসিকবিল মিনি জু পর্যটন কেন্দ্র। শীত এলেই সেখানে দলে দলে পর্যটক ভিড় জমান। চিতাবাঘ, হরিণ, মেছো বিড়াল, ময়ূর, অজগর ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মেলে সেখানে। স্থানীয় মানুষ তো বটেই ভিনরাজ্যের পর্যটকদের আগমনেও গমগম করে মিনি জু। পাশের ছোট ছোট রেস্টুরেন্টগুলিতে ভিড়ে লেগে থাকে। কিন্তু এবছর রসিকবিলের ছবিটা সম্পূর্ণ অচেনা। এখন সেখানে পর্যটকদের দেখা মেলা ভার। কেন এমন দশা?

জানা গিয়েছে, তুফানগঞ্জ-হরিপুর জাতীয় সড়ক থেকে রসিকবিল কামাখ্যাগুড়ি রাজ্যসড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। খানাখন্দে ভরা সেই পথে গাড়ি গেলেই ধুলো উড়ছে। সেই ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। বছর পাঁচেক আগে শেষবার রাস্তাটির সংস্কার হয়েছিল। তারপর আর তাতে হাত পড়েনি। চিড়িয়াখানায় ঢোকার মুখের রাস্তাটির দফারফা অবস্থা। পুজোর আগেও কিছু অংশে তাপ্পি দেওয়ার কাজ হয়েছিল। কিন্তু অল্পদিনে তাও উঠে গিয়েছে। সেই বেহাল রাস্তা দিয়েই বাস, ডাম্পার সহ ভারী গাড়ি চলাচল করে। এর ফলে রাস্তা ক্রমশ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ফলে মরশুমের শুরুতেই পর্যটনে জোর ধাক্কা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বেহাল রাস্তার কারণেই কার্যত রসিকবিল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পর্যটকরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। একই বক্তব্য স্থানীয় বাসিন্দাদেরও। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিড়িয়াখানার সামনের রাস্তায় ধুলো ভর্তি। গাড়ি চলাচল করলেও সেই ধুলোয় দোকানপাট, দোকানের জিনিসপত্র ধুলোয় ভরে যায়। আর এই ধুলোর জেরেই প্রাণ ওষ্ঠাগত মানুষের। রাজ্যসড়কের ওপর সেই ৯ কিলোমিটার রাস্তা সারানো না হলে ধীরে ধীরে রসিকবিলের নাম মানুষের মন থেকে মুছে যাবে। পর্যটকরা আর এমুখো হবেন না।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.