হু কি চিনকে সমঝে চলে? ‘শি’ নয় ‘ওমিক্রন’ কেন?

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রিক বর্ণমালার একটি করে অক্ষর ধরে ধরে নামকরণ করা হচ্ছিল করোনার এক একটি নতুন প্রজাতির ভাইরাসের। আলফা, বিটা, গামার পরে ডেল্টা, ল্যামডা– এভাবে এগোচ্ছিল পরবর্তী প্রজাতির নাম। সেই মতোই, এবার করোনার যে নতুন ভ্যারিয়েন্টের হদিস মিলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা এবং হংকংয়ে, তার নাম হওয়ার কথা ছিল ‘নিউ’ (এনইউ)। বিজ্ঞানীরাও ভেবেছিলেন এই নামই হতে চলেছে নতুন করোনা প্রজাতির। কিন্তু নিউ অক্ষরটি বাদ দিয়ে, আরও এক ধাপ এগিয়ে ওই ভ্যারিয়েন্টের নাম দেওয়া হয়েছে ওমিক্রন।

তবে এর পেছনে আছে বিশেষ কারণ।

নতুন এই প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম বি.১.১.৫২৯। শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, হু সিদ্ধান্ত নেয়, নতুন এই স্ট্রেনের নাম দেওয়া হবে ওমিক্রন। প্রসঙ্গত, নিউ-এর পরে ছিল গ্রিক বর্ণ জাই, যার বানান হল Xi, অর্থাৎ ‘শি’। এই দুটিকেই বাদ দিয়ে বাছা হয়েছে পরবর্তী বর্ণ ওমিক্রন।

সে যাই হোক না, কেন, চিনের সঙ্গে করোনার যোগ অত্যন্ত নিবিড়। তাই এই পরিস্থিতিতে চিনের প্রেসিডেন্টের নামে করোনার ভাইরাসের নামকরণ হলে খারাপ বার্তা যেতে পারে বিশ্বের দরবারে। এসব ভেবেই শি-কে এড়াতে একবারে দু’ধাপ এগিয়ে সামনে এসেছে ওমিক্রনের নাম।

হু জানিয়েছে ওমিক্রন প্রজাতি ডেল্টার থেকেও সংক্রামক, ঝড়ের গতিতে জিনের গঠন বদলে ফেলতে পারে। একে সুপার-স্প্রেডার এই প্রজাতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বা ‘ভ্যারিয়ান্ট অব কনসার্ন’ বলে ঘোষণা করেছে হু।

ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, গত বছর মার্চ থেকে করোনার যে প্রজাতি ভারতে ছড়াতে শুরু করেছিল তা এখন অনেক বদলে গিয়েছে। সুপার-স্প্রেডার হয়ে উঠেছে, মানে অনেক দ্রুত মানুষের শরীরে ঢুকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। সার্স-কভ-২ হল আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) ভাইরাস। এর শরীর যে প্রোটিন দিয়ে তৈরি তার মধ্যেই নিরন্তর বদল হচ্ছে। এই প্রোটিন আবার অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে সাজানো। ভাইরাস এই অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলোর কোড ইচ্ছামতো বদলে দিচ্ছে। কখনও একেবারে ডিলিট করে দিচ্ছে। এইভাবে বদলের একটা চেইন তৈরি হয়েছে। আর এই এই রূপ বদলের কারণেই নতুন নতুন প্রজাতির দেখা মিলতে শুরু করেছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.