দিল্লির হাসপাতালে ৫ দিনে করোনা জয় করে সুস্থ এক মাসের বাচ্চা

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির মুলচাঁদ হাসপাতালে মাত্র ৫ দিনে করোনাভাইরাস (coronavirus) জয় করে বাড়ি গেল এক মাসের শিশু (one month child)। শরীরে অস্বাভাবিক অস্থিরতা, খাবার  ইচ্ছে কম থাকার সমস্যা নিয়ে বাচ্চাটিকে ভর্তি করা হলে পরীক্ষা করিয়ে ডাক্তাররা দেখেন, তার জ্বর (fever), কানে ইনফেকশন (ear infection) হয়েছে। হাসপাতালের প্রি-অ্যাডমিশন পলিসি অনুসারে বাচ্চাটির Rapid অ্যান্টিজেন টেস্ট করিয়ে করোনা পজিটিভ (covid 19) ধরা পড়ে বলে জানান শিশুবিভাগের বিশেষজ্ঞ ডঃ প্রীতি চাড্ডা। বাচ্চাটিকে কোভিড আইসোলেশন ওয়ার্ডে এনআইসিইউতে ভর্তি করিয়ে ইনট্রাভেনাস ফ্লুইড ও অ্যান্টিবায়োটিকস দেওয়া হয় কানে  সংক্রমণের জন্য। চারদিন তার ওপর গভীর নজর রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত অবস্থার উন্নতি হলে আমরা ওকে ছেড়ে দেওয়ার  সিদ্ধান্ত নিই।

চাড্ডা জানান,  গত ২ সপ্তাহে তাঁদের হাসপাতালে কোভিড ১৯ সংক্রমিত ৩ থেকে ৫টি শিশু এসেছিল।  তবে ওদের শরীরে মৃদু সংক্রমণ থাকায় আমরা  হোম আইসোলেশনে রাখার পরামর্শ দিই। বাচ্চার গভীর শারীরিক সমস্যা ছাড়া হাসপাতালে রাখার দরকার পড়ছে না।

এইমস-এর জনৈক ডাক্তার জানিয়েছেন,  গত ২ সপ্তাহে বাচ্চাদের মধ্যে কোভিড ১৯ সংক্রমণ বেশ বেড়েছে। তবে কম বাচ্চাকেই হাসপাতালে রাখতে  হয়েছে। ভারতে যে সীমিত তথ্য পরিসংখ্যান হাতে এসেছে, তাতে পরিষ্কার, ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ  হাসপাতালে  ভর্তি হওয়া শিশুর কোমর্বিডিটি আছে। ৯ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে দিল্লির সরকারি হাসপাতালে  ৩৭টি কোভিড ১৯ এ মৃত্যুর ক্ষেত্রেও এটাই দেখা গিয়েছে। ৩৭ জনের মধ্যে সাতজনের বয়স ১৮র কম। তিনজনের এক বছরও পূর্ণ হয়নি।  এই বাচ্চাদের বেশিরভাগেরই থ্যালাসেমিয়া, কনজেনিটাল হার্টের অসুখের মতো কোমর্বিডিটি ছিল। আরেকটি শিশু হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডঃ অনামিকা দুবেও জানিয়েছেন, কোভিড ১৯ সংক্রমিত খুব কম বাচ্চাকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে পেডিয়াট্রিকস বিভাগে ১০-১২ টি বাচ্চা ভর্তি হয়েছে।  অধিকাংশই ভর্তি  হয়েছে পুষ্টি ঠিকঠাক না হওয়ায় ও জ্বর থেকে ডিহাইড্রেশনের দরুন।

সময়মতো মাল্টি সিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিনড্রোম চিহ্নিত করার জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, নজরদারি জরুরি বলে মত ডাক্তারদের। বেশিরভাগ বাচ্চাই জ্বর, গলা ব্যাথা, সর্দি কাশিতে ভোগে কোভিড ১৯ এ। খুব সামান্য অংশেরই নিউমোনিয়া, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়ার সমস্যা হয়। এগুলি হলে কিন্তু দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়। নইলে বিপদ, ঝুঁকি বাড়ে শিশুদের ক্ষেত্রে।’

 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.