‘রিহানা-গ্রেটাদের চিনি না, তবে ওরা আন্দোলন সমর্থন করলে অসুবিধা কী’, বললেন কৃষকনেতা রাকেশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যতই চাপ আসুক আর বাধা আসুক, কৃষক আন্দোলন ‘অরাজনৈতিক’ই থাকবে। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় দিল্লির বিদ্রোহ মঞ্চ থেকে জানিয়ে দিল সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। তাদেরই নেতৃত্বে এতদিন ধরে আন্দোলন চলছে রাজধানীর বুকে। তারা জানাল, কোনও রাজনৈতিক নেতাকে এই আন্দোলনের মঞ্চ থেকে কথা বলতে দেওয়া হবে না।

তবে বিদেশি কোনও মানুষ এ আন্দোলনকে সমর্থন করলে কোনও সমস্যার কারণ নেই। এমনটাই জানিয়ে দিলেন কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত। যদিও তিনি মার্কিন পপস্টার রিহানা বা সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটাকে চেনেন না মোটেই। কিন্তু আন্দোলনের পাশে সকলেই থাকতে পারেন বলেই জানিয়ে দেন তিনি।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির সিঙ্ঘু, গাজিপুর, তিকরি সীমান্তে কৃষিবিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন কৃষকরা। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের বড় সংখ্যক কৃষক এই বিদ্রোহে সামিল। সারা দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসেছে সমর্থন। এর মধ্যেই বারবারই দেখা গেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা পৌঁছেছেন সেখানে, কৃষকদের সংহতি জানিয়েছেন। কিন্তু এর বেশি কোনও রাজনৈতিক পরিচয় যেন ছাপ না ফেলে আন্দোলনে, সে নিয়ে সচেতন কৃষকরা।

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতা দর্শন পাল একটি বিবৃতি জারি করে বলেন, “গোড়া থেকেই এই আন্দোলন অরাজনৈতিক আছে, তাই থাকবে। যে কোনও দলের বা নেতাদের সমর্থন আমরা সাদরে গ্রহণ করছি, কিন্তু কোনও ভাবেই এই মঞ্চ কোনও নেতাকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।”

Ongoing Agitation Will Remain Apolitical: Farmers' Union

আরও বলা হয়, “আমাদের গলার স্বর রুদ্ধ করে দেওয়ার যে চেষ্টা সরকার করছে, তা জারি আছে। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় মানুষরা সমস্যায় পড়েছেন। ছাত্রছাত্রীদের সামনে পরীক্ষা, তারাও মহা সমস্যায় পড়ছে। একদিকে ডিজিটাল ইন্ডিয়া নির্মাণের স্বপ্নে মশগুল ভারত, অন্যদিকে সেই দেশের মানুষকেই ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে না। তার উপরে এই সরকারের নিন্দা করলেই তাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, নানা ভাবে অপমান করা হচ্ছে।”

এসবের মাঝেই আন্তর্জাতিক মহল থেকে সমর্থন এসেছে কৃষক আন্দোলনে। পপস্টার রিহানার টুইট হইচই ফেলে দেয় মঙ্গলবার। তিনি লেখেন, “আমরা কেন এই কৃষক আন্দোলন নিয়ে কথা বলছি না।” আন্দোলনের সপক্ষে টুইট করেন পর্নস্টার মিয়া খলিফাও। এর পরেই সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকারী তরুণী গ্রেটা থুনবার্গের টুইট আসে, আন্দোলনের সপক্ষে জোট বাঁধতে ও বিক্ষোভ দেখাতে বলে। সে টুইট নিয়ে বিস্তর গোলযোগ হয়, তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর পর্যন্ত দায়ের করে দিল্লি পুলিশ। যদিও তাতে দমে না গিয়ে গ্রেটা সঙ্গে সঙ্গেই জানিয়ে দেন যে শত হুমকি, ঘৃণার পরেও তিনি কৃষকদের সপক্ষেই থাকবেন।

Image result for rihana greta mia khalifa

যদিও বিশ্বজুড়ে এ তোলপাড়ের আঁচ খুব একটা সরাসরি এসে পৌঁছয়নি আন্দোলনের মঞ্চে। তাঁদের চেনেনই না বেশিরভাগ কৃষক। কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত এদিন বলেন, “এই বিদেশি তারকারা কারা? ওরা আমাদের সমর্থন করেছে শুনেছি, তবে আমি রিহানা, গ্রেটাদের চিনি না। কিন্তু কোনও বিদেশি আমাদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়ালে তো কোনও সমস্যা নেই!”

আন্তর্জাতিক মহলের এই সমর্থন অবশ্য মোটেও ভালভাবে নেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তড়িঘড়ি টুইট করে জানিয়ে দেয় এই আন্দোলন দেশের নিজস্ব ও অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। গতকাল দেশের নানা সেলেব্রিটি, সচিন, লতা মঙ্গেশকর, অক্ষয়কুমাররাও টুইট করে দেশের ‘গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের’ কথা মনে করিয়ে দিয়ে দাবি করেন, এ সমস্যা ভারত নিজেই মিটিয়ে নিতে পারবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More