ভোলার গুঁতোয় একাধিক মৃত্যু, তটস্থ কাটোয়ার গ্রামবাসীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ সিনেমায় ভোলা নামক একটি ষাঁড়কে (Ox) দিয়ে স্বয়ং যমরাজকে তাড়া করিয়েছিলেন গল্পের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার সিনেমার পর্দায় নয়, সেই ভোলা ফিরে এলে একেবারে বাস্তবের মাটিতে।

আমরুল্লার বাড়িতে তল্লাশিতে মিলেছে সাড়ে ৬ লাখ মার্কিন ডলার, ১৮টি সোনার ইট! দাবি তালিবানের

কাটোয়া (Katoa) ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত মোস্তাফাপুর গ্রামের অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়ানো ভোলা নামেরই একটি ষাঁড়ের তাণ্ডবে আতঙ্কিত গোটা মোস্তাফাপুর। গ্রামবাসীদের দাবি, পূর্বে ভোলা বেশ শান্ত স্বভাবের ছিল। তাঁদের দেওয়া আনাজের খোসা, খাবার, জল খেয়ে দিব্যি দিন কাটাচ্ছিল। তার শান্ত খোশমেজাজ স্বভাবের জন্য গ্রামবাসীরাই আদর করে নাম দিয়েছিল ভোলা।

বিপত্তি শুরু হয় প্রায় তিন বছর আগে। হঠাৎ করেই ভোলার শান্ত স্বভাব পাল্টাতে থাকে। গ্রামের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানো ভোলা হঠাৎ করেই ক্ষেপে ওঠে। তান্ডব শুরু করে রাস্তায় রাস্তায়। গ্রামের মানুষদের বেশ কয়েকবার শিং দিয়ে আক্রমণও করে।

২০১৯ সালে ভোলার গুঁতো খেয়ে প্রাণ হারায় অশোক ঘোষ নামে এক ব্যক্তি। তারপর থেকে তিন বছর ধরে কখনও কম কখনও বেশি জারি রয়েছে ভোলার অত্যাচার। গত কয়েকদিন ধরে যা চরমে উঠেছে। সোমবার রাতে ভোলার শিংয়ের গুঁতোয় প্রাণ হারিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস নামে আরও এক ব্যক্তি। আগে যে ভোলাকে গ্রামের মানুষ আদর করে খাবার খাওয়াত, আজ সেই ভোলাকে দেখলেই আতঙ্কে ঘরে খিল দিচ্ছে গ্রামবাসীরা।

সেই গ্রামেরই এক গৃহবধূ টুকু বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগে ভোলা রাস্তায় থাকলে তার পাশ দিয়ে স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করা যেত, কিন্তু এখন ভোলা রাস্তায় থাকলে আতঙ্কে সবাই ঘরে খিল দেয়। এখনও পর্যন্ত ভোলার শিংয়ের গুঁতোয় প্রায় ৫০ জন জখম হয়েছেন। সরকারের কাছে ভোলাকে ধরে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা সুকান্ত বিশ্বাস জানান, ভোলার অত্যাচারে তাঁরা আতঙ্কিত। ভোলার এই দৌরাত্ম্যের কথা দীর্ঘদিন ধরেই বন দফতর ও প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরে জানানো হচ্ছে, কিন্তু তাতে কোনো ফল হয় নি।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ঘটনার কথা জানতে পেরে তিনি কাটোয়ার বান্দরা গ্রামের ঘোষদের ভোলা কে ধরে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, ভোলার আতঙ্ক থেকে গ্রামবাসীদের শীঘ্রই মুক্তি দেওয়া হবে।

আপাতত যতদিন পর্যন্ত ভোলাকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত গ্রামবাসীদের এভাবেই ভোলার আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে প্রাণভয়ে দিন কাটাতে হবে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More