‘মামু পান্তুয়া খামু!’ রানাঘাটের হরিদাস পালের দোকানে নাকি পান্তুয়া খেতেন ভানু ও রবি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিষ্টি কথাটার মধ্যেই যেন মন ভাল করে দেওয়া একটা ব্যাপার আছে। আর কথায় বলে, মিষ্টি খেতে ভালবাসেন না এমন বাঙালি নাকি বিরল! হবে নাই বা কেন, এ রাজ্যের এক এক প্রান্তে বিভিন্ন মিষ্টির যা মাহাত্ম্য রয়েছে, তাতে মিষ্টি নিয়ে যেন আস্ত এক উপন্যাসই লিখে ফেলা যায়।

বর্ধমানের সীতাভোগ মিহিদানা, কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া, কলকাতার রসগোল্লার কথা তো অনেকেই জানেন। কিন্তু জানেন কি, এদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাল্লা দিতে পারে রানাঘাটের পান্তুয়াও!

দেখতে গেলে পান্তুয়া তেমন বিশেষ কোনও মিষ্টি নয়। সব জায়গাতেই তৈরি হয় পান্তুয়া। কলকাতারও বেশ কিছু দোকান এই পান্তুয়া তৈরিতে বিখ্যাত। কিন্তু রানাঘাটের পান্তুয়ার আভিজাত্যই আলাদা। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আমল থেকেই তা প্রবাদ-প্রসিদ্ধ।

পান্তুয়া বলতে সাধারণত আমরা জানি গাঢ় বাদামি রঙের দেখতে, ওপরটা তুলতুলে পাতলা। কিন্তু রানাঘাটের পান্তুয়ার আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য আছে। এই পান্তুয়ার ওপরের অংশটা বেশ কালো এবং শক্ত। এই স্বাদই জনপ্রিয় হয়েছে। রানাঘাট শহর জুড়ে প্রায় ৫০টির বেশি মিষ্টির দোকান রয়েছে, সমস্ত দোকানেই পান্তুয়া বিখ্যাত। স্থানীয়রা বলেন, এখনও যে কোনও অনুষ্ঠানে পান্তুয়ার একচেটিয়া চল রয়েছে। সেদিক থেকে এখনও নদিয়ার রানাঘাট তার কৌলীন্য ধরে রেখেছে।

রানাঘাটের বাসিন্দারা জানেন, পান্তুয়া বললেই সেখানকার কয়েকটা পুরনো দোকানের নাম চোখের সামনে ভেসে ওঠে। প্রয়াত মিষ্টি ব্যবসায়ী হরিদাস পালের শহরে এই মিষ্টির জুড়ি নেই। অনুষ্ঠান বাড়িতেও আজও এই পান্তুয়ার বিশেষ কদর রয়েছে।

আবার যোগেশ্বর প্রামাণিক ওরফে জগু ময়রার দোকানের পান্তুয়ারও বেশ নামডাক আছে। মিষ্টি ব্যবসায়ী প্রভাত প্রামাণিক জানান, সেই সময় মিষ্টির এক অনির্বচনীয় স্বাদ ছিল। ছানার গুণগত মানের উপরে যে মিষ্টির ভালমন্দ নির্ভর করে, তা কে না জানে। রানাঘাটের পান্তুয়া সেই পরম্পরা এখনও ধরে রেখেছে। দেশের বাইরেও এর কদর কম নয়। রানাঘাটের জগু ময়রার দোকানের পান্তুয়া চলে যায় আমেরিকাতেও!

রানাঘাট শহরের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে এখনও বেশ কিছু মিষ্টির দোকান রয়েছে। কয়েক’টি বেশ পুরোনো। সেই সব দোকানেই মেলে পান্তুয়া। শোনা যায়, হরিদাস পালের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পান্তুয়া খেতেন প্রয়াত চিত্রাভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, রবি ঘোষ থেকে অভিনেত্রী-সাংসদ সন্ধ্যা রায়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More