ডেরেকের খোঁচা, শান্তনুর কাগজ ছেঁড়া, ক্ষোভ উগরে দিলেন মোদী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেগাসাস প্রশ্নে সংসদ অচল। অথচ তার মধ্যে যে টুকু ফাঁকফোকর পাওয়া যাচ্ছে তার সুযোগেই একের পর এক বিল সংসদে পাশ করিয়ে নিচ্ছে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সোমবার তা নিয়ে খোঁচা দিয়ে রাজ্যসভায় তৃণমূল নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন বলেছিলেন, সংসদে বিল পাশ হচ্ছে নাকি পাপড়ি চাট বানানো চলছে।

মঙ্গলবার বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে তা নিয়েই ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন সংসদের অ্যানেক্স ভবনে সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্লামেন্টকে অপমান করা হচ্ছে। বিল পাশকে পাপড়ি চাট বানানো বলা হচ্ছে। মন্ত্রীর কাছ থেকে বিবৃতি ছিনিয়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। এটা ঠিক হচ্ছে না।

কদিন আগে রাজ্যসভায় রেল ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণর হাত থেকে বিবৃতি ছিনিয়ে নিয়ে তা ছিঁড়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন। তা নিয়ে তখনও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল শাসক দল। তার পর রাজ্যসভায় প্রস্তাব পাশ করে শান্তনু সেনকে বাদল অধিবেশনের পুরো মেয়াদের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এদিন সংসদীয় দলের বৈঠকের পর সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, যে ভাবে সংসদ চলছে তা দেশের জন্য ভাল হচ্ছে না। সংসদীয় গরিমা নষ্ট হচ্ছে। সরকার কিন্তু সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।

সমস্যা হল, কংগ্রেস সহ বাকি বিরোধীরা যে ভাবে সংসদে আলোচনা চায়, শাসক দল তাতে রাজি নয়। এ ঘটনা নতুন নয়। সংসদে এই পরম্পরা বহুদিনের। অতীতে ইউপিএ জমানায় টুজি কাণ্ডে তিন মাস সংসদ অচল করে রেখেছিল বিজেপি। প্রথমে টেলিকম মন্ত্রীর পদ থেকে এ রাজার ইস্তফার দাবিতে ও পরে যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনের দাবি নিয়ে সংসদ অচল করা হয়।

কংগ্রেস সহ বাকি বিরোধীরা এখন কেন্দ্রে বিজেপি সরকারকে সেটাই ফিরিয়ে দিতে চাইছে। সংসদ অচল থাকায় বিড়ম্বনা বাড়ছে সরকারের।

মোদী সরকারকে সংসদে আরও কোণঠাসা করার কৌশল নির্ধারণ করতে মঙ্গলবার সংসদের অদূরে কনস্টিটিউশন ক্লাবে সব বিরোধী দলগুলির বৈঠক ডাকেন রাহুল গান্ধী। ওই বৈঠকে তৃণমূলের তরফে সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্ররাও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠক শেষ হলে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সাইকেল চড়ে সংসদে যান রাহুল গান্ধী।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদে চলতি অধিবেশন অচল থাকলে বিজেপির জন্য যে এখনই খুব বড় রাজনৈতিক ক্ষতি হয়ে যাবে এমন নয়। তবে প্রমোদ মহাজন বলতেন, এমন নয় যে গুলি ছুড়লেই তা ঘাতক হবে। কিন্তু এও ঠিক যে প্রতিটি গুলি কিছু না কিছু ক্ষত তৈরি করে। এমনিতে কোভিড মোকাবিলায় ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। তাতেই আরও অক্সিজেন যোগানোর চেষ্টা করছেন বিরোধীরা। সরকারের উদ্বেগ সেখানেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More