সংসদ অচল হলেও দলীয় এমপিদের খুশির বার্তা দিলেন মোদী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুতেই পেগাসাস কেলেংকারি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদ অচল হয়ে আছে দিনের পর দিন। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সংসদীয় দলের বৈঠকে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংসদীয় দলের বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি মুরলিধরন জানান, এবার জিএসটি সংগৃহীত হয়েছে ১ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকা। টোকিও অলিম্পিকস থেকেও আসছে ভাল খবর। পি ভি সিন্ধু অন্তত ব্রোঞ্জ পেতে চলেছেন। আমাদের হকি টিমও যথেষ্ট ভাল ফল করেছে। অর্থাৎ অগাস্টে একের পর এক খুশির খবর আসছে।

এর আগে সোমবারও টুইট করে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, অগাস্টে কয়েকটি ভাল খবর আছে। আমরা রেকর্ড পরিমাণ জিএসটি সংগ্রহ করেছি। বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া গিয়েছে। অলিম্পিকসেও আমরা ভাল ফল করছি।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, অগাস্ট মাসটাকে নিজের মতো করে ব্যবহার করতে চায় বিজেপি। এমনিতে অগাস্ট ‘ক্রান্তি মাস’ বলে পরিচিত। ১৯৪২ সালের ৯ অগাস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূচনা হয়। ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবস। অগাস্ট মাসে বিজেপিও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করা হয়। ২০২০ সালের ৫ অগাস্ট অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভূমি পূজন হয়। গত ১ অগাস্ট মুসলিম উইমেনস রাইটস ডে পালন করেছে বিজেপি।

এর মধ্যে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণ। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের পেশ করা পরিসংখ্যানে প্রকাশ, জুলাই মাসে (জুনে বিক্রিবাট্টার হিসাবে) পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি বাবদ রাজস্ব সংগ্রহ  ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে হয়েছে ১,১৬,৩৯৩ কোটি টাকা, যা গত বছর সম সময়ের থেকে ৩৩ শতাংশ ও গত মাসের চেয়ে ২৫.৪ শতাংশ বেশি। কোভিড ১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে মে মাসে স্থানীয় স্তরে দফায় দফায় লকডাউনের পর অর্থনৈতিক কারবার ফের শুরু হয়েছে। এটা সম্ভবত তারই ফল।

জুনে ( মে মাসের বিক্রিবাট্টার সাপেক্ষে) জিএসটি বাবদ রাজস্ব  সংগ্রহ ১০ মাসে সবচেয়ে কমে হয়েছিল ৯২,৮৪৯ কোটি টাকা, ৮ মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি হওয়ার পর। ২০২০র জুলাইয়ে জিএসটি রাজস্ব ছিল ৮৭,৪২২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবর্ষে ২০২১ এর জুনে জিএসটি বাবদ রাজস্বের পরিমাণ ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এপ্রিলে (মার্চে গত অর্থবর্ষের বিক্রিবাট্টার হিসাবে) রাজস্ব সংগ্রহ হয় ১.৪১ লাখ কোটি টাকা)। যদিও তা নয়া অর্থবর্ষের হিসাবে ধরা হবে।

জিএসটি রাজস্ব সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের অভিমত, করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা বহাল থাকলেও আগামী মাসগুলিতে জিএসটি সংগ্রহ বাড়তে থাকবে বলে আশা করা যায়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More