বাচ্চাকে ভ্যাকসিন দিতে চান? অবশ্যই নজর রাখুন কিছু বিশেষ দিকে

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার (Corona) তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ভারতে। আর এই তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকায় তাদের জন্য ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত বাবা-মায়েদের মুখে হাসি ফুটিয়ে খুব শীঘ্রই বাজারে আসছে জিকোভি-ডি করোনা ভ্যাকসিন।

১২ বছর ঊর্ধ্ব শিশুদের জন্য তৈরি এই ভ্যাকসিন মিলবে বাজারে। মিলে গেছে ভারত সরকারের অনুমোদনও। এছাড়াও ২-১৮ বছর বয়সীদের জন্য ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিনও শীঘ্রই বাজারে পাওয়া যাবে। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের টিকাকরণ পদ্ধতি চলছে সারা দেশে। তবে শিশুদের জন্য এখনও কোনও ভ্যাকসিন নেই। সেই কাজও শুরু হতে চলেছে শীঘ্রই।

আরও পড়ুনঃ ব্যাগে স্টেথো, বগলে বন্দুক, চিন সীমান্ত পাহারায় ৩৮ চিকিৎসক

জিকোভি-ডি ভ্যাকসিনটি হল ভারতে তৈরি প্রথম ডিএনএ করোনা ভ্যাকসিন। ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য এই ভ্যাকসিনে থাকছে। যার ফলে এই ভ্যাকসিনের ফলে দেহের মধ্যে প্রোটিন তৈরির কোষ দ্রুত তৈরি হবে। যা শরীরে একটি প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করবে।

তবে এই ভ্যাকসিনটি সূচ বিহীন পদ্ধতিতে দেওয়া হবে শিশুদের শরীরে। অন্যান্য ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে দুটি ডোজ থাকলে এই ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে তিনটি ডোজ দেওয়া হবে। ৪ সপ্তাহ ব্যবধানে এই ডোজ দেওয়া হবে। প্রথম ডোজের ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ এবং তারও ২৮ দিন পর তৃতীয় ডোজ দেওয়ার পরই সম্পন্ন হবে সম্পূর্ণ টিকাকরণ প্রক্রিয়া।

তবে এই ভ্যাকসিন নেওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন শিশুদের পরিবার। এই ভ্যাকসিন শিশুদের দিতে নিয়ে যাওয়ার কিছু বিশেষ বিষয়ের ওপর নজর রাখতে হবে-

  • ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা করার আগে অবশ্যই শিশুদের পুষ্টি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কোনও রকম অ্যালার্জি বা ইনফেকশন আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • শিশুর যদি কোনও কারণে কোনও ওষুধ চলে তবে সেই ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন নেওয়া ঠিক হবে কিনা তা নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে।
  • শিশুদের মধ্যে ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে কোনও রকম প্যানিক করার প্রয়োজন নেই।
  • ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে পর্যাপ্ত ডায়েট ব্যালান্স করতে হবে শিশুর। প্রচুর পরিমাণে ফল ও শাক সবজি খেতে হবে। খালি পেটে যেন টিকা না নেওয়া হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।
  • ভ্যাকসিন কেন্দ্রে গিয়ে অবশ্যই যেন করোনা বিধি মানা হয় সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহার ও সামাজিক দুরত্ব বজায়ের মতো বিধি মানতে হবে।
  • ভ্যাকসিনের পার্শ্বক্রিয়া নিয়ে কোনও ভয় নেই, যদি জ্বর ও ব্যাথা অনুভব হয় তাহলে ভয় পাওয়ার প্ৰয়োজন বেই। তবে যদি অন্য কোনও পার্শ্বক্রিয়া দেখা যায় তাহলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে শিশুকে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ান। জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। ভালো করে বিশ্রাম করান শিশুকে। কিছু সময়ের জন্য দৈহিক পরিশ্রমের সব কাজ থেকে বিরত রাখুন।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
1 Comment
  1. […] […]

Leave A Reply

Your email address will not be published.