‘সিঁদুরের’ মানে তুমি কী জানো শোভনবাবু? ‘ডিভোর্স আমি দেব না’, জানালেন রত্না

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বিয়ে বাড়িতে প্রথম যখন ভিডিও শ্যুট শুরু হয়, তখন একটা গান অবধারিত ভাবেই থাকত অ্যালবামে। আশা ভোঁসলের গাওয়া সে গান বলতে গেলেই ওয়েডিং শ্যুটেই আরও পপুলার হয়েছিল। ‘ব্যবধান’ ছবিতে পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় সে গানে সুর দিয়েছিলেন অজয় দাস—“কত না ভাগ্যে আমার এ জীবন ধন্য হল, সিঁথির এই একটু সিঁদুরে (Sindur) সব কিছু বদলে গেল..।”

মনমোহন সিং ডেঙ্গিতে আক্রান্ত, তবে স্থিতিশীল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী

বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঁথিতে শোভন চট্টোপাধ্যায় সিঁদুর দেওয়ার পর, অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, তেমনই হল বোধহয়। শোভন-বৈশাখীর বন্ধু সম্পর্কটা এবার পাকাপাকি ভাবেই দাম্পত্য সম্পর্কে বদলে গেল!

কিন্তু ছন্দ কাটল শনিবার। যে রোম্যান্টিক আবহ রচনা হয়েছিল গোলপার্কের বহুতল আবাসনে, তার যেন তাল কেটে দিতে চাইলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ধর্মপত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায়।

শোভন-রত্নার চাপানউতোর গত আড়াই বছর ধরেই নাটকীয়। এদিনও নাটকীয়তা কম ছিল না। রত্না বলেন, সিঁদুরের মানে কি জানেন শোভনবাবু? আইনি ভাবে ও এখনও আমার স্বামী। আমি স্ত্রী। ডিভোর্স আমি দেবই না।

তাঁর কথায়, শোভন-বৈশাখীর এই ‘বিয়ে’ আইনত স্বীকৃত নয়। কারণ হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী স্ত্রী থাকাকালীন আর কোনও মহিলার সিঁথিতে সিঁদুর দিতে পারেন না শোভন।

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় গতকালই বলেছিলেন, শোভনবাবুর সঙ্গে তাঁর যে সম্পর্ক তাতে স্বীকৃতির অভাব ছিল না কোনওদিনই। তবে শোভন যে তাঁর সিঁথিতে সিঁদুর তুলে দিয়েছেন তা অস্বীকারও করেননি বৈশাখী।

এদিন রত্না বলেছেন, স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অন্য মহিলার সঙ্গে থাকলে সমাজ তাকে রক্ষিতা বলে। আর রক্ষিতাকে সিঁদুর পরালেই সে স্ত্রী হয়ে যায় না। এখানেই শেষ নয়, রত্না আরও বলেছেন, দুর্গাপ্রতিমার পিছনে যে বাঁশ থাকে, আমিই সেই বাঁশ। ওরা বিয়ের কথা ভাবুক, তারপর দেখছি আমি কী করা যায়।

রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বাবা দুলাল বাবু গতকাল শোভন-বৈশাখীর এই ছবি দেখে তাকে ‘ব্যাভিচার’ বলে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, এ সব ধর্মে সইবে না। ওঁরা জানে না এর পরিণতি ভয়ঙ্কর। তবে শোভনবাবুর ঘনিষ্ঠদের কথায়, রত্না বা দুলালবাবুদের এ সব হুমকি, হম্বিতম্বি একেবারেই পরোয়া করছেন না প্রাক্তন মহানাগরিক। তিনি হয়তো বুঝতে পারছেন, আইনি ভাবে রত্নার থেকে ডিভোর্স পেতে এখন লম্বা সময় লাগতে পারে। কিন্তু তা বলে কি তাঁর ও বৈশাখীর জীবন থেমে থাকবে! যে যাই বলুন, তাঁদের জীবন তাঁরা নিজেদের মতো করে কাটাতে যা করার তাই করে যাবেন। তাতে কেউই বাধা দিতে পারবেন না। আদালতে মামলা দেখে নেবেন তাঁদের আইনজীবী।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
1 Comment
  1. […] […]

Leave A Reply

Your email address will not be published.