স্কুলে যাব, মুখ্যমন্ত্রীকে আর্জি শিক্ষা মহলের

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : এখনই খুলছে না স্কুল-কলেজের দরজা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট ঘোষণার পরই আলোড়ন পড়েছে শিক্ষা মহলে। অবিলম্বে স্কুল-কলেজ খোলার পক্ষেই সওয়াল করছেন শিক্ষা মহলের এক বড় অংশ। স্কুল কলেজের পঠন-পাঠনের বিকল্প কখনই অনলাইন ক্লাস হতে পারে না, তা এক বাক্যেই মানছে শিক্ষক থেকে অভিভাবকরা।

বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, পুজোর ছুটির পর স্কুল-কলেজ খোলার ভাবনা আছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী, একদিন অন্তর খোলা সম্ভব কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে। এই ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে এখনই স্কুল কলেজ খোলা সম্ভব নয় রাজ্যে।

যেখানে দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলো স্কুল খোলার কথা বলছে, সেখানে এই রাজ্যের স্কুল কলেজ খোলার সময় বেশ কিছুটা পিছিয়ে গেল। আর তাতেই পড়ুয়াদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক মহলের একাংশ। সকলের মতেই, যতদিন যাবে বাড়বে স্কুলে যাওয়ার প্রতি পড়ুয়াদের অনীহা। সেই সঙ্গে বাড়বে স্কুলছুটের সংখ্যাও।

মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের ঘোষণা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার। দ্য ওয়ালকে দেওয়া তাঁর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা যথেষ্ট নয়। এই নিয়ে আরও ভাবার প্ৰয়োজন আছে। যেখানে ট্রেন চলতে পারে, নির্বাচন হতে পারে সেখানে স্কুল হতেই পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারের এহেন শৈথিল্য একটা প্রজন্মকে প্রায় নষ্ট করে দিল। তাদেরকে নানা রকম বিদ্রুপ, সমালোচনা, প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।”

সেই একই সুরে সুর মিলিয়ে বিদ্যালয় খোলার পক্ষে সওয়াল করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু। দ্য ওয়ালকে তিনি জানান, “শিক্ষক সমিতির তরফে সবসময়ই দাবি করা হয়েছে যে পড়ুয়াদের জন্য বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার উচিৎ। কারণ দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পড়ুয়ারা স্কুল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। তাতে শুধুমাত্র পড়ুয়াদের পড়াশুনার ক্ষতি হবে তা নয়, তার সঙ্গে সঙ্গে পড়ুয়াদের মানসিক অবক্ষয়, স্কুল ছুটের সম্ভাবনাও মারাত্মক হতে পারে।” পাশাপাশি, তিনি এও বলেন, “স্কুল খোলার মতো উপযুক্ত ব্যবস্থা করে যত দ্রুত সম্ভব আবার পড়াশুনার ছন্দে ফেরানো উচিৎ পড়ুয়াদের।”

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আগামী ১৫ আগস্টের পর থেকেই ধাপে ধাপে বিদ্যালয় খোলার পক্ষে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। এই সমিতির সাধারণ সম্পাদক নব কর্মকার দ্য ওয়ালকে জানান, “দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ুয়ারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার করার আবেদন জানাবো আমরা।”

একই সুরে অবিলম্বে স্কুল-কলেজ খোলার দাবি জানিয়েছেন অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেড মাস্টার এন্ড হেড মিস্ট্রেসের সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি। তিনি জানান যে, অন্যান্য রাজ্যের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ভাবনা রয়েছে এই নিউ নরমাল সিচুয়েশনে। আমাদের রাজ্য পুজোর ছুটির আগে অন্তত দু মাস অল্টারনেটিভ দিনগুলোতে যাতে ক্লাসগুলো করানো যায় সেই বিষয়ে ভেবে দেখুক।

স্কুল খোলার পক্ষপাতী হলেও এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়ারা কতজন বিদ্যালয়ে আসবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বাগবাজার মাল্টিপারপাস স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষিকা মলি বিশ্বাস। দ্য ওয়ালকে তিনি বলেন, “মার্চ মাসে স্কুল খুললেও স্কুলে আসার প্রতি সেভাবে পড়ুয়াদের মধ্যে সাড়া ফেলেনি।” তিনি এও জানান যে, স্কুল খুললে ১০০ শতাংশ পড়ুয়াকে নিয়েই স্কুল খোলা হয়। না হলে পড়ুয়াদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হতে পারে।

অনলাইনে সেভাবে পড়াশুনা হচ্ছে না তা স্বীকার করে নিচ্ছেন অভিভাবকরা। বাড়ছে ফাঁকির প্রবণতা। এমনও মনে করছেন তাঁরা। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন স্কুলে না যাওয়ায় স্কুলের পরিবেশ বেশ দূরে সরে এসেছে বলে মনে করছে পড়ুয়ারা। এই পরিস্থিতিতে সবাই মুখিয়ে যাতে শীঘ্রই স্কুলের দরজা খুলে যায়। ফের পড়ুয়ারা ফিরতে পারে পড়াশুনার স্বাভাবিক জীবনে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.