উত্তরপ্রদেশে ব্যবসার নামে লোক ঠকানোর অভিযোগ শিল্পা শেঠি ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পর্নোগ্রাফি কেলেংকারির পরে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠল বলিউডের অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিনেত্রী ও তাঁর মা সুনন্দা শেঠি ওয়েলনেস বিজনেসের নাম করে উত্তরপ্রদেশে অনেককে ঠকিয়েছেন। লখনউতে তাঁদের নামে দু’টি এফআইআর হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

লখনউয়ের ওমেক্স হাইটের বাসিন্দা জ্যোৎস্না চৌহান এবং রহিত বীর সিং শিল্পা ও তাঁর মায়ের নামে অভিযোগ করেছেন বিভুতিখান্ড ও হজরতগঞ্জ থানায়। দু’টি থানা থেকেই শিল্পাদের নোটিশ দিয়ে বলা হয়েছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একটি টিম মুম্বই গিয়ে জোচ্চুরির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করবে শিল্পা ও তাঁর মাকে।

এফআইআরে বলা হয়েছে, শিল্পা আইওসিস ওয়েলনেস সেন্টার নামে এক সংস্থার চেয়ারম্যান। তাঁর মা ওই কোম্পানির ডিরেক্টর। লখনউতে ওই ওয়েলনেস সেন্টারের শাখা খোলার জন্য শিল্পা দু’জনের থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে শাখা খোলেননি। আইওসিসের প্রতিষ্ঠাতা কিরণ বাওয়া ইতিমধ্যে ইনস্টাগ্রামে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি বর্তমানে তিনিই ওই সংস্থার চেয়ারম্যান। শিল্পা ও তাঁর মা কয়েক বছর আগেই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেছেন। কিরণ বাওয়া মিডিয়ার কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তারা যেন ‘গুজব’ না ছড়ায়।

কিরণ লিখেছেন, “আমি আইওসিস সংস্থাটি গড়ে তুলেছি। এই সংস্থা আমার সন্তানের মতো। আমি খোঁজ নিয়ে দেখব কী হয়েছিল। আমি বিনীতভাবে সকলকে জানাতে চাই, এটা বিচারাধীন বিষয়। বম্বে হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপতি আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন।” কিরণের দাবি, “দায়িত্বজ্ঞানহীন রিপোর্টিং-এর ফলে তাঁর ব্র্যান্ডের ক্ষতি হচ্ছে। বহু বছর ধরে তিনি ওই কোম্পানির সুনাম তৈরি করেছেন।”

গত ১৯ জুলাই শিল্পার স্বামী রাজ কুন্দ্রা ও আরও ১১ জনকে পর্নোগ্রাফি ফিল্ম বানানোর অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে। ২৫ জুলাই পুলিশ জানায়, রাজ কুন্দ্রার কোম্পানীর কর্মীরা পর্নোগ্রাফি র‍্যাকেট নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে তৈরি। ২৭ জুলাই আদালত রাজ কুন্দ্রা ও তাঁর সঙ্গী রায়ান থর্পকে ১৪ দিনের জন্য জেল হেপাজতে পাঠায়।

শিল্পা শেঠি জানান, তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তা নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন। গুজবে কান দিতেও রাজি নন। আইন তার কাজ করুক। মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ হোক।

৪৬ বছরের অভিনেত্রী আরও জানান, গত কয়েক দিন সব দিক থেকে খুব কঠিন এবং জটিল ভাবে পেরিয়েছে। তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে অনেক ট্রোলিং সহ্য করতে হয়েছে, প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।

তিনি লিখিত ভাবে জানান, “এই অভিযোগ নিয়ে আমার অবস্থান কী, তা নিয়ে আমি এখনও কোনও মন্তব্য করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। কারণ বিষয়টি বিচারাধীন। তাই আমার মুখে যা ইচ্ছে তাই কথা বসানো দয়া করে বন্ধ হোক। এক জন সেলেব্রিটি হিসেবে আমার দর্শন হল, কখনও অভিযোগ কোর না, কখনও ব্যাখ্যা দিও না। আমি এটুকুই বলতে চাই, তদন্ত চলছে। মুম্বই পুলিশ এবং ভারতীয় আইনব্যবস্থায় আমার আস্থা আছে। আইনি ভাবে যা করা সম্ভব, সব করছি আমরা।”

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.