আমরা বিশ্বের কাছে কী বার্তা পাঠাচ্ছি খেয়াল রাখুন, দিল্লির দূষণ নিয়ে বলল সুপ্রিম কোর্ট

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দিল্লির বায়ুদূষণ (Air Pollution) নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে সমীক্ষা করতে হবে। এই সমস্যার কোনও তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। বুধবার এই মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিরা বলেন, “আপাতত যদি শহরে দূষণের মাত্রা কমেও যায়, আগামী দিনে এই নিয়ে আরও মামলা হবে। আমাদেরও নির্দেশ দিতে হবে।”

গত তিন সপ্তাহ ধরে ধোঁয়াশায় ঢেকে আছে দিল্লি। সুপ্রিম কোর্ট এদিন মন্তব্য করে, দিল্লি ভারতের রাজধানী। আমরা সারা বিশ্বের কাছে কী বার্তা পাঠাচ্ছি, তা খেয়াল রাখতে হবে। বিচারপতিদের মতে, নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দিল্লির দূষণ কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের কথায়, “এখনকার দিনে আমাদের রয়েছে সুপার কম্পিউটার। দূষণের একটা স্ট্যাটিসটিকাল মডেল থাকা উচিত।”

বুধবার সকালে দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল খুবই খারাপ। নভেম্বরের শুরুতে বাজি ফাটানোর জন্য শহরের বায়ুর মান অনেক নেমে যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুপ্রিম কোর্টে বলেন, “দূষণ কমাতে আপাতত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আমরা জানিয়েছি। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও আছে।” আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী বিকাশ সিং বলেন, খড়পোড়া ধোঁয়ার বিষয়টি নিয়েও চিন্তাভাবনা করা উচিত। কৃষকরা যদি ক্ষতিপূরণ পান, তাহলে খড়পোড়া নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে কী পরিমাণ খড় পোড়ানো হয়, তার কোনও হিসাব আছে কী? খড়পোড়া একটা বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। কীভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করা যাবে? সরকারি অফিসাররা কী করছেন? সচিবরা কিছু করুন।

দেওয়ালির পর থেকে কালো ধোঁয়াশায় ঢেকেছে দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকা। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড জানিয়েছে, দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী এলাকায় বেসরকারি অফিসগুলিকে বলা হয়েছে, তারা যেন ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেয়। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, কেউ যদি রাস্তার ওপরে বাড়ি তৈরির জিনিসপত্র জমা করে রাখে, তাহলে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। ২১ নভেম্বর অবধি রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকায় বাড়ি ভাঙা বা যে কোনও নির্মাণ বন্ধ রাখতে হবে। তবে রেলের বিভিন্ন কাজ, মেট্রো পরিষেবা, বিমান বন্দর, বাস টার্মিনাল, এবং প্রতিরক্ষার প্রকল্পগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দিল্লি ও তার আশপাশে ১১ টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে কাজ করছে কেবল পাঁচটি। দিল্লিতে আপাতত ট্রাক ঢোকা বন্ধ করা হয়েছে। কেবল যে ট্রাকগুলি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বহন করে, তাদেরই ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পেট্রল চালিত গাড়ির বয়স ১৫ বছর হলে এবং ডিজেল চালিত গাড়ির বয়স ১০ বছর হলে বাতিল করে দিতে বলা হয়েছে। কোনও গাড়ির চালক যদি যথাযথ এমিসন কন্ট্রোল সার্টিফিকেট দেখাতে না পারেন, তাঁকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.