কাশ্মীরের সোপিয়ানে এখন আপেলের লাল রঙেও আতঙ্ক

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়, সোপিয়ান

আপেলের মরসুম এখন উপত্যকা জুড়ে।  সোপিয়ানকে বলা হয় কাশ্মীরের আপেল বাগান। ‘অ্যাপেল সিটি’-ও বলে থাকেন কেউ কেউ।  কারণ সারা বিশ্বে কাশ্মীর থেকে যত আপেল রফতানি হয় তার প্রায় ৯০ শতাংশ উৎপাদিত হয় এই সোপিয়ানেই।  সেই রফতানির সময় এই অক্টোবর মাস।  তবে সোপিয়ান এখন যেন মৃত্যু উপত্যকা।

ঘটনাচক্রে, ঠিক এক বছর আগে সোপিয়ান এসেছিলাম আমি।  ট্যুরিস্ট হিসেবে। সোপিয়ানে ঢোকার আগে শেষ চেকপোস্টে পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরু রাস্তা বেয়ে এগোতে শুরু করেই চমকে গেছিলাম আপেল বাগানের দৃশ্য দেখে।  রাস্তার দু’পাশের বাগান থেকে যেন গায়ের উপর এসে পড়ছে আপেল ভরা গাছের ডাল। সোপিয়ানের বিশাল বড় বাজার এলাকা জুড়ে আপেলের বাণিজ্য দেখলে চমকে যেতে হয়।  কিলোতে বা কুইন্টালে নয়, ট্রাকের মাপে বিক্রি হয় আপেল।

এক বছর পরে সেই সোপিয়ানেরই সম্পূর্ণ অন্য চেহারা।  ব্যবসা লাটে উঠেছে। জঙ্গি হানায় সন্ত্রস্ত প্রতিটি মানুষ।  আর এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণে খুন হয়ে গেছেন তিন-তিন জন ট্রাক ড্রাইভার।  এই মরসুমে কাজের জন্য এসেছিলেন তাঁরা, প্রতি বছরের মতোই।  স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সোপিয়ান থেকে যে পরিমাণে আপেল রফতানি হয় এই মরসুমে, তার জন্য প্রয়োজন অন্তত হাজার আটেক ট্রাক।  কিন্তু সোপিয়ানে ট্রাক চালক আছেন বড়জোর শ’দুয়েক।  তাই এই সময়ে পঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান থেকে প্রচুর ট্রাকচালক তাঁদের গাড়ি নিয়ে কাশ্মীরে আসেন।

ঠিক যেমন এসেছিলেন রাজস্থানের শরিফ খান, হরিয়ানার চরণজিৎ সিং, ছত্তীসগড়ের শেঠি কুমার সাগর।  গত কয়েক দিনে জঙ্গিদের গুলিতে খুন হয়ে গেছেন তাঁরা।  বাইরে থেকে ব্যবসার কাজে এসে তিন-তিনটে প্রাণ এভাবে চলে যাওয়ায় চরম আতঙ্কিত গোটা এলাকা।  এমনিতেই সোপিয়ানের নাম প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আসে নানা অশান্তির কারণে।  তার মধ্যে এই সময়ে এই ঘটনায় যেন বদলে গিয়েছে গোটা এলাকা।  জমজমাট ভাব উধাও।  বিশেষ করে এখন বাইরে থেকে আসা যেসব আপেল ব্যবসায়ী এবং ট্রাক চালক সোপিয়ানে রয়েছেন, তাঁরা যেন সিঁটিয়ে আছেন ভয়ে।

শুক্রবার সকালে সোপিয়ানে পৌঁছনোর পর বেশ কয়েক দফা চেকিং পর্ব শেষ করে ঢুকতে পারলাম শহরের ভিতরে।  সেনাকর্মীরা বারবার সাবধান করে দিলেন, ছবি না তুলতে বা কোনও ঝুঁকি না নিতে।  বারবার মনে করিয়ে দিলেন, কতটা উত্তপ্ত হয়ে আছে গোটা এলাকা।

ঢোকার পর মনে হচ্ছিল একটুও বাড়িয়ে বলেননি সেনাকর্মীরা।  খানিক ভয়ই করছিল বলা যায়।  চারদিক সুনসান। সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে রাস্তাজুড়ে। অভ্যাসমতো এক বার ফোন বের করে ফোটো তোলার চেষ্টা করতেই বাধা।  জঙ্গি হানায় তিন জনের মৃত্যুর পরে সোপিয়ান এখন থমথমে।  ট্রাকের শব্দ ছাড়া শুনতে পাচ্ছি নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ।  ব্যবসামুখর উপত্যকাকে গ্রাস করেছে আতঙ্ক।

দু’এক জন মানুষ চলাচল করছেন, সকলেই স্থানীয়। তাঁদের চোখে-মুখে আতঙ্ক, সন্দেহ।  খানিক খুঁজে পৌঁছলাম কয়েক জন ট্রাক চালকের আস্তানায়। থমথম করছে চারপাশ।  কে বলবে, এই মানুষগুলো ব্যবসার জন্য এসেছেন ভিন্ রাজ্য থেকে।  যেন আতঙ্কে সিঁটিয়ে আছেন সবাই।  অপেক্ষা করছেন, কতক্ষণে পালাবেন এলাকা ছেড়ে।

শুনুন সোপিয়ানের অভিজ্ঞতা।

শীত পড়ছে, ব্যবসার সময় ফুরিয়ে আসছে। কী ভাবছে সন্ত্রস্ত সোপিয়ান শুনে নিন।

The Wall এতে পোস্ট করেছেন শনিবার, 19 অক্টোবর, 2019

হরিয়ানার ইমরান (আসল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানালেন, ট্রাক ভর্তি করে আপেল প্যাক করা হয়ে গেছে তাঁর।  কিন্তু সোপিয়ান ছেড়ে বেরোতে সাহসই পাচ্ছেন না।  রাস্তায় কখন কী হয়, ভরসা করতে পারছেন না একেবারেই। “অপেক্ষা করছি অন্যদের জন্য।  আমরা ১০-১২ জন একসঙ্গে এসেছি।  বাকিদের ট্রাক লোড হয়ে গেলে একসঙ্গে রওনা দেব।  কাশ্মীর ছেড়ে বেরিয়ে যাব যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।  আমরা তো প্রতিবছর আসি, ছোট-বড় অশান্তি চলতে থাকে।  কিন্তু এমন অবস্থা কখনও হয়নি।  আমাদের তিন-তিন জন বন্ধুকে মেরে দিল!”

পঞ্জাবের রূপেন্দ্র সিং বলছিলেন, “বাড়িতে পরিবার রেখে এসেছি।  এরকম প্রাণ হাতে করে কাজ করতে হবে, ভাবতে পারিনি।  প্রত্যেক বছর এই সময়ে সোপিয়ানে ট্রাক নিয়ে আসি আমি।  বেশ কয়েক দফায় নানা জায়গায় পৌঁছে দিই আপেল।  কিন্তু এ বার যেন মনে হচ্ছে কোনও মৃত্যুপুরীতে এসে পৌঁছেছি। আমরা তো পেটের টানে আসি।  আমাদের সঙ্গে এমনটা হওয়ার কথা ছিল না।”

রূপেন্দ্রর দু’টি ট্রাক রয়েছে।  একটি তিনি নিজে চালান, অন্যটি চালান তাঁর ভাই দিলবাগ।  দু’ভাই-ই চার দিন হল এসে পৌঁছেছেন কাশ্মীরে। এখন তাঁরা ভাবছেন, কতক্ষণে কাশ্মীর ছেড়ে পালাতে পারবেন।  সেনা চৌকির কাছে তাঁদের ট্রাক পার্ক করে রেখেছেন তাঁরা।  “আমরা শুনেছিলাম দু’মাস ধরে বিচ্ছিন্ন থাকার পরে এখন স্বাভাবিক হয়েছে কাশ্মীরের পরিস্থিতি।  ফোনও চালু হয়ে গেছিল, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছিল।  কিন্তু বাইরে থেকে দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি, এরকম পরিস্থিতি হবে।  এমন জানলে আসতামই না এই বছর।  তবু সেনার উপরে ভরসা রেখেছি আমরা।  যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেরোতে চাইছি এখান থেকে,” চাপা গলায় বললেন দিলবাগ।

কিন্তু স্থানীয় মানুষজন তো জানতেন, কী অবস্থা চলছে সোপিয়ানে।  তাঁরা কেন সাবধান করেননি বাইরের ব্যবসায়ীদের?

অন্য বার এমন সময়ে যেমন চেহারা থাকে সোপিয়ানের।

সোপিয়ানের আপেল মান্ডির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ আশরাফ ওয়ানি বললেন, “এখানে এই আপেল ব্যবসা আমাদের সারা রোজগার।  সেই ব্যবসার জন্য আমরাও ভিন্ রাজ্যের ব্যবসায়ীদের উপর এবং ট্রাক চালকদের উপর নির্ভর করি।  প্রায় আট হাজার ট্রাক লাগে আমাদের।  প্রতিবছরই ট্রাক চালকরা এসে কাজ করেন।  কিন্তু এই বছর পরিস্থিতি খারাপ ছিল।  অগস্ট মাস থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ-হরতাল চলছে।  ফোন বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। কিন্তু সপ্তাহ খানেক আগে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরে ফোন চালু হয়ে যায়।  তখন আমরা ভেবেছিলাম হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে।”

কিন্তু তার পরেও এমনটা ঘটে যাওয়ায় শুধু আতঙ্কিত নয়, লজ্জিতও তাঁরা। ওয়ানির কথায়, “আমরা কি ইচ্ছে করে চাইব, এখানে এসে কেউ বিপদে পড়ুক? উল্টে আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।  আপেল প্যাক করা, গাড়ি ভাড়া– এই সব কিছুর জন্য কয়েক গুণ করে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে স্থানীয় আপেল চাষিদের।” ওয়ানি জানালেন, আগের বছর পর্যন্ত এক এক ট্রাক আপেল লোড করার জন্য প্যাকারদের রেট ছিল ৫০০ টাকা।  এ বছর এই অবস্থায় সেটাই বেড়ে হয়েছে ৯০০ টাকা।

আপেল ব্যবসার মরসুম শুরু হওয়ার পর থেকে অবশ্য এতটা খারাপ অবস্থা ছিল না। পরিবেশ-পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও, সেনাকর্মীদের তৎপরতায় এবং স্থানীয় মানুষের চেষ্টায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক ভাবেই শুরু হয়েছিল গত সপ্তাহ থেকে। ১৪ তারিখ রাতে জঙ্গি হানার পরেই গোটা পরিস্থিতি বদলে গেল।

সোপিয়ানের শ্রীমল এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী শাকিল আহমেদ জানালেন, তাঁর কাছ থেকেই আপেল নিয়ে ট্রাকে ভর্তি করছিলেন রাজস্থানের ট্রাক চালক শরিফ খান।  মুখোশধারী অজ্ঞাতপরিচয় জঙ্গিরা আচমকা হামলা চালায় ট্রাকে।  ট্রাকটি চালিয়ে খানিক দূরে নিয়ে যায় তারা। খানিক পরেই পরপর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান শরিফ।  রক্তে ভেসে যায় তাঁর লুটিয়ে পড়া দেহ।  ট্রাকটিতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় জঙ্গিরা।

শাকিল আহমেদ বললেন, “২০০ বাক্স আপেল ছিল মোট।  ১৫০ বাক্স ট্রাকে লোড করা হয়েও গেছিল। আর অল্পই বাকি ছিল।  সেটা হয়ে গেলে ভোররাতেই বেরিয়ে যেতেন ওঁরা।  কিন্তু…”– গলা বুজে আসে শাকিলের।  ট্রাকের মালিক, রাজস্থানের বাসিন্দা ইকরাম খানকে ফোন করে গোটা ঘটনা জানিয়েছেন শাকিল। আতঙ্কিত ইকরাম বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন।  নিহত চালক শরিফ খান তাঁর দূর সম্পর্কের ভাগ্নে।  এই খুনের ঘটনায় যেন কথা সরছে না তাঁর মুখে।  তিনি জানিয়েছেন, ট্রাকটি কিনেছেন কয়েক মাস আগেই।  সেটি পুড়ে যাওয়ায় তাঁর ব্যবসাও পুরোপুরি শেষ।

১৪ তারিখের এই ঘটনার আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই ১৬ তারিখ প্রায় একই ভাবে খুন হয়ে গেছেন ছত্তীসগড়ের ২৯ বছরের যুবক এসকে সাগর।  ট্রাকের খালাসি হিসেবে এসেছিলেন তিনি।  এর পরে ফের জঙ্গিদের হাত খুন হয়েছেন রাজস্থানের চরণজিৎ সিং।  ১৭ তারিখ রাতের এই তৃতীয় ঘটনার পরে যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা সোপিয়ান।  প্রতিটি মানুষ প্রাণ হাতে করে পালাতে চাইছেন। গোটা বাজার বন্ধ।  যদিও তার মধ্যেই কিছু আপেল রফতানির জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।  কিন্তু পরিস্থিতি এতই থমথমে, কখন কী হবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

স্থানীয় এক আপেল চাষি, মহম্মদ কুরাতুল বলছিলেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। “সেই অগস্ট মাস থেকে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে আপেলের ব্যবসা বন্ধ করতে।  কিন্তু এই ব্যবসা ছাড়া আমাদের সারাবছর বেঁচে থাকা মুশকিল। আমরা একজোট হয়ে ঠিক করি, ব্যবসা বন্ধ করব না।  অক্টোবরের গোড়ায় নিষেধাজ্ঞা ওঠার পরে, ফোন চালু হওয়ার পরে আমরা স্বস্তি পেয়েছিলাম।  ভেবেছিলাম, সব ঠিক হবে।  কিন্তু তিন-তিন জন বাইরের মানুষ আমাদের এখানে এসে খুন হয়ে গেল, কখনও হয়নি আগে! আমরাও নিরাপদ নই।  জঙ্গিরা কাউকে বাঁচতে দেবে না।”

কুরাতুলের অভিযোগ, সেনাবাহিনীর সন্দেহও এড়াতে পারেন না তাঁরা।  কারণ প্রায়ই অভিযোগ ওঠে, তাঁরাই জঙ্গিদের নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন।  কিন্তু কুরাতুলের দাবি, “এসব কারা করে আমরা জানি না।  আমরা শান্তিতে ব্যবসা করতে চাই।  এত বছর ধরে তাই করেছি।  কিন্তু আমাদের ব্যবসাই দিনের শেষে মার খায়, আমাদের পেটে টান পড়ে।  এক দিকে পেটের চিন্তা, অন্য দিকে প্রাণের ভয়। কাউকে বোঝাতে পারব না, আমরা কী অবস্থায় আছি।”

দুপুর শেষ হতেই তাড়া লাগালেন ওই এলাকায় মোতায়েন এক সেনাকর্মী। “ম্যাডাম ইয়ে জাগা সেফ নাহি হ্যায়।  আপ নিকল যাইয়ে।” এই গা শিরশিরে ভাব আমারও যে হচ্ছিল না তা নয়।  আমায় কেউ কিছু বলেননি আলাদা করে, কিন্তু ভাবতেই ভয় করছিল, তিন তিনটে মানুষকে নির্মম ভাবে মেরে ফেলা হয়েছে এখানেই! ভয় করছিল, আমার আশপাশেই হয়তো এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে সন্ত্রাসবাদীরা!

কাশ্মীর যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছিল ঠিক তখনই তিনটি বুলেট ছিন্নভিন্ন করে দিল সেই ছন্দ।  স্থানীয় বাসিন্দাদের তো বটেই, আতঙ্ক ব্যবসায়ীদের চোখে-মুখে।  শুধু হত্যা করাই নয়, আপেলের গায়েও জঙ্গিরা লিখে দিতে শুরু করেছে আজাদির স্লোগান, বুরহান ওয়ানির নাম।  সেনার ট্রাক, এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও লুকিয়ে আছে, হয়তো মিশে আছে জঙ্গিরা।  তাই আতঙ্কে সোপিয়ানে থাকা প্রতিটি মানুষ।  সেই আতঙ্কই গ্রাস করেছিল আমাকেও।

জম্মু-কাশ্মীর জোনের জম্মুর স্পেশাল ডিজি শেখ জুলফিকার হাসানের কথায়, “এখন যা পরিস্থিতি, সেই তুলনায় কাশ্মীরে হিংসা অনেক কম এই বার।  ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে যে পরিমাণ প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, স্টোন পেল্টিং হতে পারত বলে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, ততটা হয়নি।  বলা যায়, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা অবশ্যই ঘটেছে।  তবে সেটাকে কাশ্মীরের হিংসার ছবি বলা যায় না।  গত কয়েক দিনের জঙ্গি হানার ঘটনায় আমরা ব্যথিত।  কিন্তু খুব তাড়াতাড়িই সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  আর যাতে কোনও হানা না হয়, সে ব্যাপারেও জোরদার চেষ্টা চলছে আমাদের তরফে।  সিআরপিএফ, আর্মি, কাশ্মীর পুলিশ– প্রত্যেকে একসঙ্গে লড়ছে।  আমরা যে কোনও কিছুর জন্য প্রস্তুত।”

সোপিয়ান ছেড়ে বেরোনোর সময়ে ফের মোবাইল চেক করা হল সেনার তরফে। কোনও ভিডিও বা ছবি রয়ে গেছে কিনা।  ভিডিও ছিল না, ছবি ছিল কয়েকটা। একটা ট্রাকের ছবি রাখার অনুমতি পেলাম, বাকি সব ডিলিট।  এত কড়াকড়ি কেন, জিজ্ঞেস করেই ফেললাম।  জানলাম, জোরদার ‘অপারেশন’ চলছে সেনার। এই সময়ে কোনও ছবি বা ভিডিও বাইরে প্রকাশ করা যাবে না।

কাশ্মীরে আজ আমার চার দিন।  এত কড়াকড়ির অভ্যেস নেই।  বলা ভাল, ভাবতেও পারি না আতঙ্কের এই পর্যায়ে মানুষ দিনের পর দিন বাস করতে পারে।  যে কোনও সময়ে খুন হয়ে যাওয়ার ভয়, যখনতখন সন্ত্রাসবাদীদের হুমকির ভয়, রাতবিরেতে সেনাবাহিনীর চেকিংয়ের ভয়।  জীবন আর মৃত্যু যেন সমার্থক শব্দ এখানে।  যে দু’টি শব্দের মাঝে সেতু হয়ে রয়েছে তীব্র আতঙ্ক।

সাইকেল ব্রহ্মচারীর আমেরিকানামা

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.