কেউ কেউ তো মরবেই, করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনাভাইরাস মহামারী হলেও চালু রাখতে হবে দেশের অর্থনীতি। সব কিছু বন্ধ করে যদি মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়, তাহলে অর্থনীতির ক্ষতি হবে। শুক্রবার এই মন্ত্যব্য করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসেনারো। দেশের ২৬ টি প্রদেশের গভর্নররা অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বাদে সব বন্ধ করে দিয়েছেন। তাতেই আপত্তি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, গভর্নররা করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাচ্ছেন।

বেশ কিছুদিন ধরেই বোলসেনারোর সঙ্গে গভর্নরদের বিরোধ চলছে। প্রেসিডেন্ট চান না করোনা রুখতে সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং করা হোক। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, কেউ কেউ মরবেই। এটাই নিয়ম।” পরে তিনি বলেন, রাস্তায় দুর্ঘটনা হয় বলে আপনি গাড়ির কারখানা বন্ধ করে দিতে পারেন না।

প্রেসিডেন্টের মতে, ব্রাজিলের অর্থনীতির মূল কেন্দ্র সাও পাওলোতে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ব্রাজিলে কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১২২৩ জন। মারা গিয়েছেন ৬৮ জন। বোলসেনারোর মতে, অত লোক মারা যায়নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গভর্নররা মৃতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাচ্ছেন।

করোনা সন্ত্রাসে এখন বিশ্বে প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ গৃহবন্দি। চিনের পরেই করোনা মহামারী মারাত্মক রূপ নিয়েছে ইতালিতে। দোকান-বাজার, রেস্তোরাঁ-বার, স্কুল-কলেজ গোটা ভ্যাটিকানই স্তব্ধ, জনমানবশূন্য। প্রায় ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। হাসপাতালে বাড়ছে ভিড়, মর্গে জমছে লাশের স্তূপ। শেষকৃত্য করার লোক নেই। শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে দেহ পুড়িয়ে ফেলছেন সেনাকর্মীরা।

ইতালির পরেই করোনা মহামারী স্পেনে। সংক্রামিতের সংখ্যা টপকে গেছে চিনকেও। কোভিড-১৯-এর জেরে স্পেনে লকডাউন ১১ দিনে পড়েছে। ।

জার্মানির অবস্থাও সঙ্কটময়। জাপানে কিছু দিন আগে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও টোকিয়োর গভর্নর ইউরিকো কোইকে বলেছেন সেখানে নতুন আক্রান্ত ৪৫ জন। সংক্রামিত হাজারের উপরে।

ইরানেও পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ইরানের কূটনীতিক ও সিরিয়ায় নিযুক্ত ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত হোসেইন শাইখল ইসলাম। এর আগে সংক্রমণে মারা যান মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেইনির শীর্ষ উপদেষ্টা মহম্মদ মীর মহম্মদী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ইরানি পার্লামেন্টের প্রায় ৮ শতাংশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত। ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং পার্লামেন্ট অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

করোনার কোপে রাশিয়ায় পিছিয়ে গেছে ভোট।

করোনা কাঁটায় বিদ্ধ পাকিস্তানও। সংক্রামিতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০০০। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ সিন্ধু প্রদেশ। হুহু করে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে খাইবার পাখতুনখোয়া, পঞ্জাবেও। সঙ্কটের মুখেও লকডাউনের পথে যেতে রাজি নয় ইমরান খানের সরকার। সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক ও অন্তর্দেশীয় উড়ান বন্ধ করা হয়েছে, তবে সামাজিক মেলামেশায় লাগাম পরানো হয়নি।

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.