সেচখালের বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে আলুতে পচন, অন্যদিকে জল না পেয়ে সঙ্কটে বর্ধমানের বোরোচাষিরা

তিনদিন আগে বোরোর জল সেচ খালের বাঁধ ভেঙে ঢুকে যায় আলু, সর্ষে ও পেঁয়াজের জমিতে। টানা দু'দিন ও দু'রাত আলু, সর্ষের জমি ছিল জলের তলায়। ফলে এখন পাকা আলু বা সর্ষে নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন এলাকার চাষিরা। অন্যদিকে বোরোধানের জমিতে জলের আকাল।

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: এক অংশে সেচখালের বাঁধ ভেঙে জল ঢুকছে হুহু করে। আলু ও সর্ষের জমি জলের তলায়। মাথায় হাত চাষিদের। অন্যদিকে এরজন্য জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বোরো চাষের জল পাচ্ছেন না আরেক অংশের চাষিরা। তাই সেচখালের বাঁধ মেরামতের দাবিতে সেচ দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন বর্ধমানের চাষিরা। বিক্ষোভে সামিল ছিলেন রাইপুর, ভিটা, শোনপুর- সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের চাষিরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে সেচখালের ভাঙা বাঁধ মেরামত করতে হবে।

সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই জেলার বিভিন্ন জায়গায় জমিতে বোরোধান রোয়ার কাজ শুরু হবে। এই সময়ে বীজতলায় জলের দরকার। কিন্তু বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের ভিটা শোনপুরে সেচ খালের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই ব্যহত হচ্ছে ধান রোয়ার কাজ।

জানুয়ারির শেষের দিকে বোরোচাষের জন্য ডিভিসির সেচখালগুলিতে জল দেওয়া শুরু হয়েছে জেলায়। এলাকার বাসিন্দা সুকুমার ঘোষ জানান, সেচখালের বাঁধ ভাঙা বা দুর্বলতার খোঁজ রাখেননি সেচ দফতরের কর্মীরা। তিনদিন আগে বোরোর জল সেচ খালের বাঁধ ভেঙে ঢুকে যায় আলু, সর্ষে ও পেঁয়াজের জমিতে। টানা দু’দিন ও দু’রাত আলু, সর্ষের জমি ছিল জলের তলায়। ফলে এখন পাকা আলু বা সর্ষে নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন এলাকার চাষিরা।

সেচখালের বাঁধ ভেঙে জল অন্যদিকে প্রবাহিত হওয়ায় বন্ধ করা হল জলের সরবরাহ। তাই বোরোধানের জমিতে জলের আকাল। চাষিরা বলেন, ‘‘সেচখালের ভাঙা বাঁধ মেরামত করে জল দেওয়া শুরু করতে হবে। না হলে আমাদের বীজতলার বীজ শুকিয়ে যাবে। দারুণ ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। ঋণ নিয়ে চাষ করেছি আমরা। এখন মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট হলে খাবই বা কী আর ঋণই বা শুধবো কেমন করে?’’

এই সমস্যা থেকে বাঁচতে মঙ্গলবার জেলা সেচ দফতরের অফিসের সামনে বাঁধ মেরামতের জন্য বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। স্মারকলিপিও দেন। এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, ‘‘চাষিদের সমস্যার কথা শুনেছি। অনেক জমিতে বাঁধ ভেঙে সেচের জল ঢুকে আলু ও সর্ষে চাষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা। আবার বোরোধানের জমিতে জল নেই। তবে সরকার চাষিদের পাশে আছে। বাঁধ মেরামতের জন্য সেচ দফতরের কর্মীরা ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.