৮৫ বছরের বৃদ্ধাকে বেধড়ক মারধরের প্রতিবাদে নিমতা থানা ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ বিজেপি মহিলা মোর্চার

বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তিনি বলেন, “এই ঘটনার নিন্দা করার ভাষা আমাদের নেই। জেলায় জেলায় তৃণমূলের সন্ত্রাস চলছে। আক্রান্ত হচ্ছেন আমাদের কার্যকর্তারা। আর এখানে আমাদের এক কার্যকর্তার মাকে বেধড়ক মারধর করেছে।"

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিমতায় বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ঢুকে তাঁর ৮৫ বছরের বৃদ্ধা মাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মেরে ওই বৃদ্ধার মুখ-চোখ ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় রাজ্যের শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। রবিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই আলোড়ন সৃষ্টি হয় গোটা রাজ্যে।

ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে নিমতা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপির মহিলা মোর্চার নেতা কর্মীরা। এই নিয়ে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তিনি বলেন, “এই ঘটনার নিন্দা করার ভাষা আমাদের নেই। জেলায় জেলায় তৃণমূলের সন্ত্রাস চলছে। আক্রান্ত হচ্ছেন আমাদের কার্যকর্তারা। আর এখানে আমাদের এক কার্যকর্তার মাকে বেধড়ক মারধর করেছে। পৈশাচিকভাবে মারা হয়েছে ওই বৃদ্ধাকে। কার্যকর্তাদের মারা হচ্ছে, ছাড় দেওয়া হচ্ছে না তাঁদের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বাবা-মাকেও। এ কোন বাংলায় বাস করছি আমরা?”

উত্তর দমদম বিধানসভার নিমতা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোপাল বসু রায়ের বাড়িতে শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। গোপালবাবু ওই ওয়ার্ডের ২ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি কর্মী। তাঁরও বয়স ৬২ বছরের আশপাশে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও আছে। গোপালবাবুর পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার সাত-আটজনের একটি দল চড়াও হয় বাড়িতে। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে তারা। প্রথমে হুমকি দেওয়া শুরু করে গোপালবাপুকে, তারপর আচমকাই এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করে। বন্দুকের বাট দিয়ে গোপালবাবুর মাথায়, সারা শরীরে আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। তাঁর ঘাড় ধরে টেনে এনে বেধড়ক মারধর শুরু হয়। ছেলেকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন বৃদ্ধা মা। নিস্তার পাননি তিনিও।

গোপালবাবুর মা রিনা দেবী বলেছেন, “আমার ছেলেকে ঘাড়ধাক্কা দিচ্ছিল। খুব মারছিল ওরা। আমি বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারে। মাথায় ও গলায় মারতে থাকে। আমার সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা।”

কারা সেদিন তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়েছিল তা বুঝে উঠতে পারেননি বৃদ্ধা মা। মারের চোটে সারা মুখে জমাট বেঁধে আছে রক্ত। বৃদ্ধা বলেছেন, মুখ খোলা বারণ। খুনের হুমকি দিয়ে গেছে দুষ্কৃতীরা। কাউকে কিছু বললে ফের বাড়িতে ঢুকে পড়তে পারে তারা।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও অবধি কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। গোটা ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র রথীন ঘোষ বলেন, “সবটাই পারিবারিক ঝামেলা থেকে হয়েছে। পাড়ার কোনও গণ্ডগোল থেকে এমন হয়েছে। থানায় যে অভিযোগ করা হয়েছে তার ভিত্তিতে তদন্ত হবে। প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পাবে। এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতি বা দলের কোনও সম্পর্ক নেই।”

ঘটনা নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, “ঘৃণ্য রাজনীতির খেলায় মত্ত বিজেপি। একজন শয্যাশায়ী বৃদ্ধাকেও রেয়াত করল না! নিমতার যে বৃদ্ধা পারিবারিক হিংসার শিকার।”

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.