লখিমপুরে কৃষক হত্যা ‘চরম নিন্দার’, এমন সব ঘটনার সমান প্রতিবাদ হোক: নির্মলা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন সফরে লখিমপুর খেরির (lakhimpur violence) কৃষক মৃত্যু (farmer death), হিংসা নিয়ে প্রশ্নের মুখে নির্মলা সীতারামন (nirmala sitharaman) জানিয়ে দিলেন, ওই ঘটনা চরম নিন্দাযোগ্য। হার্ভার্ড  কেনেডি স্কুলে এক আলাপচারিতায় লখিমপুরে চার কৃষকের মৃত্যু ও কৃষকদের গাড়িচাপা দেওয়ায় অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে  আশিস মিশ্রের গ্রেফতারি নিয়ে নির্মলাই প্রথম প্রকাশ্যে এতটা মুখ খুললেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখনও কেন এত বড় ঘটনার পরও চুপ, প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। কেন মোদী, সিনিয়র মন্ত্রীরা এখনও একটি কথাও বলেননি, কেউ এ ব্যাপারে প্রশ্ন তুললে কেন ‘কোণঠাসা প্রতিক্রিয়া’ আসছে, জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, না, একেবারেই নয়। আপনারা ওই একটি ঘটনাই বেছে নিয়েছেন, ভালই করেছেন। ঘটনাটি চরম নিন্দার (condemnable)। আমরা প্রত্যেকেই বলছি। আবার অন্যত্রও একই ধরনের দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে, যা আমার কাছে উদ্বেগের। ভারতে নানা প্রান্তে এধরনের ঘটনা সমানভাবে ঘটছে। আমি চাইব ডঃ অমর্ত্য সেন সহ আপনারা, আরও অনেকে যখনই এমন হবে, তখনই মুখ খুলবেন। বিজেপি যেখানে ক্ষমতায়, সেখানে লাভ হবে বলে তুলবেন, এটা যেন না হয়। আমার এক ক্যাবিনেট সহকর্মীর ছেলে বিপদে পড়েছে। ধরে নিচ্ছি, ওরাই, অন্য  কেউ নয়, ঘটনাটা  ঘটিয়েছে। কিন্তু বৈধ ন্যয় বিচার প্রক্রিয়ায়ও কিছু প্রমাণ করতে হলে তদন্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হতে দিতে হয়।

নির্মলা বলেন, আমার পার্টি বা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কােণঠাসা হওয়ার কোনও ব্যাপারই নেই। উদ্বেগ ভারতকে নিয়ে। আমি ভারতের কথা বলব। গরিবের ন্যায়ের কথা বলব। আমায় ঠাট্টা করলে হবে না। আর ঠাট্টা করলে বলতে হবে, সরি, আসুন তবে তথ্য নিয়ে কথা বলি। এটাই আমার উত্তর।

কৃষকদের চলতি প্রতিবাদ অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে নির্মলার দাবি, এক দশক ধরে নানা সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমেই সরকার তিনটি আইন এনেছে। ২০১৪ সালে বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্র, একাধিক রাজ্য সরকারও বিলগুলি নিয়ে আলোচনা করেছে। এক  দশক হয়ে গেল। প্রতিটি পক্ষের মতামত শোনা হয়েছে। লোকসভায় কৃষি বিল উঠলে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, কৃষিমন্ত্রী জবাব দিয়েছেন। শুধু রাজ্যসভাতেই ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে।

গত ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লির একাধিক সীমান্ত অবরোধ করে বসে আছেন পঞ্জাব, হরিয়ানা, আরও কিছু রাজ্যের কয়েক হাজার কৃষক। দাবি, সেপ্টেম্বরে গৃহীত তিনটি কৃষি আইন বাতিল হোক। আইনগুলি কৃষক-বিরোধী, কার্যকর হলে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ব্যবস্থা উঠে যাবে, তাঁরা বড় কর্পোরেটদের হাতের পুতুল হয়ে যাবেন। কিন্তু নির্মলার দাবি, সরকার আলোচনা চায়। কিন্তু কৃষকরা তিনটি আইনের যে কোনও একটির কোন বিশেষ দিকটির বিরোধী, বলুন। আজ পর্যন্ত এমন কোনও বিশেষ দিকের কথা শুনলাম না যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই, প্রতিবাদীরাই নিশ্চিত নন, ঠিক কীসের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More