মুকুল রায়ের বাড়িতে কৈলাস, নিশীথ, এখন তোয়াজ করতে ব্যস্ত দল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের লোকসভা ভোটের পর শহিদ মিনারে অমিত শাহর সভার কথা মনে পড়ে? সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ খোলাখুলিই বলেছিলেন, লোকসভা ভোটে বিজেপির ১৮টি আসনে জেতার অন্যতম কারিগর ছিলেন মুকুল রায়। অথচ সেই মুকুল রায়কেই একুশের ভোটে জায়গা দেয়নি রাজ্য বিজেপি। কেন্দ্রীয় বিজেপিও না। ভোটের কৌশল নির্ধারণে শিবপ্রকাশ, দিলীপ ঘোষরা যখন প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন, তখন সল্টলেকের বিডি ব্লকের গেস্ট হাউসে চুপচাপ বসে থাকতেন মুকুল রায়। তাঁর অনুগামীরা ভিড় করে থাকতেন ঠিকই। কিন্তু দলের উপরের সারির নেতারা আলোচনা, কৌশলের জন্য তাঁর বিশেষ ডাক খোঁজ করতেন না।

ভোটে বিপর্যয়ের পর সেই তিনি মুকুল রায়কে এখন কার্যত তোয়াজ করতে নেমে পড়েছেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিজেপির নেতারা। বাংলার ভোটে বিজেপি ধরাশায়ী হতেই রাজ্য রাজনীতিতে একটা জল্পনা ও কৌতূহল ছড়িয়ে পড়েছিল যে মুকুলবাবু কি ফের তৃণমূলে ফিরে যাবেন! কারণ, অনেকের ধারণা যে মুকুল বাবু বিজেপি ছাড়লে একা নিশ্চয়ই যাবেন না, সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন আরও অনেককে।

সার্বিক এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহ ও বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা মুকুল রায়কে ফোন করেছিলেন। আবার রবিবার সকাল থেকেই মুকুল রায়ের সল্টলেকের ভাড়া বাড়িতে পৌঁছে যান কৈলাস বিজয়বর্গীয়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, নিশীথ প্রামাণিক প্রমুখ। সোমবার বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক রয়েছে। যে বৈঠকে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে। সূত্রের খবর, কৈলাস মুকুলবাবুকে রীতিমতো কাকুতি মিনতি করে অনুরোধ করেন যাতে সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকেন মুকুল বাবু। রাজ্য রাজনীতির এই পোড় খাওয়া নেতা তাতে সম্মতি দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু সূত্রের দাবি, কৈলাসকে কথা শোনাতেও ছাড়েননি তিনি।

তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই ভোটের কৌশল নির্ধারণের মুখ্য ভূমিকা পালন করতেন মুকুল রায়। অনেকে বলতেন তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনিল বিশ্বাস। রাজ্যের প্রতিটি ব্লক এমনকি বহু বুথের সমীকরণ মুকুলবাবুর ঠোঁটস্খ। ব্লক ও বুথের নেতাদের নাম ধরে ধরে চেনেন মুকুল রায়। সেই মুকুলবাবুকে বিজেপি এ বার কৌশল নির্ধারণের দায়িত্ব না দিয়ে পাঠিয়ে দেয় কলকাতা থেকে দূরে কৃষ্ণনগরে। কৃষ্ণনগর উত্তরে প্রার্থী করা হয় তাঁকে। হয়তো সেই অভিমান ও অসন্তোষ থেকেই তার পর মুকুলবাবু প্রচারে পর্যন্ত কোনও কথা বলেননি। কোনও বক্তৃতা দেননি। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, তবে দাদা স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন, যে ভাবে ভোট লড়া হচ্ছে তাতে জেতা মুশকিল। বাংলায় বিজেপির পরাজয়ের জন্য দায়ী থাকবেন কয়েক জন নেতা।

মুকুলবাবুর ঘনিষ্ঠ সূত্রে আরও বলা হচ্ছে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হওয়ার ইচ্ছা হয়তো তাঁর নেই। কিন্তু রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে যে মর্যাদা ও ওজন ছিল তাঁর, তেমন কিছু অর্থবহ দায়িত্ব হয়তো পাওয়ার আগ্রহ রয়েছে তাঁর। নইলে শুধু বিধায়ক হওয়ার জন্য তো বিজেপিতে যোগ দেননি মুকুল রায়।

এবার লোকসভা ভোটের আগেই মুকুল রায়কে সর্বভারতীয় বিজেপির সহ সভাপতি করেছেন অমিত শাহরা। তাঁকে সাংগঠনিক ভাবে মর্যাদাও দিয়েছেন। তবে কোনও দলেই সহ সভাপতিদের বিশেষ কাজ থাকে না। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় বিজেপি মুকুল রায়কে যথাযোগ্য কোনও দায়িত্ব দেয় কিনা। বা দিলেও তা কবে দেয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More