গণধর্ষণ মামলায় আগাম জামিন পেলেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র (kailash bijoybargiya) বিরুদ্ধে গণধর্ষণ মামলায় আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন ও বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রর ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডের জামিনে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাময়িক স্বস্তি পেলেন তিনি।

আদালত জানিয়েছে, নিম্ন আদালতে বিচারকের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। হাইকোর্ট মনে করছে, নিম্ন আদালতের আরও নানা দিক খতিয়ে দেখা দরকার ছিল। সেই সঙ্গে, এই মামলা যেহেতু সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এবং তদন্ত যেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, তাই আবেদনকারীর রক্ষা কবচের দরকার। মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ অক্টোবর।

২০১৮ সালে বেহালার শরশুনা মহিলা পুলিশ স্টেশন এবং বোলপুর থানায় দায়ের হয়েছিল ধর্ষণের অভিযোগ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৪১৭, ৩৭৬ডি ও ৪০৬ ধারায় চার্জশিট দেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে ওই একই মহিলা ফের অভিযোগ করেন ভবানীপুরে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় নিজের বাড়িতে ফের তাঁকে গণধর্ষণ করেন।

নিয়মিত মাদক সেবন করতেন আরিয়ান, কোর্টে জানাল এনসিবি

এই মামলায় সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ফের মামলা দায়ের করা হয় উচ্চ আদালতে। আজ বিজয়বর্গীয়র পক্ষের আইনজীবী মহেশ জেঠমলানি হাইকোর্টে জানান, ২০২১ সালের ১ অক্টোবর বিচারপতি বিবেক চৌধুরী নির্দেশ দিয়েছিলেন নিম্ন আদালতে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করার। তদন্তে দেখা গেছে, ওই মহিলাকে যে গণধর্ষণ করা হয়েছে, তার কোনও মেডিকেল রিপোর্ট নেই। এ থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় এটা
সম্পূর্ণ রাজনীতি উদেশ্যপ্রণোদিত মামলা।

কৈলাশের সঙ্গেই অভিযুক্ত অপর দুজন, জিষ্ণু বসু ও প্রদীপ জোশির পক্ষের আইনজীবী পারমজিত সিং পাটয়ালিয়া আদালতে জানান, ঘটনার দু’বছর কেটে যাওয়ার পরে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মামলা।

রাজ্য সরকারের পক্ষে কৌঁসুলি আদালতে জানান, এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর, গণধর্ষণের মতো অভিযোগকে হাল্কাভাবে নেওয়া যায় না। ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য তদন্ত করছেন আধিকারিকরা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনও মামলা দায়ের হয়নি এক্ষেত্রে, নির্যাতিতা নিজে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাহলে কীভাবে এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হয়! ওই মহিলা গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন কিনা, তাঁর মেডিকেল রিপোর্ট জমা পড়েছে কিনা, সে সব যাচাই করতে দিতে হবে তদন্তকারী আধিকারিকদের।

বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন জানান, পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাবে এখন, কিন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন না পুলিশ।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More