নারীশক্তির জাগরণে কুচিনা ফাউন্ডেশনের নতুন উদ্যোগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো নারীশক্তিকে সম্মান জানাতে কুচিনা ফাউন্ডেশন সম্প্রতি লঞ্চ করল কৃত্তিকা সেন্টার ফর উয়োমেন এম্পাওয়ারমেন্ট। সম্প্রতি ১৪/এ লেক ভিউ রোড, লেক টেরাস, বালিগঞ্জ, কলকাতা ১৯- এই ঠিকানাতে কিছুদিন আগেই লঞ্চ হল কুচিনা ফাউন্ডেশনের কৃত্তিকা সেন্টার অফ উয়োমেন এম্পাওয়ারমেন্ট। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ৭০০ স্কোয়ার ফুট জায়গা জুড়ে এই বাড়িতে বিশেষ পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। যেখানে মহিলারা জুম মিটিং থেকে শুরু করে নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেন।২০১৪ কুচিনা ফাউন্ডেশনের পথ চলা শুরু। কুচিনা ফাউন্ডেশনের প্রাণপুরুষ ও চেয়ারপার্সন নমিত বাজোরিয়া, যিনি বিগত কয়েক বছর ধরে এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মহিলাদের অগ্রগতির উন্নতিকল্পে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমাজে বিভিন্ন শ্রেণীর মেয়েদের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করে চলেছেন। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফোনে একান্তে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানালেন নমিত বাজারিয়া। তিনি বললেন, ‘গত সাত বছর ধরে আমরা কুচিনা ফাউন্ডেশনের নানা অনুষ্ঠান হোটেলে আয়োজন করতাম। এবার থেকে নির্দিষ্ট কার্য্যালয় তৈরি হল। যেখানে আলোচনা থেকে শুরু করে কুচিনা ফাউন্ডেশনের নানা অনুষ্ঠান, সভা এবং গেটটুগেদার আয়োজিত হবে। সাধ আর সাধ্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক তো থাকেই। তবুও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতিতে আমরা সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করছি।’কলকাতা ছাড়াও দিল্লি, মুম্বই, বিহার, ঝাড়গ্রাম, ওড়িশা, ডিমাপুর, জয়পুর ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় মহিলাদের কাজের মাধ্যমে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে এই ফাউন্ডেশন উদ্যোগী হয়েছে। প্রথম একজন থেকে শুরু করে আজ কুড়িজন কুচিনা কৃত্তিকা আছেন যাঁরা ভারতবর্ষের নানা প্রান্তে মহিলাদের ক্ষমতায়নের লড়াইয়ের ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছেন। কৃতি কন্যার ক্ষেত্রে যেসব বাচ্চা মেয়েরা খেলাধুলোর সঙ্গে যুক্ত কিংবা খেলাধুলার প্রতি অনুরক্ত, অর্থ নেই কিন্তু প্রতিভা আছে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কুচিনা ফাউন্ডেশন।এছাড়া কোভিডের সময় যখনই কোনও মহিলা বা শিশু কন্যার খাবার বা অন্য কিছুর প্রয়োজন পড়েছে তখনই নিজেদের সাধ্যমতো কুচিনা ফাউন্ডেশন পাশে দাঁড়িয়েছে। এগিয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। আগে এই সংস্থার অনুষ্ঠানের জন্য কোনও নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। মহিলারা যাতে হাতের কাজের জিনিসপত্র তৈরি এবং বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন তার জন্য এখন থেকে এই ঠিকানায় প্রদর্শনী আয়োজিত হবে। এছাড়াও দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মহিলাদের হাতেকলমে কাজ শেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে।অনেক কর্পোরেট বা ব্যাবসায়ী আছেন যাঁরা সমাজের উন্নতিকল্পে অর্থলগ্নি করতে চান। অথচ সঠিক জায়গার সন্ধান পান না। তাঁরা ইচ্ছে করলে এই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। এক্ষেত্রে কুচিনা ফাউন্ডেশনের নির্দিষ্ট ঠিকানায় সরাসরি কথা বলার ব্যবস্থা আছে। যাতে যার টাকার দরকার তিনি অর্থ পাবেন এবং যিনি লগ্নি করতে চান তিনি ও সরাসরি টাকা সেই ব্যক্তির হাতে তুলে দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে আরও এনজিও যুক্ত হলে মহিলাদের সর্বক্ষেত্রে অগ্রগতি হওয়া সম্ভব। কুচিনা ফাউন্ডেশনের নতুন ঠিকানার উদ্বোধনে হাজির হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে নমিত বাজোরিয়ার এই প্রয়াস সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। মহিলাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও উজ্জীবিত করতে হবে। কুচিনা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও এনজিও যুক্ত হলে গঠনমূলক চিন্তাভাবনার আদান-প্রদান হবে।’মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানান যে এটি খুব ভালো প্লাটফর্ম। যত বেশি এনজিও এই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে অনেক বেশি ইতিবাচক ভাবনাচিন্তার বিনিময় হবে যা ভবিষ্যতের জন্য যথেষ্ট ফলপ্রসূ। নারীদের ক্ষমতায়ন, আর্থিক সমৃদ্ধি ও তাঁদের বাস্তব ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে কুচিনা ফাউন্ডেশন।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More